প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর পর বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, তৃণমূলের দুর্নীতিগ্রস্ত নেতারা তাঁর পরিবারকে ভয় দেখাতে পারে। তিনি এই ঘটনায় মৃতের কল রেকর্ড খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন।
বীরভূমের দাপুটে নেতা তথা প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় এবার মুখ খুললেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। রবিবার তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, তৃণমূল কংগ্রেসের কিছু "দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তি" আশিসবাবুর পরিবারকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করতে পারে।
আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুতে শুভেন্দু অধিকারীর প্রতিক্রিয়া
প্রাক্তন ডেপুটি স্পিকার আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যু নিয়ে এক সাংবাদিক বৈঠকে শুভেন্দু জানান, তিনি মৃতের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং পুলিশকে সবরকম সাহায্য করতে অনুরোধ করেছেন। একইসঙ্গে এই ঘটনার তদন্তে কল রেকর্ড পরীক্ষারও দাবি তোলেন তিনি।
শুভেন্দু বলেন, "কিছুক্ষণ আগেই ওঁর পরিবারের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে... উনি একজন ভদ্র রাজনীতিবিদ ছিলেন... ওঁর কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক ওঁর সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করতেন। ওঁর গোটা পরিবার জানিয়েছে যে, স্থানীয় বিজেপি কর্মী ও পুলিশের সঙ্গে ওঁর ভালো সম্পর্ক ছিল। এটা একটা দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা। আমি ওঁর পরিবারকে পুলিশের সঙ্গে সহযোগিতা করতে বলেছি... তৃণমূলের কিছু দুর্নীতিগ্রস্ত লোক ওদের ভয় দেখানোর চেষ্টা করতে পারে। কল রেকর্ড পরীক্ষা করে দেখা উচিত।"
আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে শুভেন্দু বলেন, "ওঁর সঙ্গে আমার খুব ভালো সম্পর্ক ছিল। আমি যখন বিরোধী দলনেতা হলাম, উনি আমাকে মেসেজ করে দেখা করতে আসবেন বলেছিলেন।" শুভেন্দু আরও দাবি করেন, "মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পর একটি কমিটি তৈরি করেছিলেন, আর উনি (আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়) সঙ্গে সঙ্গে সেই কমিটি থেকে পদত্যাগ করেন।"
পরিবারের পাশে থাকার বার্তা
শুভেন্দু অধিকারী জানান, পুলিশ এই বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে এবং তিনি ব্যক্তিগতভাবে আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যাবেন। শুভেন্দু বলেন, "পুলিশ নিশ্চয়ই ব্যবস্থা নেবে... আমিও ওঁর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যাব, কারণ আমার সঙ্গে ওঁর পরিবারের খুব ভালো সম্পর্ক ছিল—আপনারা এটা যাচাই করে দেখতে পারেন।"
আশিস বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার
রবিবার বীরভূমের রামপুরহাটে নিজের পার্টি অফিস থেকে আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃতদেহ উদ্ধার হয়। পুলিশ জানিয়েছে, একটি সুইসাইড নোটও পাওয়া গেছে। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই পার্টি অফিসের বাইরে এবং রামপুরহাটে তাঁর বাড়ির সামনে তৃণমূল কর্মীরা ভিড় জমান। প্রসঙ্গত, বিধানসভা নির্বাচনে দলের হারের কয়েক সপ্তাহ পর, জুন মাসে তৃণমূলের বীরভূম জেলা কোর কমিটির চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়।
বন্দে মাতরম নিয়ে সোনিয়া গান্ধীকে নিশানা
এর পাশাপাশি, 'বন্দে মাতরম' বিতর্ক নিয়েও কংগ্রেসকে একহাত নেন শুভেন্দু। স্বাধীনতা দিবসে কংগ্রেসের সদর দফতরে 'বন্দে মাতরম' গাওয়ার সময় তাকে অপমান করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের পরিবার এই ঘটনায় কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী এবং মল্লিকার্জুন খাড়গের কাছে চিঠি লিখে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছে। শুভেন্দুর কথায়, 'বন্দে মাতরম' আমাদের "জাতীয়তাবাদ, দেশপ্রেম এবং ভারতের জাতীয় পরিচয়ের" সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত।
শুভেন্দু বলেন, "গতকাল স্বাধীনতা দিবস ছিল, আর কংগ্রেস পার্টি তাদের সদর দফতরে যেভাবে 'বন্দে মাতরম'কে অপমান করেছে, তা সামনে এসেছে। গতকালই বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের পরিবার সোনিয়া গান্ধী এবং মল্লিকার্জুন খাড়গেকে চিঠি লিখে আপত্তি জানিয়েছে এবং ক্ষমা চাওয়ার দাবি করেছে।"
বিরোধী দলনেতা আরও অভিযোগ করেন যে, সোনিয়া গান্ধী বা কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এখনও এই চিঠির কোনো উত্তর দেওয়া হয়নি। "এখনও পর্যন্ত সোনিয়া গান্ধী বা কংগ্রেস পার্টির তরফ থেকে এই চিঠি নিয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া বা ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি," বলেন তিনি।
এর আগে, স্বাধীনতা দিবসে নয়াদিল্লিতে কংগ্রেসের সদর দফতরে জাতীয় সঙ্গীত 'বন্দে মাতরম' গাওয়ার সময় বিতর্কের জেরে কর্ণাটকের উড়ওয়া থানায় কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধীর বিরুদ্ধে একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেন বিজেপি নেতারা।
বিতর্কের সূত্রপাত হয় যখন স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, 'বন্দে মাতরম' চলার সময় কংগ্রেসের শীর্ষ নেতারা নিজেদের মধ্যে কথা বলছেন। বিজেপি নেতাদের অভিযোগ, এই আচরণ জাতীয় সঙ্গীতের প্রতি অসম্মান।


