Naushad Siddiqui: নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী ১২ রাউন্ড গণনার পরে নওশাদ সিদ্দিকী ভাঙড় বিধানসভা কেন্দ্র থেকে ৯২৩৮৮টি ভোট পেয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শওকত মোল্লা পেয়েছেন ৬ হাজারের বেশি থেকে। ভাঙড়ে নওশাদ প্রায় ২৮ হাজার ভোটে এগিয়ে রয়েছেন। 

শেষ বেলায় ভাইজান ম্যাজিক। সকাল থেকেই বারবার তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী শওকত মোল্লার কাছে পিছিয়ে থেকেছেন। এগিয়েছেন খুব অল্প সময়ের জন্য। কিন্তু শেষ বেলায় এসে রীতিমত চমক দেখালেন নওশাদ সিদ্দিকী।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী ১২ রাউন্ড গণনার পরে নওশাদ সিদ্দিকী ভাঙড় বিধানসভা কেন্দ্র থেকে ৯২৩৮৮টি ভোট পেয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শওকত মোল্লা পেয়েছেন ৬ হাজারের বেশি থেকে। ভাঙড়ে নওশাদ প্রায় ২৮ হাজার ভোটে এগিয়ে রয়েছেন।

ভাঙড় নওশাদের

ভাঙড় বিধানসভা কেন্দ্রে গতবারও জয়ী হয়েছিলেন নওশাদ সিদ্দিকী। পশ্চিমবঙ্গের সবথেকে উত্তেজনাপ্রবণ ভোট কেন্দ্রগুলির একটি হল ভাঙড়। এই এলাকায় একটা সময় দাপিয়ে বেড়াতেন তৃণমূল কংগ্রেসের 'তাজা ছেলে' হিসেবে পরিচিত আরাবুল ইসলাম। ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার আগেই তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে ISF-এ যোগ দিয়েছিলেন। তাঁরে ক্যানিং পূর্বে প্রার্থী করা হয়। যদিও তিনি পিছিয়ে রয়েছেন তৃণমূলের প্রার্থীর তুলনায়।

ভাঙড় জয়ের পথে নওশাদ

ভাঙড় কেন্দ্রে নওশাদ সিদ্দিকীর জয় এখন শুধুমাত্র সময়ের অপেক্ষায়। ১২ রাউন্ডে এসে ২৮ হাজার ভোটে এগিয়ে থাকার অর্থ বাকি পাঁচ রাউন্ডে তৃণমূল প্রার্থী শওকত মোল্লার এগিয়ে থাকার সম্ভাবনা খুবই কম।

তৃণমূলের ভুল

নিজের চেনা গণ্ডীর বাইরে বেরিয়ে গতবারই ভাঙড়ে তৃণমূল কংগ্রেসকে হারিয়েছিলেন নওশাদ সিদ্দিকী। তারপর থেকেই ভাঙড়ে তাঁর আর আইএসএফ প্রার্থীদের ওপর বহুবার হামলা করেছে তৃণমূল। নওশাদের ওপর দলবদলের চাপও এসেছে বলে একাধিকবার জানিয়েছিলেন আইএসএফ নেতা। কিন্তু তারপরেও মাটি আঁকড়ে পড়েছিলেন নওশাদ। এবার জয়ের পথে দাঁড়িয়ে তারই মূল্য পাচ্ছেন।

অন্যদিকে শওকত মোল্লা পূর্ব ক্যানিং-এর বিধায়ক ছিলেন। তাঁকে তাঁর চেনা গণ্ডীর বাইরে এনে রীতিমত নওশাদের দিকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছিলেন মমতা-অভিষেক। কিন্তু শওকত মোল্লা প্রথম থেকেই জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী ছিলেন না। ভাঙড়ের প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণার পরেই অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। তাই ক্যানিং-এর ফরমুলা ভাঙড়ে কাজ না করায় দলের অন্দরেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

তৃণমূলের গোষ্ঠী দ্বন্দ্ব

অন্যদিকে ভাঙড়ে একটা সময় সিপিএম-এর সঙ্গে তৃণমূলের সংঘর্ষ লেগেই থাকত। পরবর্তীকালে এই এলাকা থেকে সিপিএম নিশ্চিহ্ন হওয়ার পরেই তৃণমূলের গোষ্ঠী দ্বন্দ্ব লেগেই থাকতো। সেখানে ভাঙড়ের ভূমিপুত্র আরাবুলের সঙ্গে শওকত মোল্লার ঝামেলা ছিল নিত্যদিনের ঘটনা। তাতেই ভাঙড়ে তলে তলে জমি হারাচ্ছিল তৃণমূল কংগ্রেস। তারই প্রতিচ্ছবি পড়েছে ভোট বাক্সে।