- Home
- West Bengal
- Kolkata
- ভুয়ো চিকিৎসক-রোগী, অস্তিত্বহীন নার্সিংহোম! Swasthya Sathi-তে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি ফাঁস
ভুয়ো চিকিৎসক-রোগী, অস্তিত্বহীন নার্সিংহোম! Swasthya Sathi-তে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি ফাঁস
Swasthya Sathi Scam: স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ! অস্তিত্বহীন নার্সিংহোমে অপারেশন, ভুয়ো চিকিৎসক ও রোগীর নামে বিল তৈরির অভিযোগ ঘিরে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। সামনে এল কী চাঞ্চল্যকর তথ্য?

স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে পাহাড়প্রমাণ দুর্নীতির অভিযোগ
ছুরি-কাঁচি না ছুঁইয়েই অস্ত্রোপচার! ভুয়ো বিল দেখিয়ে স্বাস্থ্যসাথীর কয়েক হাজার কোটি টাকা তছরুপের অভিযোগ উঠেছে। স্বাস্থ্যভবন সূত্রের খবর অনুযায়ী, প্রকল্পে বাসা বেঁধেছিল অসংখ্য "ভুয়ো"। প্রায় ৩০ কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে বলে দাবি স্বাস্থ্য দফতরের। এই ঘটনায় বর্তমান সরকারের নিশানায় পূর্বতন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েরক সরকার।

২৫-৩০ লক্ষ ভুয়ো কার্ডের হদিশ
রাজ্যে ২৫ থেকে ৩০ লক্ষ ভুয়ো স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের খোঁজ মিলেছে বলে জানা গিয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ের দাবি, এটা "হিমশৈলের চূড়া মাত্র"। তাঁর কথায়, সবে ওপেনিং ব্যাটসম্যান নেমেছে, পুরো ইনিংস এখনও বাকি।
ভুয়ো রোগী, ভুয়ো নার্সিংহোম, ভুয়ো চিকিৎসক
স্বাস্থ্যভবন সূত্রে খবর, যে রোগীর নামে বিল হয়েছে তিনি ভর্তিই হননি, কোথাও আবার নার্সিংহোমটিরই অস্তিত্ব নেই। অভিযোগ, কোথাও রোগ দেখানো হয়েছে একটি, বিল করা হয়েছে অন্য রোগের নামে। ভুয়ো নার্সিংহোমের বিলে সই করেছেন ভুয়ো চিকিৎসক, এমন অভিযোগও উঠেছে।
টিপিএ-র বিরুদ্ধে হুমকি দিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগ
স্বাস্থ্যবিমায় বিমা সংস্থা ও গ্রাহকের মাঝে থাকে থার্ড পার্টি অ্যাডমিনিস্ট্রেটর (টিপিএ), যারা ক্লেম প্রক্রিয়া সামলায়। অভিযোগ, স্বাস্থ্যসাথীর ক্ষেত্রে এই টিপিএ-ই নার্সিংহোমগুলিকে হুমকি দিয়ে পেমেন্টের দুই থেকে দশ শতাংশ আদায় করত। টাকা না দিলে আটকে দেওয়া হত পেমেন্ট।
৪০ হাজারের প্যাকেজ হয়ে যেত ২ লক্ষ
অভিযোগ, প্রতিটি নার্সিংহোমে অস্ত্রোপচারের আলাদা প্যাকেজ ছিল। সেখানেই চলত আসল খেলা। নার্সিংহোমের তরফে প্যাকেজের রেট বাড়িয়ে আবেদন করা হত, ৪০ হাজার টাকার অস্ত্রোপচার হয়ে যেত ২ লক্ষ টাকা। অনুমোদন দিতেন স্বাস্থ্যদপ্তরের এক কর্তা, বদলে নাকি তিনিও টাকার ভাগ পেতেন।
মেডিসিনে ভর্তি রোগীর নামে অস্ত্রোপচার
অভিযোগ, স্বাস্থ্যসাথীতে যে প্যাকেজ নেই, এমন চিকিৎসাও হয়েছে কিছু নার্সিংহোমে। মেডিসিন বিভাগে ভর্তি রোগীর অস্ত্রোপচার দেখিয়েও টাকা তোলা হয়েছে বলে অভিযোগ। এই চক্রে স্বাস্থ্যদপ্তরের কিছু আধিকারিকও যুক্ত বলে দাবি।
পরিবারের বাকি সদস্যদের কার্ডও ব্লক!
অ্যাসোসিয়েশন অফ প্রাইভেট হসপিটাল অ্যান্ড নার্সিংহোমের পক্ষ থেকে ডা. রাজীব পাণ্ডে জানিয়েছেন, চার সদস্যের পরিবারের একজনের অস্ত্রোপচার হলেও বাকি তিনজনের নামও স্বাস্থ্যসাথীতে ব্লক করা হত। তাঁদের নার্সিংহোমে গেস্ট হাউসের মতো থাকতে দেওয়া হত। ২০ হাজার টাকার অস্ত্রোপচারে ৮০ হাজার টাকার বিল করার অভিযোগও উঠেছে।
কীভাবে ফাঁস হল দুর্নীতি
স্বাস্থ্যভবন সূত্রে খবর, কয়েক মাস আগে বর্ধমানের আহাদ মাল্টি স্পেশালিটি হাসপাতালের বিল থেকে প্রথম অনিয়ম নজরে আসে। ১৪৪টি স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের সঙ্গে চিকিৎসার বিলের মিল মেলেনি। শোকজের সন্তোষজনক উত্তর না মেলায় আরও বিল যাচাই শুরু হয়। দুই ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলি, বর্ধমান-সহ একাধিক জেলার বেসরকারি হাসপাতাল ও নার্সিংহোমকে শোকজ করা হয়।
টাকা কোথায় গিয়েছে? স্বাস্থ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, পাল্টা জবাব তৃণমূলের
স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডক্টর শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ের দাবি, এই দুর্নীতির টাকার "মানি ট্রেল" কালীঘাট বা তৃণমূলের অফিস পর্যন্ত পৌঁছে থাকতে পারে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ৫ মাসে যা ধরা পড়ল, ১৫ বছরে কেউ তা জানতে পারল না কেন। এই অভিযোগের পাল্টা জবাব দিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস।
এবার কী পদক্ষেপ
দুটি টিপিএ-কে ইতিমধ্যে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। অভিযুক্ত একাধিক বিমা সংস্থাকে চিহ্নিত করার কাজ চলছে, চলছে ফিনান্সিয়াল ফরেন্সিক অডিট। রাজ্যে পালাবদলের পর চালু হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা ও আয়ুষ্মান ভারত। কারা যোগ্য, তা যাচাই করতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে চলছে সরকারি কর্মীদের তল্লাশি, সেখান থেকেই বেরিয়েছে এই ভুয়ো কার্ডের তথ্য।