মালদার কালিয়াচকের ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে মূলচক্রী মোফাক্কেরুল ইসলাম। পেশায় আইনজীবী মোফাক্কেরুল পালানোর চেষ্টা করছিলেন। সেই সময় তাঁকে বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করা হয়। এই ঘটনায় গ্রেফতারের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৩৫। বৃহস্পতিবার এডিজি উত্তরবঙ্গ কে জয়রামন জানিয়েছেন, মালদার ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১৯টি মামলা দায়ের হয়েছে।
মালদার কালিয়াচকের ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে মূলচক্রী মোফাক্কেরুল ইসলাম। পেশায় আইনজীবী মোফাক্কেরুল পালানোর চেষ্টা করছিলেন। সেই সময় তাঁকে বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করা হয়। এই ঘটনায় গ্রেফতারের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৩৫। বৃহস্পতিবার এডিজি উত্তরবঙ্গ কে জয়রামন জানিয়েছেন, মালদার ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১৯টি মামলা দায়ের হয়েছে। গ্রেফতার হয়েছেন মোট ৩৫ জন। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, মোফাক্কেরুলকে মূল প্ররোচনাকারী হিসাবে গ্রেফতার হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে কালিয়াচক থানায় তিনটি মামলা দায়ের হয়েছে। জয়রামন আরও জানান, মোফাক্কেরুলকে খুঁজে বার করতে সিআইডি-র সাহায্য চাওয়া হয়েছিল। শুক্রবার শিলিগুড়ি পুলিশ মোফাক্কেরুলকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতার করে তাঁকে মালদায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
কে এই মোফাক্কেরুল ইসলাম
ইটাহারের পোরসা হাটখোলার বাসিন্দা চল্লিশোর্ধ্ব মোফাক্কেরুল আদতে রায়গঞ্জ জেলা আদালতের আইনজীবী ছিলেন। পরে তিনি কলকাতা হাইকোর্টেও মামলা করতেন। কলকাতা হাইকোর্টের কাছেই তাঁর চেম্বার রয়েছে। স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে বর্তমানে কলকাতাতেই থাকেন। ইটাহারের বাড়িতে বাবা মোস্তাক হোসেন, মা ফতেমা বিবি ও এক ভাই থাকেন। অপর দুই ভাই ওই এলাকায় অন্য বাড়িতে থাকেন। বাবা মোস্তাক হোসেন কচুয়া এমটিবিকে হাই মাদ্রাসার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। ২০২১ সালে বিধানসভা ভোটের আগে তিনি আসাদউদ্দিন ওয়েইসির দল এমআইএম (মিম)-এ যোগ দেন। নির্বাচনে প্রার্থীও হন। তবে, মাত্র ৮৩১টি ভোট পেয়েছিলেন মোফাক্কেরুল।
মোফাক্কেরুল ইসলাম সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ জনপ্রিয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর লক্ষ লক্ষ ফলোয়ার রয়েছে। নানা ইস্যুতে তিনি ভিডিও পোস্ট করেন মতামত জানিয়েছেন। এছাড়াও অন্য রাজ্যেও মামলা করতে যান। বিভিন্ন ইস্যুতে প্রতিবাদ সভায় দেখা গিয়েছে অতীতে। নুপুর শর্মার কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য থেকে শুরু করে ওয়াকফ বিলের প্রতিবাদ। বিভিন্ন ইস্যুতে প্রতিবাদ সভায় অংশগ্রহণ করতেন মোফাক্কেরুল।
উত্তরবঙ্গের এডিজি কে জয়রমন জানান, মালদার ঘটনায় মানুষকে হিংসায় উস্কানি দেওয়ার অভিযোগে মোফাক্কেরুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই ঘটনার প্ল্যান আগে থেকেই করা হয়েছিল কি না,তার তদন্ত করা হবে। সব বিচারবিভাগের অফিসারদের CAPF নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে। পুলিশ জানতে পেরেছে মোফাক্কেরুল বেঙ্গালুরুতে পালানোর পরিকল্পনা করেছিলেন। ২০২১ সালে বিধানসভা ভোটের আগে তিনি আসাদউদ্দিন ওয়েইসির দল এমআইএম (মিম)-এ যোগ দেন। প্রার্থীও হন। গত বিধানসভা নির্বাচনে ইটাহারের এমআইএম প্রার্থী হিসাবে মাত্র ৮৩১টি ভোট পেয়েছিলেন মোফাক্কেরুল। এদিকে, গতকালের ধৃতদের মালদা জেলা আদালতে তোলা হলে আদালত ১০ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেয়।
বুধবার মালদার কালিয়াচক বিডিও অফিস প্রায় বিকেল সাড়ে তিনটে থেকে বিচারকদের ঘেরাও করে রাখা হয়। অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরে তাঁদের খাবার ও জল পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। রাত গভীর হওয়ার পর তাঁদের মুক্ত করা হলেও ফেরার পথে গাড়িতে হামলা চালানো হয়। এই ঘটনায় রাজ্যের প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে আদালত। বিশেষ করে মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব এবং ডিজিপি-র ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাঁদের জবাবদিহি চেয়েছে আদালত। আদালতের মতে, এই ঘটনা শুধুমাত্র আইনশৃঙ্খলার অবনতি নয়, বিচারব্যবস্থার উপর সরাসরি আঘাত। আদালত আরও জানিয়েছে, বিচারকরা আদালতের প্রতিনিধিত্ব করেই এই কাজ করছেন। তাঁদের উপর এই ধরনের আক্রমণ ‘আদালতের কর্তৃত্বকে চ্যালেঞ্জ’ করার শামিল।


