ঝাড়খণ্ডে বাংলার এক ফেরিওয়ালাকে পিটিয়ে মারার অভিযোগ ঘিরে রণক্ষেত্র মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা। ফেরিওয়ালার দেহ গ্রামে ফিরতেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। জাতীয় সড়ক অবরোধ করেন গ্রামবাসীরা। অবরোধ করা হয়েছে বেলডাঙা স্টেশনও। ঘটনাস্থলে রয়েছে বিশাল পুলিশবাহিনী।
ঝাড়খণ্ডে বাংলার এক ফেরিওয়ালাকে পিটিয়ে মারার অভিযোগ ঘিরে রণক্ষেত্র মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা। ফেরিওয়ালার দেহ গ্রামে ফিরতেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। জাতীয় সড়ক অবরোধ করেন গ্রামবাসীরা। অবরোধ করা হয়েছে বেলডাঙা স্টেশনও। ঘটনাস্থলে রয়েছে বিশাল পুলিশবাহিনী। মৃতের নাম, আলাই শেখ (৩০)। তাঁর বাড়ি বেলডাঙার সুজাপুর কুমারপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়। ঝাড়খণ্ডে ফেরিওয়ালার কাজ করতেন। বৃহস্পতিবার সকালে গ্রামে তাঁর মৃত্যুর খবর এসে পৌঁছোয়। ঘর থেকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয়। গ্রামবাসীদের দাবি, যুবককে পিটিয়ে খুন করার পর তাঁর দেহ ঘরে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। দোষীদের দ্রুত গ্রেফতারি ও শাস্তির দাবি চেয়ে পথে নেমেছেন তাঁরা।
পরিবারের অভিযোগ, বাঙালি হওয়ার কারণেই যুবকের এই পরিণতি। প্রতিবাদে ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে ব্যাপক বিক্ষোভ দেখাচ্ছে স্থানীয়রা। কলকাতা থেকে উত্তরবঙ্গ যাওয়ার প্রধান এই সড়কে গাড়ির যানজট শুরু হয়েছে। টায়ার জ্বালিয়ে ব্যাপক বিক্ষোভ চলছে। প্রায় ৩ ঘণ্টা ধরে অবরুদ্ধ জাতীয় সড়ক। ট্রাক এবং গাড়ি ভাঙচুর শুরু করেছে উত্তেজিত জনতা। কয়েক’শো পণ্যবাহী ট্রাক ও বাস আটকে পড়েছে। পাশাপাশি রেল অবরোধ করেছে বাসিন্দারা। লালগোলা থেকে শিয়ালদা যাওয়ার ট্রেন আটকে রয়েছে। পাথর ছুড়ছে বিক্ষোভকারীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে।
তবে জাতীয় সড়ক থেকে দেহ সরিয়ে নিয়েছে পুলিশ। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশ কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে। বিক্ষোভকারীদের দাবি, নিহতের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী।
এই ঘটনায় রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেছেন, ‘গত পরশু থেকে ফারাক্কা থেকে চাকুলিয়া পর্যন্ত যে আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি দেখা যাচ্ছে, তা দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ছে। মুর্শিদাবাদ জেলার বেলডাঙায় জাতীয় সড়কটি প্রায় ৩ ঘণ্টা ধরে সমাজবিরোধীদের দ্বারা সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ রয়েছে। অবিরাম পাথর ছোড়া হচ্ছে। ট্রেনগুলো জোর করে থামিয়ে দেওয়া হয়েছে। এলাকাটি দুষ্কৃতী, গুন্ডা ও মাস্তানদের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এখনও পর্যন্ত পুলিশের কোনও পদক্ষেপের চিহ্ন নেই। হাজার হাজার যাত্রী আটকে পড়েছেন, যারা ভীতসন্ত্রস্ত এবং খাদ্য ও জল ছাড়াই রয়েছেন। কোনও পরিত্রাণের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। আমি পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের ভারপ্রাপ্ত ডিজিপি-কে বাহিনী মোতায়েন করে এলাকাটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি। বার্তাটি খুবই স্পষ্ট যে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে এবং সমাজবিরোধী ও দাঙ্গাবাজরা দখল নিচ্ছে, যাদের প্রতি শাসক তৃণমূল কংগ্রেস পার্টির সমর্থন রয়েছে, যাতে তারা স্বাভাবিক পরিস্থিতি ব্যাহত করার জন্য যখন যা খুশি করার অবাধ সুযোগ পায়।’


