Food Safety Raid: খাবারের মান নিয়ে বড়সড় নজরদারি! দু’দিনে ১,৭৩০টি ফুড সেন্টার স্বাস্থ্য ভবনের আতশকাচের নীচে। বাসি ও মেয়াদোত্তীর্ণ খাবারের অভিযোগে একাধিক দোকানের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ।

পচা ও অস্বাস্থ্যকর খাবারের রমরমা গোটা রাজ্য জুড়ে। রাজ্যের বিভিন্ন রেস্তরাঁ, হোটেল ও অন্যান্য খাবারের দোকানে খাদ্য সুরক্ষা দফতরের অভিযান চলছে। ২ দিনের মধ্যে মোট ১৭৩০টি ফুড সেন্টার স্বাস্থ্য ভবনের আতশকাচের তলায় চলে এসেছে। বড় অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে ১৫২৫টিতে। তেমনই জানিয়েছেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বাত মুখোপাধ্যায়।

সবথেকে অনিয়ম কোথায়?

রাজ্যের খাবারের দোকানগুলির মধ্যে সবথেকে বেশি অনিয়ম হয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনায়। এই জেলার মধ্যে শীর্ষস্থানে রয়েছে ডায়মন্ড হারবার। বিভিন্ন জেলায় অনিয়ম ধরা পড়েছে। রেস্তোরাঁ, খাদ্য প্রতক্রিয়াকরণ কেন্দ্র, পানীয় জলের দোকানগুলির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করেছে সরকার। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জনগণ ও দোকানের মালিকদের সচেতনার ওপর জোর দিয়েছেন।

খাদ্য সুরক্ষা অভিযান

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, খাদ্য সুরক্ষা অভিয়ানের প্রথম দিনে ৯০৬ ও দ্বিতীয় দিনে ৮২৪টি ফুড সেন্টারে হানা দিয়েছেন আধিকারিকরা। ১৫১৯টি জায়গায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করে দিয়েছেন আধিকারিকরা। একই সঙ্গে দেওয়া হয়েছে সংশোধনের প্রস্তাবও। ১১টি দোকানে বিক্রি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। লাইসেন্স বাতিল করে দেওয়া হয়েছে ৫টি দোকানে। ১৩টি দোকান সিল করে দেওয়া হয়েছে। ১৭টির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করার প্রক্রিয়া চলছে। মাত্র ২ দিনেই ৯০১টি নমুনা সংগ্রহ করেছে স্বাস্থ্য দফতর।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখার্জির দাবি, জেনে বা অজান্তে খাবারে বিষাক্ত উপাদান মেশানোর মতো ঘটনা সামনে আসছে। গত দু’দিনে রাজ্যের একাধিক জেলার মোট ১,৭৩০টি ফুড সেন্টার স্বাস্থ্য ভবনের নজরদারির আওতায় এসেছে। এর মধ্যে দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ২১৫টি দোকানে অনিয়ম ধরা পড়েছে। শুধু ডায়মন্ড হারবারেই রয়েছে ১৫৩টি দোকান। এ ছাড়া উত্তর ২৪ পরগনায় ১২৮টি, পূর্ব বর্ধমানে ১২৯টি, কলকাতায় ৯৬টি, কোচবিহারে ৮৩টি, বসিরহাটে ৭৭টি, পশ্চিম বর্ধমানে ৬৫টি, নদিয়ায় ৬০টি এবং পশ্চিম মেদিনীপুরে ৫১টি দোকানে অনিয়মের অভিযোগ মিলেছে। কোন দোকানের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং তার কারণ কী, সেই তালিকাও প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

শারদ্বত জানান, মালদহের জ়াইকা রেস্তরাঁ এবং শ্রীকৃষ্ণ সুইট শপকে এর আগেও খাবারের মান নিয়ে সতর্ক করা হয়েছিল। সতর্কবার্তা উপেক্ষা করায় দু’টি দোকানই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামের স্টার মলের ‘রং দে বসন্তী’র লাইসেন্স সাসপেন্ড করা হয়েছে। আপাতত রেস্তরাঁটি বন্ধ রয়েছে। অভিযোগ, সেখানে বাসি মুরগির মাংস ও মাছ বিক্রি করা হচ্ছিল। রান্নায় ব্যবহৃত হচ্ছিল মেয়াদোত্তীর্ণ সামগ্রীও। এমনকি লাল লঙ্কার গুঁড়োয় ছত্রাক পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

কলকাতার সল্টলেকের আরডিবি মলের ‘অ্যাবসলিউট বারবিকিউ নেশন’-এর বিরুদ্ধেও অস্বাস্থ্যকর খাবার মজুতের অভিযোগ রয়েছে। পরিদর্শনে বাসি খাবার সংরক্ষণ এবং রান্নাঘরে পোকামাকড়ের উপস্থিতির প্রমাণ মিলেছে বলে দাবি। এদিকে সেক্টর ফাইভের নবদিগন্তে ‘কাঠি রোল’-এর বিক্রিও বন্ধ করে দিয়েছে সরকার। অভিযোগ, দোকানের ফ্রিজ অপরিষ্কার ছিল। সেখানে নষ্ট হয়ে যাওয়া মাংস, মাছ এবং কাঁচা ও রান্না করা খাবার একসঙ্গে সংরক্ষণ করা হচ্ছিল।