Election Commission On WB Vote: ভোটের দিনক্ষণ যত এগিয়ে আসছে  ততই বাড়ছে শাসক-বিরোধী তরজা। এরই মধ্যে তিনদিনের সফরে রাজ্যে রয়েছেন জাতীয় নির্বাচনী আধিকারিক। সোমবারের বৈঠকে প্রশাসনকে তীব্র ভর্ৎসনা। বিস্তারিত জানতে পড়ুন সম্পূর্ণ প্রতিবেদন…

Election Commission On WB Vote: বাংলার 'SIR' নিয়ে অসন্তুষ্ট খোদ ভারতীয় নির্বাচন কমিশন। "আপনারা দক্ষ, বিচক্ষণ তাও কীভাবে কমিশনের গাইডলাইনস ফলো করতে ব্যর্থ হলেন আপনারা?'' সোমবার বৈঠকে জেলাশাসকদের ধমক জাতীয় নির্বাচন কমিশনারের। 

পশ্চিমবঙ্গে ভোট মানেই কি অশান্তি? এই প্রশ্নটাই এবার সরাসরি তুললেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। রাজ্যে পা রেখেই প্রশাসনিক ও পুলিশি কর্তাদের কড়া ভাষায় ভর্ৎসনা করলেন তিনি। স্পষ্ট বার্তা—অশান্তি বা গাফিলতি, কোনোটিই বরদাস্ত করবে না নির্বাচন কমিশন।

বাংলায় আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রশাসনিক তৎপরতা তুঙ্গে। কিন্তু সেই তৎপরতায় কি খামতি রয়ে গিয়েছে? সোমবার রাজ্যে এসেই জেলাশাসক, পুলিশ সুপার এবং উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। আর সেই বৈঠকেই যেন আগুনের গোলা বর্ষণ করলেন তিনি।

প্রথম দিনের বৈঠকে কী বললেন জ্ঞানেশ কুমার?

ভোট-হিংসা নিয়ে কড়া প্রশ্ন: সব রাজনৈতিক দল কমিশনের কাছে অভিযোগ জানিয়েছে। কমিশনের প্রশ্ন, "অন্য রাজ্যে এত হিংসা দেখা যায় না, বাংলাতেই কেন ভোটের সময় এত অশান্তি? এবার এসব চলবে না।"

দায়িত্বে অবহেলা নয়: জেলাশাসক হন বা পুলিশ কমিশনার—গাফিলতি দেখলে কাউকে রেয়াত করা হবে না। সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, "নির্বাচনের পর দোষী সাব্যস্ত হলে পদক্ষেপ অনিবার্য। কেউ পালাতে পারবেন না, 'He can't Escape'।"

গাইডলাইন মান্যতা: দায়িত্বশীল অফিসার হয়েও কমিশনের গাইডলাইন কেন মানা হয়নি, তা নিয়েও কড়া জবাবদিহি চেয়েছেন তিনি।

লক্ষ্যবস্তুতে ৭ জেলার ডিইও (DEO)

শুধু পুলিশ বা সাধারণ প্রশাসন নয়, এবার ৭ জেলার DEO-দের ওপর বিশেষ নজর কমিশনের। সূত্রের খবর, বিশেষ নিবিড় পরিমার্জন (Special Intensive Revision) পর্বে গাফিলতির দায়ে আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার, মালদা, মুর্শিদাবাদ, হুগলি, হাওড়া এবং পূর্ব বর্ধমানের ডিইও-দের তীব্র ভর্ৎসনা করা হয়েছে। কমিশনের সাফ কথা, ডিজিটাল ফুট-প্রিন্টের মাধ্যমে প্রত্যেকের কাজের হিসেব রাখা হচ্ছে। গাফিলতির দায় কমিশন নেবে না।

অন্যান্য বার্তা:

২৫ টি নোডাল এজেন্সিকে নির্বাচন সংক্রান্ত নির্দেশ কঠোরভাবে পালনের নির্দেশ।

 নির্বাচন পরবর্তী হিংসার অভিযোগ এলেও কড়া পদক্ষেপের বার্তা।

বাংলার SIR বা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন-এর কাজেও কমিশন অসন্তুষ্ট।

নির্বাচন কমিশনের এই কড়া বার্তার পর, প্রশাসনিক কর্তারা কতটা সতর্ক হন এবং এবারের ভোট কতটা শান্তিপূর্ণ হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।