চোরবাগানের পদপিষ্ট কাণ্ডে মণ্ডপ নিয়ে ঘোষণাই কি বিপদ বাড়িয়েছিল? তদন্তে উঠে আসছে কোন কোন তথ্য, কীভাবে ভিড়ে ছড়াল আতঙ্ক? জেনে নিন সর্বশেষ আপডেট।
প্রথম থেকেই নজর কেড়েছিল চোরবাগানের দুর্গাপুজো। যত দিন যাচ্ছিল ভিড় ততই বাড়ছিল। কিন্তু প্রথম সপ্তমীর দিনেই ভয়ঙ্কর বিপর্যয় নেমে আসে চোরবাগানের পুজোয়। পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যু হয়। আহত হয় অনেকেই। এই ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশের হাতে এসেছে একাধিক তথ্য। যারমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হল মাইকে ঘোষণা। যাতে হুড়োহুড়ি আরও বেড়ে গিয়েছিল। প্রথম থেকেই ঘোষণা নিয়ে পুলিশের সন্দেহ ছিল। তদন্ত শুরু হতেই হাতে আসে একাধিক তথ্য। যার জেরে গ্রেফতার করা হয়েছে এক জনকে।
চোরবাগানে বিপর্যয়ের জন্য মাইকে ঘোষণাই দায়ী!
পুজো মণ্ডপে বৃষ্টির কারণে ভিড় বাড়ছিল। বৃষ্টার কারণে এক দল যখন বার হতে চাইছিল না তখন অন্য দল মণ্ডপে ঢোকার জন্য হুড়োহুড়ি শুরু করে দিয়েছিল। কিন্তু কী ঘোষণা করা হয়েছিল? পুলিশ সূত্রের খবর, 'মণ্ডপের একাংশ ভেঙে যাচ্ছে' মাইকে এই ঘোষণা করা হয়েছিল। তাতেই মণ্ডপের ভিরতে থাকা দর্শনার্থীদের মধ্য়ে হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। তাতেই পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনা ঘটে বলে অনুমান পুলিশের। পুলিশ সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার নদিয়া থেকে চোরবাগান পুজো কমিটির কোষাধ্যক্ষ সঞ্জীব রাহা ওরফে সেন্টুকে আটক করা হয়। এই বিপর্যয়েকর পর থেকেই তিনি পলাতক ছিলেন। তাঁর বাড়িতে গিয়ে খোঁজ খবর নেওয়া হলেও কোনও খবর পাওয়া যায়নি। সিসিটিভির ফুটেজ দেখেই পুলিশ সেন্টু ও অন্যএকজনকে সন্দেহ করেছিল। তারপর থেকেই সেন্টুর খোঁজ খবর শুরু হয়। শেষপর্যন্ত গোপন আস্তানাতে গা ঢাকা দিয়ে থাকলেও রেহাই পেল না সেন্টু। সেন্টুকে গ্রেফতার করে লালবাজারে নিয়ে আসা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রের খবর, পুজো মণ্ডপে যখন ভিড় বাড়ছিল সেই সময়ই পুজো কমিটির পক্ষ থেকে মণ্ডপ ভেঙে পড়ার বিষয় নিয়ে ঘোষণা করা হয়। যা মণ্ডপের ভিতরে থাকা দর্শনার্থীদের আতঙ্কিত করে তোলে। যাতে হুড়োহুড়ি শুরু হয়। পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয়। এখনও পর্যন্ত তেমনই অনুমান পুলিশের। পুজো উদ্যোক্তাদের অব্যবস্থার কথাও ফুটে উঠেছে তদন্তে।
চোরবাগানে তদন্তকারী দল
চোরবাগান সর্বজনীনের পুজো মণ্ডপে পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনার তদন্ত আগেই শুরু হয়েছে। এদিন, একাদশীর দিন ঘটনাস্থলে যায় কলকাতা পুলিশের তদন্তকারী দল সিট ও ফরেন্সিক বিভাগের কর্তারা। গোটা মণ্ডপ ও আশপাশের আশপাশের অংশের ছবি থ্রিডি ক্যামেরায় তুলে নেন তাঁরা। চোরবাগান পুজো মণ্ডপের নকশা কেমন ছিল, কীভাবে সাজানো হয়েছিল, প্রবেশ ও প্রস্থানের পথ কতটা চওড়া ছিল- এগুলিই খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। মণ্ডপের আশপাশের অংশ বিশেষও নজরে রয়েছে তদন্তকারীদের। চোরবাগান বিপর্যয়ে ৬ সদস্যের সিট গঠন করেছে কলকাতা পুলিশ। এই দল আগেও ঘুরে দেখেছিল ঘটনাস্থল। এদিনও এই দলটি চোরবাগান পুজো মণ্ডপে যায়। তারা ঘুরে দেখে গোটা এলাকা। কথা বলে স্থানীয়দের সঙ্গে।









