Suvendu Vs Firhad: তারাতলার নির্মীয়মাণ গুদাম ধসকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র চাপানউতোর। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এই ঘটনায় ফিরহাদ হাকিমকে নিশানা করে একাধিক অভিযোগ তুলেছেন।
শিবির বদল করেও শেষ রক্ষা হল না ফিরহাদ হাকিমের। তারাতলাকাণ্ডে তাঁর নাম জড়িয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তারাতলায় ভেঙে পড়া গুদামের নকশায় ত্রুটি রয়েছে বলে অভিযোগ। আর সেক্ষেত্র শুভেন্দু অধিকারী প্রাক্তন মেয়রকের সই তুলে ধরেছেন প্রকাশ্যে।

শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ: নথিতে ফিরহাদের নাম
বৃহস্পতিবার বিধানসভায় তারাতলা গুদামের নকশা-সংক্রান্ত নথি হাতে তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, ভেঙে পড়া গুদামের ত্রুটিপূর্ণ নকশায় স্বাক্ষর রয়েছে কলকাতার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের। গত ১৭ জানুয়ারি কলকাতা পুরসভা এই ছাড়পত্র দিয়েছিল বলে তিনি জানান।
মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, কাঠামোয় গলদ থাকা সত্ত্বেও কীভাবে এই ত্রুটিপূর্ণ নকশা অনুমোদন পেল? তাঁর কথায়, এই রকম আরও কত ঘটনা চাপা পড়ে আছে তার ইয়ত্তা নেই এবং সরকার সমস্ত তথ্য বের করে এনেছে, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
পাল্টা জবাব ফিরহাদের: সই মানেই দায় নয়
মুখ্যমন্ত্রী যখন বিধানসভায় এই অভিযোগ করছিলেন, সেই সময় ফিরহাদ হাকিম সভাকক্ষে ছিলেন না। পরে সাংবাদিকদের সামনে তিনি পুরো বিষয়টি থেকে নিজেকে দূরে রাখার চেষ্টা করেন।
ফিরহাদের বক্তব্য স্পষ্ট — পুরসভার নকশা অনুমোদনের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয় বিল্ডিং ডিপার্টমেন্ট ও মিউনিসিপ্যাল বিল্ডিং কমিটির মাধ্যমে। সেই কমিটিতে থাকেন প্রযুক্তিগত বিশেষজ্ঞরা। মেয়রের কাছে নথি আসে শুধুমাত্র চূড়ান্ত আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষরের জন্য — কোনটা আইনসম্মত, কোনটা নয়, সেই বিচার করার এক্তিয়ার তাঁর নেই বলে দাবি করেন তিনি। তারাতলার ওই গুদামের নকশার বিষয়ে তাঁর কিছুই জানা নেই বলেও জানিয়েছেন ফিরহাদ।
তারাতলাকাণ্ডে ধৃতদের তালিকা
লালবাজারে সাংবাদিক বৈঠকে কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারাতলার ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করাহয়েছে। মোট পাঁচ জনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে একজন আজগর হুসেনের দেহ ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বৃহস্পতিবার সকালেই। বাকি এফআইআর-এ নাম থাকা ৪ জনকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বাকিরা হল, অয়ন ট্রেডার্সের বিল্ডিং সুপারভাইজার মহম্মদ গুলজার। তার সংস্থা গুদামের ছাত তৈরির কাজে যুক্ত ছিল। বন্দরের ওই জমি যে লিজ নিয়েছিল সেই বেহরা ব্রাদার্সের মালিক শম্ভুনাথ বেহরাও ধৃত। পুলিশ গ্রেফতার করেছে লোহার কাঠামো প্রস্তুতকারক কমল সামন্ত, শ্রমিক সরবরাহকারী দিবারক ভাণ্ডারীকে। কলকাতা পুরসভার নকসা অনুমোদনের দালাল আব্দুল হামিকও পুলিশের জালে।


