আইপ্যাক-এর কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি আর অফিসে তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে কেন্দ্রীয় সংস্থা ইডি। মমতা কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি জারি করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ নস্যাৎ করা হয়।  

আইপ্যাক-এর কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি আর অফিসে তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে কেন্দ্রীয় সংস্থা ইডি। যা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় সরকারি কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন। তিনি অভিযোগ করেন কেন্দ্রীয় সরকার কেন্দ্রীয় সংস্থাকে দিয়ে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করছে। তিনি সরাসরি নিশানা করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে। কিন্তু মমতার এই বক্তব্যের পরই এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি জারি করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ নস্যাৎ করা হয়। কেন্দ্রীয় সংস্থার দাবি দুর্নীতির বিরুদ্ধেই এই অভিযান।

ইডির বিবৃতিঃ

ইডির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, 'এই তল্লাশি হাতে পাওয়া প্রমান্য নথির ওপর ভিত্তি করে। এটি কোনও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে করা হয়নি।' ইডির তরফ থেকে বলা হয়েছে, ইডি একই সঙ্গে দেশের ১০টি স্থানে তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে। যার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে ৬টি আর দিল্লির চারটি স্থান। মামলাটি অবৈধ কয়লা পাচারের সঙ্গে সম্পর্কিত। এই মামলায় নগদ অর্থ তৈরি, হাওয়ালা লেনদেন ইত্যাদির সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন প্রাঙ্গণে তল্লাশি চালান হচ্ছে। কোনও রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে তল্লাশি চালানো হয়নি। এই তল্লাশি কোনও নির্বাচনের সঙঅগে সম্পর্কিত নয়। এটি অর্থ পাচারের বিরুদ্ধে নিয়মিত একটি অভিযানের অংশ। তল্লিশিটি প্রতিষ্ঠিত আইনি সুরক্ষাবিধি কঠোরভাবে মেনেই করা হচ্ছে। ইডির বিবৃতিতে মুখ্যমন্ত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়কেও নিশানা করা হয়েছে। বলা হয়েছে, 'সাংবিধানিক পদাধিকারীসহ কিছু ব্যক্তি দুটি স্থানে এসে এসে তাঁদের পদের অপব্যবহার করে অবৈধভাবে প্রবেশ করেছেন ও নথি নিয়ে নিয়ে গেছেন।'

Scroll to load tweet…

কলকাতা হাইকোর্টে মামলাঃ

এখানেই শেষ নয়, ইডির পক্ষ থেকে কলকাতা হাইকোর্টেও মামলা করা হয়েছে। কাজে বাধা পাওয়ার অভিযোগ তুলে। বলা হয়েছে, কাজে বাধা দেওয়া হয়েছে। সাংবিধানিক পদাধিকারি একাধিক ব্যক্তি দুইটি স্থানে হাজির হয়েছেন। প্রয়োজনীয় নথি ছিনিয়ে নিয়ে গেছেন।

এদিন সকাল থেকেই ইডি আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈন আর অফিস সেক্টরফাইভের একটি বহুতলের ১১ তলায় তল্লাশি অভিযান চালান হয়। বিকেল ৩টে নাগাদ প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশি অভিযান শেষ হয়। ইডি এদিন লাউডন স্ট্রিট থেকে কোনও নথি বাজেয়াপ্ত করেনি। তাঁরা একটি পঞ্চনামা প্রতীক জৈনের পরিবারকে দিয়ে সই করিয়ে নিয়ে বেরিয়ে যায়। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইডির এক আধিকারিক জানিয়েছেন, তল্লাশি অভিযানে যেটি বাজেয়াপ্ত করার কথা ছিল সেটি এখন টিভিতে দেখা যাচ্ছে। অর্থাৎ ইডি আধিকারিক জানিয়েছেন, মমতা যে ফাইলপত্র নিয়ে বেরিয়ে আসেন তাই বাজেয়াপ্ত করতে এসেছিল ইডি।