Durga Puja 2026: বাঙালির অন্যতম শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজো তথা শারদোৎসবে চোখধাঁধানো ভাবনায় তাক লাগাল যারা, তাদের কথা বলব আজ (Durga Puja 2026)। দুর্গাপুজোর মণ্ডপ যেন আক্ষরিক অর্থেই জানান দিল, শিল্পের অপরুপ সৃষ্টিকে।

Durga Puja 2026: বাঙালির অন্যতম শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজো তথা শারদোৎসবে চোখধাঁধানো ভাবনায় তাক লাগাল যারা, তাদের কথা বলব আজ (Durga Puja 2026)। দুর্গাপুজোর মণ্ডপ যেন আক্ষরিক অর্থেই জানান দিল, শিল্পের অপরুপ সৃষ্টিকে। অসাধারণ সব কাজ, শৈল্পিক দক্ষতা এবং দুর্দান্ত কিছু ভাবনার মিশেল দেখা গেল এবারের দুর্গাপুজোর বিভিন্ন মণ্ডপে (Best Durga Puja pandals in Kolkata 2026)।

প্রতাপাদিত্য রোড ত্রিকোণ পার্ক সার্বজনীন দুর্গোৎসব

অনেক বড় বড় থিমের মাঝেও লুকিয়ে থাকে দুর্দান্ত কিছু মন ছুঁয়ে যাওয়া থিম। যেখানে মিশে থাকে অসাধারণ কিছু ভাবনা। সেইরকমই এক অনবদ্য উৎকর্ষতার প্রমাণ দিল প্রতাপাদিত্য রোড ত্রিকোণ পার্ক সার্বজনীন দুর্গোৎসব। বাঙালির অন্যতম শ্রেষ্ঠ উৎসবে তাদের থিম ‘শারদনাট্যোৎসব'। অর্থাৎ, থিয়েটার মঞ্চের গল্প এবার দুর্গাপুজোর থিমে। গোটা প্যান্ডেলটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ নাট্যমঞ্চের আদলে সাজানো হয়েছে। দর্শনার্থীরা প্রবেশপথ দিয়ে সরাসরি মঞ্চের উপর এসে পৌঁছেছেন। এমন এক পরবেশ, যেখানে তারা শুধুমাত্র দর্শক নন। বরং, জীবনের এই নাট্যমঞ্চে সক্রিয় অংশগ্রহণকারী কিংবা প্রত্যেকে একেকটি চরিত্রে পরিণত হয়েছেন। সেইসঙ্গে, মূল মঞ্চে মহিমান্বিত ভঙ্গিতে আসীন থাকেন দেবী দুর্গা এবং তাঁর পরিবার। কার্যত, পুরো মণ্ডপ সেজে উঠল নাটকের স্ক্রিপ্ট, মঞ্চসজ্জা, লাইট, মাইক, বক্স, আয়না, সাইকেল, জানলা, মঞ্চে ওঠার সিঁড়ি এবং নানারকমের থিয়েটারমূলক ছবি দিয়ে। পাশাপাশি আবহতে নাটকের ডায়লগ।

সন্তোষপুর অ্যাভিনিউ সাউথ

এই বছর তাদের থিম ‘নির্মাণ'। শিল্পী সুশান্ত শিবানী পালের দক্ষতায় এত সুন্দর একটি ভাবনা ফুটে উঠেছে। এই থিমের মধ্য দিয়ে সংগঠকরা নির্মাণ, আশা, রূপান্তর, স্থাপত্য, প্রকৌশলগত উৎকর্ষ এবং জীবন ও সৃষ্টির নিরন্তর চক্রের মূল ভাবনার উপর আলোকপাত করতে চেয়েছেন। গোটা মণ্ডপের বিভিন্ন দিকে দেখা যাচ্ছে, বাড়ি তৈরির কাজ চলছে। ইট, বালি, চুন, সূরকি দিয়ে তৈরি হচ্ছে নতুন বাড়ি। আবার কোথাও ভাঙা হচ্ছে। লোহার রড এবং আলো। অর্থাৎ, জীবনের লড়াই থেমে নেই। এগিয়ে চলছে প্রতি মুহূর্তের নির্মাণ।

বোসপুকুর তালবাগান

এই বছরের দুর্গাপুজোতে এক অনন্য মাত্রা যোগ করল বোসপুকুর তালবাগান। বাঁশ, কাঠ এবং কাপড়ের ব্যবহার করে অনবদ্য এক উপস্থাপনা। সঙ্গে মানানসই আলো। সবথেকে বড় বিষয়, পুরনো দিনের রেডিও এবং গ্রামাফোনকেও তুলে ধরা রয়েছে এই পুজো মণ্ডপে। অর্থাৎ, দুর্গাপুজোতে মানুষকে আরও বেশি নষ্টালজিক করে তুলতে চেয়েছেন সংগঠকরা। বাস্তব অর্থেই একটি ‘এথনিক লেগ্যাসির' সন্ধান পেয়েছেন দর্শকরা। এছাড়াও প্যান্ডেলে নানান ধরনের ছবির ব্যবহার করা হয়েছে। দারুণভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে শিল্পের সৃষ্টিকে।

দমদম পার্ক যুবক বৃন্দ 

এই বছর তাদের থিম ‘কালান্তর'। এই শিল্পকর্মটির মধ্য দিয়ে মানবিক সংগ্রাম এবং সংকল্পের একটি দীর্ঘস্থায়ী যাত্রাকে তুলে ধরা হয়েছে। গোটা মণ্ডপে রয়েছে হাতে আঁকা ভিনটেজ পোস্টার, চারকোল দিয়ে তৈরি শিল্পকর্ম এবং অন্ধকারাচ্ছন্ন সিনেমাটিক একটি আলোকসজ্জা। সংগঠকরা এই উপস্থাপনার মাধ্যমে অদম্য সহনশীলতা এবং সেই সমস্ত ব্যক্তিত্বদের সম্মান জানিয়েছেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হিসেবে দশরথ মাঝির ছবি এবং পোস্টার রয়েছে প্যান্ডেলের একদম মাঝখানে। যিনি ‘মাউন্টেন ম্যান’ বা ‘পাহাড়ি মানুষ’ নামে পরিচিত। যা প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে মানুষের অজেয় ইচ্ছাশক্তিকেই উদ্‌যাপন করছে।

আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।