রাতের অন্ধকারে কংগ্রেস নেতা ও প্রাক্তন কাউন্সিলর সন্ময় বন্দ্যোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করা নিয়ে জলঘোলা কম হয়নি। খড়দহ থানার আইসি অনিমেষ সিংহরায়কে সরিয়ে দিল প্রশাসন। হাওড়ায় বদলি করা দেওয়া হয়েছে তাঁকে। খড়দহ থানার নতুন আইসি হলেন সুজিত ভট্টাচার্য। তিনি বারাকপুর কমিশনারেটের গোয়েন্দা বিভাগের আইসি পদেই কর্মরত বলে জানা গিয়েছে। শুধু খড়দহ থানার আইসি-ই নন, সন্ময়কাণ্ডে  পুরুলিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার চন্দ্রশেখর বর্ধনও অপসারিত হয়েছেন বলে খবর। 

রাজ্যের কংগ্রেস নেতা সন্ময় বন্দ্যোপাধ্যায় পেশায় সাংবাদিক। দীর্ঘদিন চাকরি করেছেন প্রথমসারির এক বাংলা দৈনিকে। কংগ্রেসের টিকিটে কাউন্সিলরও নির্বাচিত হয়েছিলেন।  দিন কয়েক আগে ফেসবুকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে একটি খোলা চিঠি লেখেন সন্ময়। এরপর গত বৃহস্পতিবার রাতে সোদপুরে তাঁর এক পরিচিতের বাড়িতে হানা দেয় ব্যারাকপুর কমিশনারেটের পুলিশ। ওই কংগ্রসকে নেতা গ্রেফতার করে নিয়ে যাওয়া হয় পুরুলিয়া। পরিবারের লোকেদের অভিযোগ,  সরকারিভাবে তাঁদের গ্রেফতারির কথা জানায়নি পুলিশ। ফলে প্রথম সন্ময় বন্দ্যোপাধ্যায় কোথায় আছেন? তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়।  শেষপর্যন্ত রবিবার ওই কংগ্রেসকে নেতাকে পুরুলিয়া আদালতে পেশ করে পুলিশ। শর্তসাপেক্ষে জামিনও পেয়েছেন তিনি।

এদিকে কংগ্রেস নেতা সন্ময় বন্দ্যোপাধ্যায়কে গ্রেফতারের ঘটনায় শোরগোল পড়ে রাজ্যে।  খড়দহ থানার সামনে একযোগে বিক্ষোভ দেখায় কংগ্রেস ও সিপিএম। রাজ্যপালের কাছেও যান আব্দুল মান্নানরা।  জেলে পুলিশের বিরুদ্ধে সন্ময় বন্দ্যোপাধ্যায়কে উপর অত্যাচার করার অভিযোগ উঠে। বস্তুত, এই ঘটনা নিয়ে টুইটে নাম না করে রাজ্য সরকারের সমালোচনা করেছিলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়ও। সূত্রের খবর, পুলিশের বিরুদ্ধে  অভিযোগ জমা পড়ে নবান্নেও। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে খড়দহ থানার আইসি অপসারিত হতে হল বলে জানা গিয়েছে।