- Home
- West Bengal
- Kolkata
- বকেয়া ডিএ কবে ঢুকবে অ্যাকাউন্টে? বড় আপডেটের ইঙ্গিত নবান্নের, চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে নজর কর্মীদের
বকেয়া ডিএ কবে ঢুকবে অ্যাকাউন্টে? বড় আপডেটের ইঙ্গিত নবান্নের, চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে নজর কর্মীদের
পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ মেটানো নিয়ে নবান্ন বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে সমস্ত বকেয়া মিটিয়ে দেওয়ার ঘোষণা করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ এবং নবান্নের নতুন গাইডলাইন সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পড়ুন এই প্রতিবেদন।

মার্চ মাসে তিনটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে ডিএ দেওয়ার কাজ শুরু করে অর্থ দফতর। পৃথক-পৃথকভাবে এই বিজ্ঞপ্তি জারি হয়। গত ২৩ মার্চের প্রকাশি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় যে, দুটি কিস্তি নয়, মার্চে একবারেই রাজ্য সরকার ডিএ-র অর্থ মিটিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
একে একে বকেয়া ডিএ-র টাকা দেওয়াও শুরু হয়। তবে, সেই সময় পঞ্চায়েত,পুরসভা ও সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত সংস্থার অনুদানপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীরা বকেয়া ডিএ পাননি। এবার তাঁরাই বকেয়া ডিএ পাবেন বলে জানা যাচ্ছে।
দীর্ঘ আইনি লড়াই এবং প্রশাসনিক টানাপোড়েনের পর পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকারি কর্মীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ (DA Arrears) মেটানো নিয়ে বড় ঘোষণা করল নবান্ন। অর্থ দপ্তরের সাম্প্রতিক আপডেট অনুযায়ী, আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে কর্মীদের সমস্ত বকেয়া ডিএ মিটিয়ে দেবে রাজ্য সরকার। সুপ্রিম কোর্টের কড়া অবস্থান এবং কর্মীদের লাগাতার আন্দোলনের চাপে এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
নবান্ন সূত্রে খবর, ২০১৬ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত সময়ের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা ইতিপূর্বেই ৩১ মার্চের মধ্যে মেটানো হয়েছে। যদিও প্রাথমিক বিজ্ঞপ্তিতে এই টাকা দুটি কিস্তিতে (মার্চ ও সেপ্টেম্বর ২০২৬) দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল, কিন্তু পরবর্তীকালে রাজ্য সরকার একবারে সব বকেয়া মিটিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
সুপ্রিম কোর্ট তার নির্দেশে স্পষ্ট জানিয়েছিল যে, ২০০৮ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বকেয়া ডিএ-র অন্তত ২৫ শতাংশ ২০২৬ সালের মার্চের মধ্যে মেটাতে হবে। শীর্ষ আদালত ডিএ-কে কর্মীদের 'আইনগত অধিকার' হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।
এই বকেয়া মেটানোর প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে নবান্ন একাধিক প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। প্রতিটি কর্মীর সার্ভিস রেকর্ড বা 'ই-সার্ভিস বুক' (e-Service Book) ডিজিটাল করার কাজ ২০ শে মার্চের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, যাতে পাওনা টাকার হিসাব নির্ভুলভাবে করা সম্ভব হয়।
এ ছাড়া, মৃত সরকারি কর্মী বা পেনশনভোগীদের বকেয়া টাকা যাতে তাঁদের মনোনীত উত্তরাধিকারীরা পান, তার জন্য ২৩ শে মার্চ একটি বিশেষ নির্দেশিকা জারি করেছে অর্থ দপ্তর। উত্তরাধিকারীদের এই পাওনা দাবি করার জন্য বিজ্ঞপ্তি জারির ১৮০ দিনের মধ্যে আবেদন জানাতে হবে।
উল্লেখ্য যে, ২০২৬ সালের রাজ্য বাজেটে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার সরকারি কর্মীদের জন্য আরও ৪ শতাংশ ডিএ বৃদ্ধির ঘোষণা করেছে, যার ফলে বর্তমানে ডিএ-র হার দাঁড়িয়েছে ২২ শতাংশে। যদিও কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের ডিএ-র হারের সাথে রাজ্যের এখনও একটি বড় ব্যবধান রয়ে গেছে, তবুও বকেয়া টাকা মেটানোর এই সময়সীমা কর্মীদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি এনেছে।
নবান্ন জানিয়েছে, পেনশনভোগীদের বকেয়া টাকা সরাসরি তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা করা হবে। এর জন্য ট্রেজারি এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলিকে দ্রুত হিসাব কষার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কর্মীদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে যে, তাঁরা যেন তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের কেওয়াইসি (KYC) এবং নমিনি সংক্রান্ত তথ্য সঠিকভাবে যাচাই করে নেন। ১৮০ দিনের এই সময়সীমার মধ্যে রাজ্য সরকার কীভাবে সম্পূর্ণ বকেয়া মেটানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে, এখন সেটাই দেখার।

