মাঝরাতে বাড়ির বাইরে অপরিচিতের জুতো দেখে বাড়ির লোকরা ভেবেছিলেন চোর এসেছে। কিন্তু কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে গিয়ে যে কেউটে বেরিয়ে আসবে, তা তাঁরাও ভাবতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত চোর ধরতে গিয়েই ধরা পড়ে গেল বাড়ির বউয়ের প্রেমিক। ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ চব্বিশ পরগণার সোনারপুর থানা এলাকার মালঞ্চতে। 

ধরা পড়ে যেতেই অবশ্য পরিবারের সদস্যদের উপরেই ওই গৃহবধূ এবং তাঁর প্রেমিক চড়াও হয়ে মারধর করেন বলে অভিযোগ। পরে পুলিশ গিয়ে দু' জনকেই গ্রেফতার করে। 

স্থানীয় সূত্রে খবর, সোনারপুর থানার অন্তর্গত মালঞ্চ এলাকার বাসিন্দা পেশায় এক অ্যাপ ক্যাব চালকের সঙ্গে মাত্র এক বছর আগেই প্রেম করে বিয়ে হয় মৌসুমী নামে ওই যুবতীর। তিনি পেশায় একজন টেলিকলার। অভিযোগ, বেশ কিছুদিন ধরেই স্বামীরই বন্ধু সুভাষ দাস নামে এক যুবকের সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন মৌসুমী। স্বামীর অনুপস্থিতিতে লুকিয়ে বাড়িতে প্রেমিককেও ডেকে নিতেন তিনি। সোমবারও স্বামী গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার পরে প্রেমিক সুভাষকে বাড়িতে ডাকেন তিনি। শেষ পর্যন্ত অবশ্য পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের কাছে হাতেনাতে ধরা পড়ে যান প্রেমিক-সহ ওই গৃহবধূ। 

ওই গৃহবধূর ভাসুরের দাবি, সোমবার গভীর রাতে বাথরুমে যাওয়ার জন্য ঘুম থেকে ওঠেন তিনি। তখনই বাড়ির বাইরে অচেনা একজোড়া জুতো দেখে সন্দেহ হয় তাঁর। বাড়িতে চোর ঢুকেছে ভেবে নিজের স্ত্রীকেও ডাকেন তিনি। এর পরে ডাকা হয় মৌসুমীকে। বেশ কিছুক্ষণ পর দরজা খুলে সবকিছু শুনে মৌসুমীও চোর খুঁজতে শুরু করেন। তখনই ঘরের মধ্যে অচেনা একটি মোবাইল এবং জল পড়ে থাকতে দেখে সন্দেহ হয় মৌসুমীর ভাসুর এবং জায়ের। সন্দেহবশত খাটের নীচে খুঁজতেই ধরা পড়ে যায় প্রেমিক সুভাষ। 

অভিযোগ ধরা পড়ে যেতেই নিজের জায়ের উপরে হামলা চালান মৌসুমী। তাঁকে সঙ্গে দেন তাঁর প্রেমিক। ওই গৃহবধূ এবং তাঁর প্রেমিকের নামে সোনারপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন তাঁর শাশুড়ি। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই মৌসুমী এবং তাঁর প্রেমিক সুভাষকে গ্রেফতার করে সোনারপুর থানার পুলিশ। মঙ্গলবার তাদের বারুইপুর আদালতে তোলা হলে জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক।