৪৯তম আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ ২২ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়ে আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে এবারের কলকাতা বইমেলা।

৪৯তম আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ ২২ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়ে আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে এবারের কলকাতা বইমেলা। এবার কলকাতা বইমেলার 'থিম-কান্ট্রি' আর্জেন্টিনা। বইমেলায় ১১০০টি স্টল থাকছে। বইমেলার উদ্বোধন করে বড় ঘোষণাও করেন মুখ্যমন্ত্রী। আগামী বছর কলকাতা বইমেলা পা দেবে ৫০ বছরে। সেই বিশেষ মুহূর্তকে স্মরণীয় করে রাখতে মেলা প্রাঙ্গণেই স্থায়ীভাবে গড়ে তোলা হবে ‘বইতীর্থ’। এর জন্য রাজ্য সরকার ১০ কোটি টাকা দেবে পাবলিসার্স অ্যান্ড বুক সেলার্স গিল্ডকে। আগামী বছর ৫০তম বইমেলার আগেই যাতে এই 'বইতীর্থ' তৈরি হয়ে যায়, তার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। বইমেলার পরিকাঠামো উন্নয়ন ও সারাবছর বই সংক্রান্ত চর্চার কেন্দ্র হিসেবেই এটি কাজ করবে।

এদিন, মুখ্যমন্ত্রীর ৯টি বই প্রকাশ পেয়েছে। সব মিলিয়ে তাঁর লেখা বইয়ের সংখ্যা দাঁড়াল ১৬২। বর্তমানে বই পড়া ও কেনা যে কমেছে তা নিয়ে খানিকটা উদ্বেগ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, 'এখন সবাই অবশ্য বই থেকে অনেকটা দূরে। তার কারণও আছে, আমরা এগিয়ে চলেছি। যুগের সঙ্গে খাপ খাইয়ে। এখন হাতে এসে গেছে স্মার্ট ফোন, হাতে এসে গিয়েছে কম্পিউটার। হাতে এসে গিয়েছে এআই। সব কিছু পেয়ে যাচ্ছে। বইয়ের দিকে ঝোঁকটা কি একটু কি কমে যাচ্ছে। যারা কিন্তু বইপ্রেমী তাঁরা কিন্তু কমছেন না। আমি অবশ্য লেখার টাইম পাই না। আমি ছোটখাটো লিখি। খুব অপ্রতুল। আমি জ্ঞানীগুণী মানুষ নেই। আমি কম গুরুত্বপূর্ণ মানুষ। যতটুকু টাইম পাই, ওই যখন জেলায় যাওয়ার সুযোগ হয়, বছরে তো ৯ মাস ওটা চলেই না। আমি কিন্তু সেই সময়টা বই লিখি। এবং প্লেনেও যদি আমি কোথাও যাত্রা করি। তখনও আমি বই লিখি। কম্পিউটারে টাইপ করতে আমার ভাল লাগে না। আমি হাতে লিখি, তা পরে বই হিসেবে প্রকাশিত হয়। হাতের লেখায় যে আনন্দ এবং সংযোগ আছে, তা কম্পিউটার বা ল্যাপটপে সম্ভব নয়। আমার জন্য হাতে লেখা বইই প্রিয়। তাই বই আমি হাতে লিখি, এই অভ্যাসটা যায়নি। হাতে লেখার মধ্যে স্বাচ্ছন্দ্য় আছে, কথা ফটাফট বেরিয়ে যায়। টাইপ করতে একটু সময় লাগে, ভাবতে হয়। হাতে লিখতে গেলে ভাবতে হয় না। অটোমেটিক পেন চলে যায়। হেলিকপ্টারে যেতে যেতে ২০২৬ সালের জন্য ২৬টি কবিতা লিখেছি।'

বক্তব্য় রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী আবারও জানান যে তিনি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মাইনে নেন না। তিনি বলেন, 'আমার একমাত্র ইনকাম বইয়ের রয়্যালটি। সাংসদ হিসেবে সাতবার জিতেছি, চাইলে মাসে দেড় লক্ষ টাকা পেনশন পেতে পারতাম। কিন্তু ১৫ বছর ধরে এক পয়সা নিইনি। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবেও সরকারের থেকে কোনও বেতন নিই না। সার্কিট হাউসে থাকলে আমি নিজের পকেট থেকে ভাড়া দিই। এমনকি নিজের চায়ের খরচও নিজে চালাই। যারা গালাগালি দেয়, তাদের মগজে মরুভূমি রয়েছে।'