Durga Puja 2026: বদলের বাংলায় দুর্গাপুজোর প্রতিমা নিরঞ্জনের নিয়মেও বড় বদল। এবার থেকে আর ক্রেনের সাহায্যে নয়। ট্রলি করেই হবে দুর্গা প্রতিমা বিসর্জন। কী বলছে এই বিষয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী? বিস্তারিত জানতে পড়ুন সম্পূর্ণ প্রতিবেদন।।

Durga Puja 2026: পালাবদলের পর দুর্গাপুজোর বিসর্জন ব্যবস্থাতেও বড় বদল! মাকে সম্মানের সঙ্গে নিরঞ্জন। আর সেই লক্ষ্যেই এবার ক্রেনের বদলে ট্রলিতে হবে বড় প্রতিমার সাত পাক। ঘাটে আসতে শুরু করেছে সেই বিশেষ ট্রলি। নতুন ট্রলি ইতিমধ্যেই এসে পৌঁছতে শুরু করেছে কলকাতার অন্যতম প্রধান বিসর্জন ঘাট বাজে কদমতলায়।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশের পরই বিসর্জন ব্যবস্থায় এই নতুন পরিকল্পনা। কলকাতার দুই প্রধান বিসর্জন ঘাট—বাজে কদমতলা এবং নিমতলা। বড় প্রতিমা হাতে ধরে সাত পাক ঘোরানো কার্যত অসম্ভব। তাই এবার লরি, ট্রাক বা ট্রেলার থেকে প্রতিমা নামিয়ে বসানো হবে বিশেষ ট্রলির উপর। আর সেই ট্রলিতেই হবে সাত পাক। সাত পাক শেষ হলে ট্রলি সরাসরি চলে যাবে জলের কিনারা পর্যন্ত। তারপর দড়ির সাহায্যে প্রতিমার ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণ করে হবে নিরঞ্জন। অর্থাৎ, প্রতিমাকে ক্রেন দিয়ে টেনে বা ঝুলিয়ে নয়—

দুর্গাপুজোর বিসর্জনের নিয়মেও বদল:- 

পরিকল্পিতভাবে, নিয়ন্ত্রিতভাবে এবং সম্মানের সঙ্গে জলে বিসর্জনের ব্যবস্থা। পুরসভা সূত্রে খবর, বাজে কদমতলা এবং নিমতলা—দুই ঘাটেই নামানো হবে আটটি করে নতুন ব্রেক-যুক্ত ট্রলি। ট্রলি পরিচালনার জন্য দক্ষ পুরকর্মীর সংখ্যাও বাড়ানো হচ্ছে। কলকাতা পুরসভা এলাকায় মোট বিসর্জন ঘাট ২৪টি। তবে প্রতিবারই সবচেয়ে বেশি প্রতিমা নিরঞ্জন হয় এই দুই ঘাটে। তাই এবার নজরও সবচেয়ে বেশি এই দুই ঘাটে। পালাবদলের পর প্রথম দুর্গাপুজো ঘিরে এমনিতেই আগ্রহ তুঙ্গে। আর সেই আবহেই বিসর্জন ব্যবস্থায় এই নতুন পরিবর্তন।

মিলন মেলায় পুজো কমিটিগুলিকে নিয়ে বৈঠকে নিরাপত্তা, যান চলাচল, বিদ্যুৎ, দমকল থেকে বিসর্জনের সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তারই মধ্যে সামনে এল এই নতুন বিসর্জন পরিকল্পনা। তবে প্রতিমা জলে পড়ার পরের ব্যবস্থায় থাকছে পুরনো পদ্ধতিই। বিসর্জনের পর বাঁশের কাঠামো জল থেকে তুলতে ব্যবহার করা হবে ক্রেন। ঘাটে থাকবে JCB-ও। প্রায় ১০টি কাঠামো জমা হলেই সেগুলি পুরসভার সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্টের বড় গাড়িতে তুলে পাঠানো হবে ডাম্পিং গ্রাউন্ডে।

প্রসঙ্গত, গেরুয়া বঙ্গে প্রথম দুর্গাপুজো। দুর্গাপুজো নিয়ে এবার আগ্রহ নানা মহলেই বেশি এর আগেও মিলন মেলায় পুজো কমিটির সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠক হয়েছে। মিটিংয়ের মূল বিষয় ছিল এরকম: পুজোর অনুমতি, নিরাপত্তা, যানচলাচল, বিদ্যুৎ ও দমকলের ব্যবস্থা থেকে সার্বিক সমন্বয়। অগাস্টের মাঝামাঝি 'ফোরাম ফর দুর্গোৎসবে'র প্রতিনিধিরা নবান্নে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছিলেন।

ওই সময়ে তাঁরা বেশ কিছু বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তখনই 'ফোরাম ফর দুর্গোৎসব' সূত্রে খবর ছিল, কয়েকটি বড় পুজো কমিটি এবার সরকারি অনুদান নেওয়ার পরিবর্তে মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে অর্থ দেওয়ার কথা ভাবছে। এর ঠিক পরেই, এবারের পুজো নিয়ে ফের গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানিয়েছিলেন, প্রতিমা বিসর্জন নিয়ে কিছু জরুরি নির্দেশিকা। সেগুলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তারমধ্যে সবচেয়ে বড় কথা ছিল, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে বিসর্জনে নিষিদ্ধ হয় ক্রেন। ট্রলিতেই প্রতিমার সাত পাক দেখবে শহর-কলকাতা। এ বছরের দুর্গাপুজো নিয়ে পুরসভার প্রস্তুতি-বৈঠক থেকে উঠে এসেছে এইসমস্ত সিদ্ধান্ত।

আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।