আর জি কর কাণ্ডের বিচার চেয়ে গোটা দেশ এইমুহূর্তে উত্তাল। প্রতিবাদ চলছে সর্বত্র। বামেদের ছাত্র-যুব সংগঠনও লাগাতার এই আন্দোলনে শামিল হয়েছে। শুক্রবার, প্রেস ক্লাবে এক সাংবাদিক সম্মেলনে মুখোমুখি হন বাম নেত্রী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়।

আর জি কর কাণ্ডের বিচার চেয়ে গোটা দেশ এইমুহূর্তে উত্তাল। প্রতিবাদ চলছে সর্বত্র। বামেদের ছাত্র-যুব সংগঠনও লাগাতার এই আন্দোলনে শামিল হয়েছে। আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ এবং হাসপাতালের (RG Kar Medical College & Hospital) বাইরে তারা গণঅবস্থানেও বসে। এমনকি, ১৬ অগাস্ট রাতে মশাল মিছিলেরও ডাক দেয় বাম ছাত্র, যুব এবং মহিলারা।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

অন্যদিকে, সেই রাতেই আর জি করে (RG Kar) রাতের অন্ধকারে হামলার ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে ১৫ অগাস্ট ফের পথে নামেন তারা। আর শুক্রবার, প্রেস ক্লাবে এক সাংবাদিক সম্মেলনে মুখোমুখি হন বাম নেত্রী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়। সঙ্গে ছিলেন যুব নেতা ধ্রুবজ্যোতি সাহা, ছাত্রনেতা দেবাঞ্জন দে, মহিলা নেত্রী কনীনিকা বোস ঘোষ সহ আরও অনেকে।

এদিন মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় বলেন, “কেন দোষীদের আড়াল করার চেষ্টা করছে পুলিশ? কেন নির্যাতিতার পরিবারকে তিনঘণ্টা অপেক্ষা করতে হল মেয়েকে দেখার জন্য? আমরা জানতে চাই যে, কে ফোন করে পরিবারকে বলেছিলেন আত্মহত্যা করেছে আপনার মেয়ে। যারা এই জঘন্য কাজের সঙ্গে যুক্ত, সবার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”

বাম নেত্রীর কথায়, “দোষীদের শাস্তির দাবিতে এই লড়াই চলছে। এনাফ ইজ এনাফ। গোটা রাজ্য জুড়ে আন্দোলনে নেমেছেন ছাত্র-যুবরা। বিচার না পাওয়া পর্যন্ত এই লড়াই চলবে। আমরা দ্রুততার সঙ্গে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানাচ্ছি। মা-বোনেরা রাস্তায় আছে। পুলিশের কেন এত রাগ? আসলে আড়াল করার চেষ্টা চলছে অনেককিছু। দোষীদের শাস্তি চাওয়াকে ঝামেলা বলছেন আপনারা?”

আরও পড়ুনঃ 

তরুণী চিকিৎসক কি জেনে গেছিলেন গোপন কিছু বিষয়? ধর্ষণ এবং খুনের নেপথ্যে আসল কারণ কী?

তাঁর মতে, “যে এলাকায় ক্রাইম হল, সেই জায়গাটি ভেঙে দেওয়ার চক্রান্ত চলছিল। বর্ধমানে একজন মেয়ের গলা কাটা দেহ উদ্ধার হল। কী অবস্থা আমাদের রাজ্যের। নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে যা ঘটেছে সবাই দেখতে পাচ্ছে এবং বুঝতে পারছে। আর যারা সেই রাতে আর জি করে হামলার ঘটনায় যুক্ত, তারা সভ্য সমাজের কেউ হতে পারে না। তাদের প্রোটেকশন কে দিচ্ছে?”

মীনাক্ষী জানাচ্ছেন, “আমাদের পতাকা যখন আমরা কাঁধে নিই, তখন দায়িত্ব নিয়েই কাঁধে নিই। হাসপাতাল বাঁচাতে, মানুষকে বাঁচাতে কাঁধে নিই। আর এই নৃশংস ঘটনার দায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী নেবেন না কেন? রাজ্যের মায়েরা রাস্তায় নেমেছে, মশাল জ্বালিয়েছে। দরকার হলে আমরা আগুনও হতে পারি। প্রতিবাদের আগুনে দোষীদের শাস্তি চাই আমরা। কারণ, আর জি করে মাথাদের বাঁচাতে নাটক চলছে।”

এদিকে বাম নেত্রী সংবাদমাধ্যমকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “মিডিয়াকে ধন্যবাদ। আপনারা মহৎ কাজ করেছেন। গোটা রাজ্যের মানুষের মনে প্রতিবাদের আগুন জ্বালিয়েছেন।”

সেইসঙ্গে, তিনি এও বলে রেখেছেন যে, সিবিআই তদন্ত করুক। তবে তাদের নজর নিজাম প্যালেসের দিকেও থাকবে। তৃণমূল গুন্ডাগিরি করে দমিয়ে রাখতে পারবে না বলে দাবি করেছেন মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়।

YouTube video player

আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।