বিদেশি পর্যটক আসার নিরিখে পশ্চিমবঙ্গ দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। কেন্দ্রীয় পর্যটন ও সংস্কৃতি মন্ত্রক কর্তৃক প্রকাশিত তথ্য অনুসারে, ২০২৪ সালে সর্বোচ্চ সংখ্যক বিদেশি পর্যটক পরিদর্শনের ক্ষেত্রে শীর্ষে থাকা পাঁচটি রাজ্যের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে বাংলা।

পর্যটন শিল্পে বিরাট উন্নতি বাংলায়। বিদেশি পর্যটক আসার নিরিখে পশ্চিমবঙ্গ দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। কেন্দ্রীয় পর্যটন ও সংস্কৃতি মন্ত্রক কর্তৃক প্রকাশিত তথ্য অনুসারে, ২০২৪ সালে সর্বোচ্চ সংখ্যক বিদেশি পর্যটক পরিদর্শনের ক্ষেত্রে শীর্ষে থাকা পাঁচটি রাজ্যের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে বাংলা। প্রথম স্থানে রয়েছে মহারাষ্ট্র। গুজরাত, উত্তরপ্রদেশ এবং রাজস্থান রয়েছে যথাত্রমে তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম স্থানে। মন্ত্রক আরও উল্লেখ করেছে যে, ২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক পর্যটক আগমনের ক্ষেত্রে ভারত বিশ্বব্যাপী ২০তম স্থানে ছিল। ২.০৫ কোটি বিদেশি পর্যটক ভারতে বেড়াতে এসেছিলেন। যা ২০১৯ সালের মহামারী-পূর্ববর্তী সময়ের তুলনায় ১৪.৮৫% বৃদ্ধি নির্দেশ করে। এছাডা়ও, ২০২৩-২৪ সালে পর্যটন খাতে কর্মসংস্থান ৮.৪৬ কোটিতে উন্নীত হয়েছে।

কী বলা হয়েছে রিপোর্টে

কেন্দ্রীয় পর্যটন মন্ত্রকের ডেটা অনুসারে, পশ্চিমবঙ্গ আন্তর্জাতিক পর্যটকদের জন্য একটি প্রধান গন্তব্য হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে এবং মহারাষ্ট্রের পর ভারতে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। ২০২৪ সালে রাজ্যটি ৩১ লক্ষ বিদেশি পর্যটক পেয়েছে, যা ২০২৩ সালের ২৭ লক্ষের তুলনায় ১৪.৮ শতাংশ বৃদ্ধি। শুধু ২০২৫ সালের প্রথমার্ধেই ২৭ লক্ষেরও বেশি আন্তর্জাতিক পর্যটক এসেছেন, যা এই ধারাবাহিক বৃদ্ধিকে তুলে ধরে। এই বৃদ্ধির কারণ হিসেবে রাজ্যের বৈচিত্র্যময় পর্যটন দায়ী। যার মধ্যে রয়েছে উৎসব পর্যটন, ধর্মীয় পর্যটন এবং মাইস (মিটিংস, ইনসেনটিভস, কনফারেন্সেস অ্যান্ড এক্সিবিশনস) পর্যটন, যার লক্ষ্য বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন ধরনের পর্যটকদের আকর্ষণ করা।

বাংলা কেন এগিয়ে?

আন্তর্জাতিক পর্যটন শিল্পে বাংলায় এই উন্নতি বিশেষজ্ঞদের নজর এড়ায়নি, যাঁরা সাংস্কৃতিক সমৃদ্ধি এবং কৌশলগত প্রচারকে এই বৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে উল্লেখ করছেন। আসে মূলত কলকাতার ইতিহাস ও সংস্কৃতির স্বাদ নিতেই বাংলায় আসতেন বিদেশি পর্যটকরা। বিদেশি পর্যটকদের বেশিটাই আসতেন ব্রিটেন বা কমনওয়েলথ দেশগুলো থেকে। যারা ঔপনিবেশিক ইতিহাস অন্বেষণ করতে আসতেন। এখন ইউরোপীয় এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশীয়রা পশ্চিমবঙ্গের ঔপনিবেশিক-পরবর্তী বর্তমানের সঙ্গে পরিচিত হতে আসছেন। এক্ষেত্রে দুর্গাপুজোকে ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। এছাডা়ও, পর্যটকরা বাঙালি খাবার, স্থানীয় আতিথেয়তার উষ্ণতা, লোকসংগীতের ঐতিহ্য, বৈচিত্র্যময় হস্তশিল্প এবং বাংলার গ্রামাঞ্চলের মনোমুগ্ধকর পরিবেশ পছন্দ করেন।