chorbagan sarbojanin: আজ চোরবাগান সর্বজনীনের প্রতিমা নিরঞ্জন। এদিকে তদন্তে এসি থেকে মাইকে ঘোষণা, আর তা নিয়েই উঠছে নানা প্রশ্ন। পুজো কমিটির ভূমিকা কী, কী জানা যাচ্ছে, পড়ুন বিস্তারিত।
সপ্তমীতে মহাবিপর্যয়ের পরে এপর্যন্ত অন্ধকারেই থেকে গিয়েছিল চোরবাগান সর্বজনীনের দুর্গা প্রতিমা। প্রতিমা দর্শন তো দূর্র কথা পুজোই অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে দেবী দুর্গার পুজো। সপ্তমীর দিন রাত থেকেই মণ্ডপ ছিল পুলিশের ঘেরাটোপে। একাধিকবার সরেজমিনে সবকিছু খতিয়ে দেখতে গিয়েছেন কলকাতা পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দলের সদস্য ও ফরেনসিক দলের কর্তারা। শেষপর্যন্ত পুলিশের অনুমতি নিয়ে আজ, শনিবার হবে প্রতিমা নিরঞ্জন। তবে পুলিশের কড়া নির্দেশ তদন্তের স্বার্থে মণ্ডপ হুবহু একই রাখতে হবে।
চোরবাগানে আজ প্রতিমা নিরঞ্জন
অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অনিন্দিতা রায় সরস্বতী বলেছিলেন, প্রতিমা নিরঞ্জনে কোনও আপত্তি নেই। তবে তদন্তের স্বার্থে মণ্ডপ হুবহু একই রাখতে হবে। তারপরই পুজো কমিটি আজ শনিবার প্রতিমা নিরঞ্জন করবেন তারা। তবে এখনই খোলা হবে না পুজোর মণ্ডপ। মণ্ডপের ঢোকা আর বেরোনোর পথে রাস্তা জুড়ে বসানো হয়েছিল স্টল। যার কারণে রাস্তা সরু হয়ে গিয়েছিল। এই স্টলের অনুমতি ছিল না। স্টলের জন্য যাওয়া আসার রাস্তা অনেকটাই সরু হয়ে গিয়েছিল। তার থেকেও বিপত্তি ঘটতে পারে।
তদন্তে উঠে আসে যেসব তথ্যঃ
১৩৪ টন এসি
চোরবাগানকাণ্ডের তদন্তে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের দাবি মণ্ডপ ফাঁকা থাকলে বা ভিড় নিয়ন্ত্রণে থাকলে ১৩৪ টন যথেষ্ট ছিল। তবে বিপুল পরিমাণে ভিড় হওয়ায় এসি বা ভেন্টিলেশনেপ ব্যবস্থা পর্যাপ্ত ছিল না তার ফলে দমবন্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়। মণ্ডপ থেকে একসঙ্গে বহু দর্শনার্থী তাড়াহুড়ো করে বেরনোর চেষ্টা করেন। তারপরই পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যুর মত বড় বিপর্যয় ঘটে যায়। সিটের প্রধান অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অনিন্দিতা রায় সরস্বতী বলেছেন, মণ্ডপে ঢোকা আর বার হওয়ার রাস্তা ছিল খুবই সরু। মণ্ডপের মধ্যে আলোর পরিমাণও যথেষ্ট কম ছিল। দুর্ঘটনার সময় এমার্জেন্সি এক্সিট দরজা বন্ধ ছিল। আর সেই কারণেই এই দুর্ঘটনা। পুলিশ ঠিকঠাক কাজ করেছে বলেও দাবি করেছেন তদন্তকারীরা।
মাইকে ঘোষণা
অন্যদিকে মাইকে ঘোষণা নিয়েও যে তত্ত্ব উঠছে তাতেও জট খুলতে শুরু করেছে বলেও পুলিশ সূত্রের খবর। তদন্তাকারী পুলিশ জানতে পেরেছে সপ্তমীর দিন দুর্ঘটনার রাতে 'মণ্ডপ ভেঙে পড়েছে ' বলে যে ঘোষণা করা হয়েছিল তার অভিযোগে ঘোষক হিসেবে আগেই গ্রেফতার করা হয়েছে সঞ্জীব রাহা নামের এক ব্যক্তিকে। শুক্রবার সকালে হেয়ারস্ট্রিট থাকায় গিয়ে ধরা দেন কুশল মজুমদার নামে আরও এক ব্যক্তি। তারপরই কুশলের ফেসবুক অ্য়াকাউন্টে বেশ কিছু পোস্ট নজর কাড়ে। সেখানে বলা হয়েছে, পুলিশের এক ব্যক্তির নির্দেশেই মণ্ডপ ভেঙে পড়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছিল।


