বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই আইপ্যাকের দফতর ও প্রতীকের বাড়িতে তল্লাশি অভিযান চলছে। সূত্রের খবর, দিল্লিতে নথিভুক্ত একটি পুরনো কয়লাপাচার মামলার সূত্র ধরেই এই অভিযান।
আইপ্যাক-র কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশি ইডি-র। লাইডন স্ট্রিটের তল্লাশি চলছে। অবাক করে দিয়ে প্রতীকের বাড়িতে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর আগেই পৌঁছে যান কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ ভার্মা। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই আইপ্যাকের দফতর ও প্রতীকের বাড়িতে তল্লাশি অভিযান চলছে। সূত্রের খবর, দিল্লিতে নথিভুক্ত একটি পুরনো কয়লাপাচার মামলার সূত্র ধরেই এই অভিযান। আজ সকালে প্রথমে সল্টলেক সেক্টর ফাইভের আইপ্যাকে তল্লাশি চালাচ্ছিল। এর মধ্যেই কেন্দ্রীয় সংস্থার আরও একটি দল পৌঁছে যায় বেসরকারি ভোটকুশলী সংস্থা আইপ্য়াকের কর্নধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে। প্রতীক থাকেন ৭ লাউডন স্ট্রিটের আবাসনে। দুপুর ১২টা নাগাদ তল্লাশি চলার সময়ে হঠাৎই প্রতীকের বাড়িতে উপস্থিত হন মুখ্যমন্ত্রী। গোটা এলাকায় পুলিশে ছয়লাপ হয়ে যায়।
প্রায় ২০ মিনিট প্রতীক জৈনের বাড়িতে ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপর তিনি হাতে একটি ফাইল ও হার্ডডিস্ক নিয়ে বেরিয়ে আসেন। বেরোনোর সময় তিনি বলেন, 'এটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক। আমার পার্টির আইটি দফতরে ইডির তল্লাশি চালাচ্ছে। সেক্টর ফাইভের অফিসও চলছে। তারা পার্টির হার্ডডিস্ক,পার্টির প্রার্থী তালিকা, পার্টির পরিকল্পনা নিয়ে যেতে চাইছিল। এটা কি ইডি ও অমিত শাহের ডিউটি। ওই জঘন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তারা আমার পার্টির ডকুনেন্ট নিয়ে যেতে চাইছিল। তাদের কোনও গার্ডস নেই। আমি প্রতীককে ফোন করেছিলাম। ও আমার দলের ইনচার্জ। ওরা হার্ড ডিস্ক, ফোন সব নিয়ে নিচ্ছিল। এসআইর দিয়ে ভোটারদের নাম ডিলিট করছে, তালিকা থেকে বাদ দিচ্ছে। আমি সব নিয়ে এসেছি। প্রতীক জৈন পার্টির ইনচার্জ। আমি সেক্টর ফাইভেও যাব। আমি যদি বিজেপির পার্টি অফিসে তল্লাশি করতে যায় তাহলে কী হবে?'
প্রতীক জৈনের বাড়ি থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পৌঁছে যান সল্টলেকে আইপ্যাক-এর দফতরে। দুপুর সাড়ে ১২টার কিছু পরে সল্টলেক সেক্টর ফাইভের ওই দফতরে পৌঁছোন তিনি। সেখান থেকেও বেশ কিছু ফাইল নিয়ে মিনিট দশেকের মধ্যেই বেরিয়ে আসেনু এক নিরাপত্তারক্ষী। সেসব ফাইল মুখ্যমন্ত্রীর গাড়িতে রাখা হয়েছে।

পাল্টা বিজেপি নেতা ও বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, 'মমতার এই কাজ সাংবাদিধানিক সংস্থার কাজে বাধাদান। তিনি এই রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। ইডি নিশ্চয় তাদের ক্ষমতা বলে ব্যবস্থা নেবে, তা নেওয়া উচিত। এর আগেও সাংবিধানিক সংস্থার কাজে হস্তক্ষেপ করেছেন এবং তদন্তে বাধা দিয়েছেন। ২০২১ সালে তিনি ফিরহাদ হাকিম, সুব্রত মুখোপাধ্যায়, মদন মিত্রের গ্রেফতারির বিরুদ্ধে সিবিআইয়ের নিজাম প্যালেসের দফতরে ধর্না দিয়েছিলেন। এর আগে রাজীব কুমারের বাড়িতে যখন সিবিআই তল্লাশি চালিয়েছিল, তখনও তিনি পুলিশ কমিশনারকে নিয়ে ধর্না দিয়েছিলেন। আইপ্যাক একটা বেসরকারি সংস্থা, তারা তো কোনও পার্টি নয়। তাদের কাছে কেন তৃণমূলের নথিপত্র থাকবে। মুখ্যমন্ত্রী তো আমাদের বাড়িতে সিআইডি পাঠিয়েছিলেন। নন্দীগ্রামের এমএলএ অফিসে তল্লাশি চালিয়েছে সার্চ ওয়ারেন্ট ছাড়া। মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে তল্লাশি চালালে ১০০ কোটি টাকা বেরোবে।'


