Humayun Kabir vs TMC: একটি 'স্টিং ভিডিও' ঘিরে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীরকে 'বিশ্বাসঘাতক' বলে আক্রমণ করেছেন তৃণমূল বিধায়ক অরিন্দম গুইন। তাঁর অভিযোগ, বিজেপির সঙ্গে হাত মিলিয়ে মুসলিম ভোট ভাগ করতে চাইছেন কবীর।
আম জনতা উন্নয়ন পার্টির (AJUP) প্রধান হুমায়ুন কবীরকে 'বিশ্বাসঘাতক' বলে দাগিয়ে দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক অরিন্দম গুইন। আসন্ন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভোটের আগে বিজেপির সঙ্গে হাত মিলিয়ে হুমায়ুন মুসলিম ভোট ভাগ করার চেষ্টা করছেন বলে শুক্রবার অভিযোগ করেন তিনি।
তৃণমূলের তোপ হুমায়ুনকে
অরিন্দম গুইন এএনআই-কে বলেন, "এই লোকগুলো আগে থেকেই জানত টাকা কোথা থেকে আসছে, কে দিচ্ছে। হুমায়ুন কবীরের মতলবটা সবাই জানত। ওদের কাজই হল বিজেপির সঙ্গে আঁতাত করে মুসলিম ভোট ভাগ করা। হুমায়ুন কবীরের চেয়ে বড় বিশ্বাসঘাতক আর কেউ নেই।" অরিন্দম গুইন চাপদানি বিধানসভা কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের টিকিটে লড়ছেন। পশ্চিমবঙ্গে দুই দফায় ভোট হবে আগামী ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল।
আসাদউদ্দিনকেও টার্গেট
আসাদউদ্দিন ওয়েইসির দল অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (AIMIM) হুমায়ুনের AJUP-এর সঙ্গে জোট ভেঙে দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তৃণমূল নেতা বলেন, আসাদউদ্দিন ওয়েইসি মুসলিমদের কোনও 'মসিহা' নন। গুইন বলেন, "উনি (ওয়েইসি) কোনও মসিহা নন। ঠিকঠাক আসন রফা করতে পারেননি, তাই জোট ছেড়ে দিয়েছেন।"
বাবরি মসজিদ কাণ্ড
বাবরি মসজিদের আদলে একটি মসজিদ তৈরির ঘোষণা করে বিতর্কে জড়ান হুমায়ুন কবীর। মুর্শিদাবাদে সেই মসজিদ তৈরির জন্য ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানও করেন তিনি। এই বিষয়টি তোলার জন্য তৃণমূল কংগ্রেস তাঁকে প্রথমে সাসপেন্ড ও পরে দল থেকে বহিষ্কার করে। এরপরই তিনি নিজের আঞ্চলিক দল তৈরি করেন।
ওয়েইসির ঘোষণা
এর আগে শুক্রবারই ওয়েইসির দল AIMIM হুমায়ুনের দলের সঙ্গে জোট তুলে নেওয়ার কথা ঘোষণা করে। তৃণমূলের পক্ষ থেকে এক্স-এ (পূর্বতন টুইটার) একটি "স্টিং ভিডিও" পোস্ট করার পরেই এই সিদ্ধান্ত নেয় AIMIM। ওই ভিডিওতে AJUP প্রধানকে বলতে শোনা যায় যে তিনি "১,০০০ কোটি টাকার" একটি ডিল করেছেন। AIMIM জানিয়েছে, এই ভিডিওটি "মুসলিমদের সততা" নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। যদিও হুমায়ুন কবীর এই সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, ভিডিওটি এআই (AI) দিয়ে তৈরি করা হয়েছে।
AIMIM ঘোষণা করেছে যে, "মুসলিমদের সততা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, এমন কোনও বিবৃতির সঙ্গে তারা যুক্ত থাকতে পারে না।" এর পাশাপাশি তারা অবিলম্বে জোট ভাঙার কথাও নিশ্চিত করেছে। এই সুযোগে AIMIM পশ্চিমবঙ্গে মুসলিমদের ক্রমাগত আর্থ-সামাজিক বঞ্চনার বিষয়টিও তুলে ধরে। দলের তরফে বলা হয়, তৃণমূল কংগ্রেস এবং পূর্ববর্তী সরকারগুলির মতো ধর্মনিরপেক্ষতার দাবিদার দলগুলির কয়েক দশকের শাসনেও এই সম্প্রদায় " অন্যতম দরিদ্র, অবহেলিত এবং নিপীড়িত" রয়ে গেছে।
AIMIM এক্স-এ পোস্ট করে জানায়, "হুমায়ুন কবীরের মন্তব্য চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে বাংলার মুসলিমরা কতটা অসহায়। মুসলিমদের সততা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, এমন কোনও বিবৃতির সঙ্গে AIMIM যুক্ত থাকতে পারে না। আজ থেকে AIMIM কবীরের দলের সঙ্গে জোট প্রত্যাহার করে নিচ্ছে। বাংলার মুসলিমরা অন্যতম দরিদ্র, অবহেলিত এবং নিপীড়িত সম্প্রদায়। দশকের পর দশক ধরে ধর্মনিরপেক্ষ শাসনের পরেও তাদের জন্য কিছুই করা হয়নি। যে কোনও রাজ্যে AIMIM-এর নির্বাচনে লড়ার নীতি হল যাতে প্রান্তিক সম্প্রদায়গুলির একটি স্বাধীন রাজনৈতিক কণ্ঠস্বর থাকে। আমরা বাংলার নির্বাচনে স্বাধীনভাবে লড়ব এবং ভবিষ্যতে কোনও দলের সঙ্গে জোট করব না।"


