ঝাড়খণ্ডে বাংলার এক ফেরিওয়ালাকে পিটিয়ে মারার অভিযোগ ঘিরে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা। মৃতের নাম, আলাই শেখ (৩০)। তাঁর বাড়ি বেলডাঙার সুজাপুর কুমারপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়।

বেলডাঙার ঘটনা নিয়ে শান্তি বজার রাখার বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়। উত্তরবঙ্গ সফরে যাওয়ার আগে তিনি এনিয়ে কথা বলেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'বেলডাঙায় কাদের প্ররোচনা আছে আপনারা জানেন। আমি বলব শান্তি বজায় রাখুন। জুম্মাবারে জমায়েত হয়। চিরকালই হয়। আমাদের দুর্গাপুজো, শিবরাত্রিতেও জমায়েত হয়। আমি কি বারণ করতে পারি? ক্ষোভ সঙ্গত। আমি বলব, আমরা সর্বধর্ম সমন্বয়ে বিশ্বাসী। শান্তি বজায় রাখুন।'

ঝাড়খণ্ডে বাংলার এক ফেরিওয়ালাকে পিটিয়ে মারার অভিযোগ ঘিরে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা। মৃতের নাম, আলাই শেখ (৩০)। তাঁর বাড়ি বেলডাঙার সুজাপুর কুমারপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়। ঝাড়খণ্ডে ফেরিওয়ালার কাজ করতেন। বৃহস্পতিবার সকালে গ্রামে তাঁর মৃত্যুর খবর এসে পৌঁছোয়। ঘর থেকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয়। গ্রামবাসীদের দাবি, যুবককে পিটিয়ে খুন করার পর তাঁর দেহ ঘরে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। দোষীদের দ্রুত গ্রেফতারি ও শাস্তির দাবি চেয়ে পথে নেমেছেন তাঁরা। পরিবারের অভিযোগ, বাঙালি হওয়ার কারণেই যুবকের এই পরিণতি।

ফেরিওয়ালার দেহ গ্রামে ফিরতেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। জাতীয় সড়ক অবরোধ করেন গ্রামবাসীরা। অবরোধ করা হয় বেলডাঙা স্টেশনও। ঘটনাস্থলে রয়েছে বিশাল পুলিশবাহিনী। ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে ব্যাপক বিক্ষোভ দেখান স্থানীয়রা। ট্রাক এবং গাড়ি ভাঙচুর শুরু করেছে উত্তেজিত জনতা। পাশাপাশি রেল অবরোধ করেছে বাসিন্দারা। লালগোলা থেকে শিয়ালদা যাওয়ার ট্রেন আটকে রয়েছে। পাথর ছুড়ছে বিক্ষোভকারীরা। কলকাতা থেকে উত্তরবঙ্গ যাওয়ার প্রধান এই সড়কে গাড়ির যানজট শুরু হয়। রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে ব্যাপক বিক্ষোভ চলছে। প্রায় ৭ ঘণ্টা ধরে অবরুদ্ধ থাকার পরে অবরোধ উঠে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। জাতীয় সড়ক থেকে দেহ সরিয়ে নিয়েছে পুলিশ। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশ কথা বলে পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে।

গোটা ঘটনা নিয়ে রাজ্য প্রশাসনের দিকে আঙুল তোলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। উত্তরবঙ্গ যাওয়ার আগে বেলডাঙা নিয়ে মুখ খোলেন মমতা। তিনি বিজেপিকে আক্রমণ করেন। বলে, ডাবল ইঞ্জিনের সরকার যেখানে আছে, সেখানেই এই ধরনের ঘটনা ঘটছে। তবে তিনি শান্তি বজায় রাখার বার্তা দেন। মৃত পরিযায়ী শ্রমিকের পরিবারের পাশে থাকার বার্তাও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা। বিজেপি রাজ্যের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করছে বলে এ দিন অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, 'বিজেপি দাঙ্গা লাগানোর চেষ্টা করছে। বিজেপির প্ল্যান। নিজেরা ভোটে পারবে না, তাই ঘোঁট পাকাচ্ছে। পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর যে অত্যাচার হচ্ছে, আমরা সেটা মাথায় রেখেছি। এমনকী কেসও করেছি। আমরা পরিবারগুলোক সাহায্য করছি। আপনারা শান্ত থাকুন। ধৈর্য ধরুন। কোর্টে কেস আছে, কোর্টের উপর ভরসা রাখুন। আশা করছি বিচার পাওয়া যাবে। পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে পরিযায়ী শ্রমিককে। ন্যক্কারজনক ঘটনা। ডাবল ইঞ্জিন সরকারের রাজ্যে অত্যাচার করা হচ্ছে। আমরা বিষয়টি দেখছি। কোর্টে মামলা হয়েছে। আমি ওই সব পরিবারের পাশে আছি।'