মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কনভয়ের পরে এবারে মদন মিত্রের মিছিল। মদনের রোড শো-তে উপস্থিত বলিউড অভিনেতা শক্তি কপূরের সামনেই জয় শ্রীরাম স্লোগান উঠল ভাটপাড়ার কাঁকিনাড়ায়। সঙ্গে উঠল মোদী, মোদী ধ্বনিও. মদনের অবশ্য অভিযোগ, গণ্ডগোল পাকানোর উদ্দেশ্য এই কাজ করেছে বিজেপি-ই।

এ দিন দুপুরে বলিউড অভিনেতা শক্তি কপূর এবং ভোজপুরী ছবির নায়িকা রানি চট্টোপাধ্যায়কে নিয়ে ভাটপাড়ায় প্রায় ছয় কিলোমিটার রাস্তা ধরে রোড শো করেন মদন মিত্র। ঘোষপাড়া রোড ধরে মিছিল যখন কাঁকিনাড়া বাজারের কাছে এসে পৌঁছয়, তখনই ঘটনার সূত্রপাত। রাস্তার পাশের জটলা থেকে জয় শ্রীরাম স্লোগান ছুড়ে দেওয়া হয় মদনের দিকে। সঙ্গে মদন মিত্রকে ধিক্কার জানিয়ে মোদী, মোদী আওয়াজও তোলা হয়। এই ঘটনায় স্বভাবতই অস্বস্তিতে পড়েন তৃণমূল প্রার্থী। কিছুটা দূরত্বের ব্যবধানে পর পর দু' বার এই ঘটনা ঘটে। যদিও পুলিশ বাহিনী পরিস্থিতি সামাল দেয়। 

 

 

এই ঘটনার পরেই ফেসবুক লাইভে এসে মদন দাবি করেন, সোহন নামে স্থানীয় এক দুষ্কৃতীকে দিয়ে এই কাজ করিয়েছেন অর্জুন সিংহই। মদন দাবি করেন, ব্যারাকপুর লোকসভা কেন্দ্রে দীনেশ ত্রিবেদীর কাছে অর্জুন আড়াই থেকে তিন লক্ষ ভোটে হারবেন। শুধু তাই নয়, ভাটপাড়ায় উপনির্বাচনে অর্জুন পুত্র পবন সিংহেরও জামানত বাজেয়াপ্ত হবে বলে দাবি করেন মদন।

ফেসবুক লাইভে মদন বলেন, "যারা জয় শ্রীরাম স্লোগান দিচ্ছিলেন তাঁদের সামনে দিয়ে লক্ষ লক্ষ মানুষ হই হই করে আমাদের সমর্থন করেছেন।" তৃণমূল প্রার্থীর আরও দাবি, গোটা ঘটনা অত্যন্ত বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে সামলেছেন শক্তি কপূর। মদনের কথা অনুযায়ী, যাঁরা স্লোগান দিচ্ছিলেন, তাঁদেরকেই উল্টে ইভিএম-এ মদনের তিন নম্বর বোতাম টেপার পরামর্শ দেন বলিউড অভিনেতা।

এ দিন অর্জুনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগও তুলেছেন মদন। ফেসবুক লাইভে তিনি বলেন, "এবারের অর্জুন সিংহের পরিবারতন্ত্র শেষ করার মোক্ষম সুযোগ। চাকরি দেওয়ার নাম করে বহু লোকের টাকা নিয়েছেন অর্জুন সিংহ। পুরসভার চাকরি, পুরসভার বাজারের দোকান পাইয়ে দেওয়ার নাম করে কোটি কোটি টাকা নিয়েছেন। যাঁদের টাকা অর্জুন সিংহ নিয়েছেন, তাঁরা আমার সঙ্গে আসুন। দরকার হলে সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে আপনাদের টাকা ফেরত দেব।"

জয় শ্রীরাম স্লোগান দেওয়ার সঙ্গে অবশ্য তাঁদের কোনও যোগ নেই বলে দাবি করেছে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব। তাঁদের দাবি, মদন মিত্রকে প্রার্থী হিসেবে মেনে নিতে না পেরেই বিক্ষোভ দেখিয়েছেন সাধারণ মানুষ। মদনের অবশ্য দাবি, বিক্ষোভকারীরা সংখ্যায় পনেরো জনের বেশি ছিলেন না।