ভবানীপুরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বুথে বুথে ঘুরে বেড়ানো নিয়ে প্রশ্ন তুললেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, BNSS-এর ১৬৩ ধারা চালু থাকা সত্ত্বেও মমতা বহু লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে ঘুরছেন। অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপির বিরুদ্ধে ভোট লুঠের চেষ্টার অভিযোগ করেছেন।
পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী প্রশ্ন তুলেছেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন এত লোকজন নিয়ে ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে ঘুরছেন। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু বলেন, "এখানে BNSS-এর ১৬৩ ধারা চালু আছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এত লোক নিয়ে ঘুরছেন। উনি এখানে কেন ঘুরছেন?" শুভেন্দু আরও বলেন, ভবানীপুর থেকে তিনি জিতছেনই এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই আসন থেকে "হেরে গেছেন"। তিনি আরও বলেন ভোট ভালো হচ্ছে। তবে মমতার উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, মমতা কাকে ভয় দেখাবে কাকে ভালোবাসবে - তা নিয়ে তিনি চিন্তিত নন।
ভবানীপুরের ১৫ বছর মমতা ক্ষমতায়
প্রসঙ্গত, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গত ১৫ বছর ধরে ভবানীপুর আসনের বিধায়ক। তবে এবার তাঁকে কড়া চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছেন বিজেপির শুভেন্দু অধিকারী। এর আগে ২০২১ সালের নির্বাচনে নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর কাছেই হেরেছিলেন মমতা। নন্দীগ্রামের ঘটনার পুর্নাবৃত্তি হয় না ভবানীপুরে মমতা জিতে যান সেই দিকেই তাকিয়ে আম জনতা।
মমতার অভিযোগ
এর আগে এদিনই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপির বিরুদ্ধে "জোর করে ভোটে কারচুপি" করার চেষ্টার অভিযোগ তোলেন। রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ চলছে। তিনি দলের কর্মীদের ওপর হিংসার অভিযোগও করেন। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, "দেখুন, রাতে আমাদের কর্মীকে কেমনভাবে মারা হয়েছে। এই অত্যাচারটা দেখুন। কী গুন্ডামি চলছে? এভাবে ভোট হয় না। ভোট শান্তিপূর্ণভাবে হয়। এটা গণতন্ত্রের উৎসব।" "কিন্তু ওরা সব নষ্ট করে দিয়েছে। ওদের উদ্দেশ্য পরিষ্কার, বিজেপি জোর করে ভোট লুঠ করতে চায়। আমাদের কর্মীরা এবং সাধারণ মানুষ মরতেও রাজি, কিন্তু জায়গা ছাড়বে না," বলেন তিনি।
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর দ্বিতীয় এবং শেষ দফার ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। তার আগে রাজ্যজুড়ে মক পোল অনুষ্ঠিত হয়। শেষ দফার ভোটের ব্যপ্তি বিশাল। রাজ্যের মোট ২৯৪টি আসনের মধ্যে ১৪২টি আসনে ভোট হচ্ছে। মোট ভোটার প্রায় ৩.২১ কোটি (পুরুষ: ১,৬৪,৩৫,৬২৭, মহিলা: ১,৫৭,৩৭,৪১৮ এবং তৃতীয় লিঙ্গ: ৭৯২)। ১,৪৪৮ জন প্রার্থী লড়ছেন, যার মধ্যে ২২০ জন মহিলা। মোট ৪১,০০১টি পোলিং স্টেশনের মধ্যে ৮,০০০-এর বেশি স্টেশন পুরোপুরি মহিলারাই পরিচালনা করছেন। দ্বিতীয় দফার এই ভোট রাজ্যের নির্বাচনী লড়াইয়ের গতিপথ ঠিক করে দেওয়ার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। কর্তৃপক্ষ শান্তিপূর্ণ ভোটের জন্য সবরকম ব্যবস্থা নিয়েছে। প্রথম দফায় রেকর্ড সংখ্যক ভোটের পর, পশ্চিমবঙ্গ আজ দ্বিতীয় ও শেষ দফার ভোটে প্রবেশ করেছে। এই পর্বকে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) জন্য "লিটমাস টেস্ট" হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ ভোট এখন দক্ষিণবঙ্গ এবং কলকাতার মতো দলের চিরাচরিত শক্ত ঘাঁটিগুলিতে হচ্ছে।


