আবাসনে বুথ তৈরিতে অনড় নির্বাচন কমিশন, না মানলে কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি
WB Election Commission On Sir Hearing: এসআইআর বা ভোটার তালিকা নিবিড় সমীক্ষার শুনানি নিয়ে এবার বড় সিদ্ধান্তের পথে নির্বাচন কমিশন। কী বলছে কমিশন? বিশদে জানতে দেখুন সম্পূর্ণ ফটো গ্যালারি…

বুথ বিন্যাসে ছাড়পত্র নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত
রাজ্যে বহুতল ও আবাসনে বুথ তৈরির নির্দেশ কার্যকর না হলে বুথ বিন্যাসে ছাড়পত্র দেওয়া হবে না আগেই এই অবস্থান স্পষ্ট করেছিল নির্বাচন কমিশন। সেই সিদ্ধান্তই কার্যকর করতে মঙ্গলবার কলকাতা সহ রাজ্যের আট জেলার ডিইও দের সঙ্গে বৈঠক করেন ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ ভারতী। বৈঠক সূত্রে জানা যাচ্ছে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যের শতাধিক আবাসনে নতুন করে ভোটগ্রহণ কেন্দ্র তৈরি হতে চলেছে।
কী বলছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন?
কমিশন সূত্রের খবর এখনও পর্যন্ত যে প্রাথমিক তালিকা প্রস্তুত হয়েছে, তাতে প্রায় শতাধিক আবাসনে বুথ তৈরির প্রস্তাব রয়েছে। আগামী সপ্তাহের মধ্যেই আবাসনে বুথের সংখ্যা চূড়ান্ত করা হবে। ডিইও-দের স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, রাজনৈতিক দলগুলির আপত্তি থাকতেই পারে, তবে যেখানে বুথ তৈরির উপযুক্ত পরিস্থিতি রয়েছে, সেখানে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে।
জেলাশাসকদের সময়সীমা
এর আগে বহুতলে ভোটগ্রহণ কেন্দ্র তৈরির বিষয়ে জেলাশাসকদের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল কমিশন। নতুন ভোটকেন্দ্র তৈরিতে মাত্র দুটি আবেদন জমা পড়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। এই প্রেক্ষিতে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে চিঠি দিয়ে কমিশন নির্দেশ দেয়, নতুন করে সমীক্ষা করে আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রস্তাবিত বুথের তালিকা জমা দিতে হবে। তা না হলে কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়।
কমিশনের পর্যবেক্ষণ
কমিশনের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে, গত দু’দশকে কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় অভিজাত বহুতল আবাসনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। কিন্তু এই সব আবাসনের বহু বাসিন্দাই ভোটের দিনে বাইরে বেরিয়ে ভোট দিতে অনাগ্রহী। ভোটার উপস্থিতি বাড়াতেই আবাসনের ভিতরে বুথ তৈরির সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন। নিয়ম অনুযায়ী, কোনও আবাসনে ৩০০-র বেশি ভোটার থাকলে সেখানে আবাসন চত্বরের মধ্যেই ভোটকেন্দ্র করা হবে।
বস্তি এলাকাতেও ভোটকেন্দ্র তৈরির সম্ভাবনা
পাশাপাশি ২৫০টি পরিবার বা ৫০০ জন ভোটার রয়েছে—এমন গ্রুপ হাউজিং সোসাইটি, কলোনি ও বস্তি এলাকাতেও ভোটকেন্দ্র তৈরির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে সমীক্ষার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। যদিও কমিশনের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে জোড়া চিঠি লিখে আপত্তি জানিয়েছিলেন। তবে সেই বিরোধিতা সত্ত্বেও আবাসনে বুথ তৈরির সিদ্ধান্ত কার্যকর করতেই এগোচ্ছে নির্বাচন কমিশন।

