পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভোটের ফল ঘোষণার আগে কলকাতা জুড়ে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। বিভিন্ন স্ট্রংরুমের বাইরে মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতার মতো উত্তেজনাপ্রবণ এলাকাতেও বিশেষ নজরদারি চলছে। 

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার আগে কলকাতা জুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। শহরের বেশ কয়েকটি স্ট্রংরুমের বাইরে মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। কলকাতার ভবানীপুরের সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গভর্নমেন্ট গার্লস হাই স্কুল, নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়াম সহ একাধিক স্ট্রংরুমের বাইরে কড়া পাহারা বসানো হয়েছে। শুধু স্ট্রংরুমই নয়, মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের অফিসের বাইরেও নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। একইসঙ্গে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রেও উত্তেজনা থাকায় সেখানে বিশেষ নজরদারি চলছে। শনিবার তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে হুমকি ও মারধরের অভিযোগ তুলে স্থানীয়রা বিক্ষোভ দেখান।

উত্তপ্ত ফলতা

নির্বাচন কমিশন ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের মোট ২৮৫টি পোলিং স্টেশনে পুনর্নির্বাচনের নির্দেশ দিয়েছে। আগামী ২১ মে সকাল ৭টা থেকে সন্ধে ৬টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ হবে এবং ভোট গণনা হবে ২৪ মে। এদিকে, ৪ মে মূল ভোট গণনার আগে শনিবার ফলতার বাসিন্দারা তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীদের বিরুদ্ধে ভয় দেখানোর অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ দেখান। পরিস্থিতি সামাল দিতে এলাকায় প্রচুর পরিমাণে সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স (CRPF) এবং র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (RAF) মোতায়েন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে একটি সাঁজোয়া গাড়িও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

বিক্ষোভকারী বাসিন্দাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন মহিলাও ছিলেন। তাঁরা নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। এক স্থানীয় মহিলা অভিযোগ করে বলেন, "তৃণমূলের ইস্রাফিল চৌকিদার আমাদের হুমকি দিয়েছে যে, ওরা যদি জেতে, তাহলে আমাদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দেবে, রক্তগঙ্গা বইয়ে দেবে।" আরেকজন মহিলা বলেন, "আমরা তো তৃণমূলকেই ভোট দিয়েছিলাম, তারপরেও ওরা আমাদের ওপর হামলা করেছে... আমরা চাই ওকে গ্রেপ্তার করা হোক। আমরা মহিলাদের সুরক্ষা চাই।"

উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪টি বিধানসভা আসনে ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল ভোটগ্রহণ হয়েছিল। মূল ভোট গণনা হবে ৪ মে।