মালদার কালিয়াচকের ঘটনায় ধৃতের সংখ্যা বেড়ে হল ৩৫। জানালেন এডিজি উত্তরবঙ্গ। ইতিমধ্য়েই অবরোধ-বিক্ষোভ এবং বিচারকদের আটকে রাখার ঘটনায় মূলচক্রী মোফাক্কেরুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শুক্রবার সকালে এমনটাই জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের তরফে বলা হয়েছে, পেশায় আইনজীবী মোফাক্কেরুল পালানোর চেষ্টা করছিলেন।

মালদার কালিয়াচকের ঘটনায় ধৃতের সংখ্যা বেড়ে হল ৩৫। জানালেন এডিজি উত্তরবঙ্গ। ইতিমধ্য়েই অবরোধ-বিক্ষোভ এবং বিচারকদের আটকে রাখার ঘটনায় মূলচক্রী মোফাক্কেরুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শুক্রবার সকালে এমনটাই জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের তরফে বলা হয়েছে, পেশায় আইনজীবী মোফাক্কেরুল পালানোর চেষ্টা করছিলেন। সেই সময় তাঁকে বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করা হয়। গতকালই গ্রেফতার করা হয়েছিল আইএসএফ প্রার্থী মৌলানা শাহজাহান আলি সহ ১৮ জনকে। বৃহস্পতিবার আদালতের নির্দেশ মতো মালদার ঘটনায় NIA তদন্ত শুরু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার এডিজি উত্তরবঙ্গ কে জয়রামন জানিয়েছেন, মালদার ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১৯টি মামলা দায়ের হয়েছে। গ্রেফতার হয়েছেন মোট ৩৫ জন। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, মোফাক্কেরুলকে মূল প্ররোচনাকারী হিসাবে গ্রেফতার হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে কালিয়াচক থানায় তিনটি মামলা দায়ের হয়েছে। জয়রামন আরও জানান, মোফাক্কেরুলকে খুঁজে বার করতে সিআইডি-র সাহায্য চাওয়া হয়েছিল। শুক্রবার শিলিগুড়ি পুলিশ মোফাক্কেরুলকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতার করে তাঁকে মালদায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

উত্তরবঙ্গের এডিজি কে জয়রমন জানান, মালদার ঘটনায় মানুষকে হিংসায় উস্কানি দেওয়ার অভিযোগে মোফাক্কেরুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই ঘটনার প্ল্যান আগে থেকেই করা হয়েছিল কি না,তার তদন্ত করা হবে। সব বিচারবিভাগের অফিসারদের CAPF নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে। পুলিশ জানতে পেরেছে মোফাক্কেরুল বেঙ্গালুরুতে পালানোর পরিকল্পনা করেছিলেন। ২০২১ সালে বিধানসভা ভোটের আগে তিনি আসাদউদ্দিন ওয়েইসির দল এমআইএম (মিম)-এ যোগ দেন। প্রার্থীও হন। গত বিধানসভা নির্বাচনে ইটাহারের এমআইএম প্রার্থী হিসাবে মাত্র ৮৩১টি ভোট পেয়েছিলেন মোফাক্কেরুল। এদিকে, গতকালের ধৃতদের মালদা জেলা আদালতে তোলা হলে আদালত ১০ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেয়।

বুধবার মালদার কালিয়াচক বিডিও অফিস প্রায় বিকেল সাড়ে তিনটে থেকে বিচারকদের ঘেরাও করে রাখা হয়। অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরে তাঁদের খাবার ও জল পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। রাত গভীর হওয়ার পর তাঁদের মুক্ত করা হলেও ফেরার পথে গাড়িতে হামলা চালানো হয়। এই ঘটনায় রাজ্যের প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে আদালত। বিশেষ করে মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব এবং ডিজিপি-র ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাঁদের জবাবদিহি চেয়েছে আদালত। আদালতের মতে, এই ঘটনা শুধুমাত্র আইনশৃঙ্খলার অবনতি নয়, বিচারব্যবস্থার উপর সরাসরি আঘাত। আদালত আরও জানিয়েছে, বিচারকরা আদালতের প্রতিনিধিত্ব করেই এই কাজ করছেন। তাঁদের উপর এই ধরনের আক্রমণ ‘আদালতের কর্তৃত্বকে চ্যালেঞ্জ’ করার শামিল।