কলকাতার তারাতলায় নির্মীয়মাণ গুদাম ভেঙে পড়ার ঘটনায় পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি তুললেন তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়। তাঁর মতে, এলাকার তৎকালীন বিধায়ক ফিরহাদ হাকিম ও কাউন্সিলর আনোয়ার খান এখন 'বিদ্রোহী গোষ্ঠীতে', তাই শুভেন্দু অধিকারীর উচিত তাঁদের জেরা করে দোষীদের খুঁজে বের করা।
কলকাতার তারাতলায় নির্মীয়মাণ গুদামের শেড ভেঙে পড়ার ঘটনায় পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানালেন তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) সাংসদ সৌগত রায়। বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, এলাকার তৎকালীন বিধায়ক ফিরহাদ হাকিম এবং কাউন্সিলর আনোয়ার খান এখন "বিদ্রোহী গোষ্ঠীতে" যোগ দিয়েছেন। তাই বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর উচিত তাঁদের জিজ্ঞাসা করা যে এই দুর্ঘটনার জন্য কে দায়ী।

বিদ্রোহী তৃণমূলীদের নিশানা সৌগতর
এএনআই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সৌগত রায় বলেন, "যখন কলকাতা কর্পোরেশন এলাকায় কোনও বাড়ি তৈরি হয়, তখন তার প্ল্যান অনুমোদন এবং নজরদারির দায়িত্ব কর্পোরেশনেরই থাকে... ওই এলাকার বিধায়ক ছিলেন ফিরহাদ হাকিম এবং কাউন্সিলর ছিলেন আনোয়ার খান, যাঁরা সম্প্রতি বিদ্রোহী গোষ্ঠীতে যোগ দিয়েছেন। শুভেন্দু অধিকারীর উচিত ওই লোকেদের জিজ্ঞাসা করা যে দোষটা কার ছিল। তবে আমি মনে করি, এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া উচিত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।"
বিজেপির অভিযোগের জবাব
এই দুর্ঘটনার জন্য বিজেপি নেতারা যখন তৎকালীন তৃণমূল সরকারকে দায়ী করছেন, সেই প্রসঙ্গে সৌগত রায় বলেন, "এখন তো আর তৃণমূল ক্ষমতায় নেই, বিজেপি আছে। তাই ওদেরই বিষয়টা দেখা উচিত।"
তারাতলায় নির্মীয়মাণ গোডাউন ভেঙে দুর্ঘটনা
প্রসঙ্গত, বুধবার তারাতলায় একটি নির্মীয়মাণ বহুতল গুদাম ভেঙে পড়ে। এই ঘটনায় ৮ জনের মৃত্যু হয় এবং আরও অনেকে আহত হন। এরপরই বড়সড় উদ্ধারকাজ শুরু হয়। বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তারাতলার ঘটনায় মৃত ৮ জনের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর দফতর (PMO) থেকে জানানো হয়েছে, দুর্ঘটনায় আহত ২০ জনকে ৫০,০০০ টাকা করে দেওয়া হবে। যদিও এদিন প্রশাসন সূত্রে জানান হয়েছে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১১। উদ্ধারকাজে সেনাবাহিনী ক্যামেরা ব্যবহার করছে। ধ্বংসস্তূপের মধ্যে এখনও কেউ আটকে রয়েছে কিনা তা দেখতে ভিতরে পাঠানো হয়েছে সেনা বাহিনীর ক্যামেরা।
এদিকে, এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে—বিল্ডিং সুপারভাইজার সৈয়দ মহম্মদ গুলজার এবং দুই লেবার সাপ্লায়ার মহম্মদ আতাউল ও সুভাষ চৌধুরী। পশ্চিমবঙ্গ সরকার এই মামলার তদন্তের জন্য অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার অফ পুলিশ জয়সূর্য মুখোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করেছে। পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ অভিযোগ করেছেন যে এই দুর্ঘটনার পিছনে "বড় রাজনৈতিক নাম" থাকতে পারে। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, "দুর্নীতির তদন্ত হবে এবং দোষীরা শাস্তি পাবে। আমাদের সরকার এই কাজ শুরু করেছে, কাউকে ছাড়া হবে না। শুধু চারজন নয়, এই ঘটনার সঙ্গে আরও বড় রাজনৈতিক নাম যুক্ত থাকতে পারে। সবকিছুই সামনে আসবে।" পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্যমন্ত্রী সারস্বত মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, দুর্ঘটনাস্থলে কর্মরত শ্রমিকদের ৯০-৯৫ শতাংশই বিহারের বাসিন্দা এবং তাঁরা মাত্র দুই-তিন দিন আগেই কলকাতায় এসেছিলেন। এর আগে শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, অনুমোদিত নির্মাণ পরিকল্পনায় অনিয়ম ছিল। তিনি বলেছিলেন, "প্রকল্পটির প্ল্যান অনুমোদন করা হয়েছিল ১৭ জানুয়ারি, ২০২৬-এ। জমির মালিক SMPA এবং জমিটি শম্ভুনাথ বেহেরা ও তাঁর পার্টনারদের নামে লিজ নেওয়া। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, গোড়াতেই একটি ভুল প্ল্যান অনুমোদন করা হয়েছিল।"


