- Home
- West Bengal
- Kolkata
- সবথেকে বেশি ছুটি পান বাংলার সরকারি কর্মীরা, বছরে ১৫৭টি! এই বছর আরও বাড়ানো হয়েছে ছুটি?
সবথেকে বেশি ছুটি পান বাংলার সরকারি কর্মীরা, বছরে ১৫৭টি! এই বছর আরও বাড়ানো হয়েছে ছুটি?
ছুটির হিসেবে রেকর্ড গড়েছে বাংলা। দেশের বহু রাজ্যকে পিছনে ফেলে বাংলার সরকারি কর্মীরা ছুটি পাওয়ার তালিকা প্রথম সারিতে রয়েছেন। বছরে ১৫৭টি ছুটি পান তাঁরা। ২০২৬ সালে কি সেই সংখ্যা আরও বাড়ল?

ফের একবার রেকর্ড গড়ল বাংলা। ছুটির নিরিখে বহু রাজ্যকে পিছনে ফেলে সামনের দিকে এগিয়ে গেল পশ্চিমবঙ্গ। একদিকে যখন ডিএ ইস্যুতে সরকারি কর্মীরা ক্ষোভে ফুঁসছেন, সেখানে কিন্তু দেশের মধ্যে বাংলার কর্মচারীরা (Government Employee) সর্বোচ্চ ৫৩ দিন সরকারি ছুটি পান।
শুনে চমকে গেলেন তো? কিন্তু এটাই সত্যি। এরপরেই দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ওড়িশা। ওড়িশা ৩৪ দিনের ছুটি নিয়ে অনেক পিছিয়ে।
ছুটির নিরিখে এগিয়ে বাংলা
এক রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০১০ সালের তুলনায় পশ্চিমবঙ্গে ছুটির সংখ্যা ১৮ দিন বৃদ্ধি পেয়েছে। তাছাড়া, ৫২টি শনিবার এবং ৫২টি রবিবার রয়েছে। ফলস্বরূপ, এই রাজ্যের সরকারি কর্মচারীরা ৩৬৫ দিনের বছরে ১৫৭ দিন ছুটিতে কাটান।
অন্যদিকে, সমস্ত রাজ্যের কর্মচারীরা কেন্দ্রীয় সরকারি প্রতিষ্ঠানে ১৭ দিনের বাধ্যতামূলক ছুটি পান, সেই সাথে ২৯ দিনের ঐচ্ছিক ছুটিও পান। কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের জন্য, ২০০৯ সালের তুলনায় ছুটির বৃদ্ধি খুবই সামান্য যা সত্যিই অবাক করার মতো বিষয়।
রিপোর্ট বলছে, বিগত দেড় দশক ধরে, রাজ্য ছুটির সংখ্যা বেড়েছে ১৮টি। এর মধ্যে রয়েছে সরস্বতী পুজোর আগের দিন, শব-ই-বরাত, দোলের পরের দিন, ঈদ-উল-ফিতরের আগের দিন এবং ঈদ-উল-আযহার আগের দিন।
দুর্গাপুজোর ছুটিও আগের তুলনায় বেশ খানিকটা বেড়েছে। যেমন দুর্গাপুজোর সময় সপ্তমী থেকে চার দিন ছুটি থাকত। কিন্তু গত কয়েক বছর থেকে চতুর্থী থেকে একটানা ছুটি পাচ্ছেন সরকারি কর্মীরা। এই ধরণের বর্ধিত ছুটির বিষয়ে বিভিন্ন সংগঠনের বিভিন্ন মতামত রয়েছে।
কী বলছেন সরকারি আধিকারিকরা?
এই বিষয়ে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের তৃণমূল সংগঠন, রাজ্য সরকারি কর্মচারী ফেডারেশনের আহ্বায়ক প্রতাপ নায়েক বিশ্বাস করেন যে “কর্মচারীপ্রেমী মুখ্যমন্ত্রী কর্মচারীদের সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে সচেতন। সেই কারণেই তিনি কর্মচারীদের বিভিন্ন কাজের জন্য ছুটি বাড়িয়েছেন। এতে কর্মচারীদের কাজের প্রতি মনোযোগ বৃদ্ধি পায়।”
যদিও দ্বিমত পোষণ করেছেন কংগ্রেস-অনুমোদিত কনফেডারেশন অফ স্টেট এমপ্লয়িজ ফেডারেশনের প্রতিনিধিত্বকারী মলয় মুখোপাধ্যায়। তিনি বলেছেন, “আমরা এই ধরণের ছুটির বিরুদ্ধে। আমরা বারবার বলেছি যে আমরা ছুটি নয়, রুটি চাই। একদিকে, কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ পরিশোধ না করে বঞ্চিত করা হচ্ছে, অন্যদিকে, সরকার সরকারি অফিস বন্ধ রেখে অবকাঠামোগত খরচ সাশ্রয় করে এবং ছুটির সংস্কৃতি প্রচার করে রাজস্ব বৃদ্ধি করছে।”
বর্তমান সময় ডিএ নিয়ে সরকারের চাপ বাড়িয়েই চলেছেন সরকারি কর্মীরা। যেখানে কেন্দ্রীয় সরকার নিজেদের কর্মীদের ৫৮ শতাংশ হারে ডিএ প্রদান করছে, আবার এমনকি শীঘ্রই আরও এক দফায় ডিএ বৃদ্ধি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, সেখানে পশ্চিমবঙ্গ সরকারি কর্মীদের কপালে জুটছে মাত্র ১৮ শতাংশ মহার্ঘ্য ভাতা। অপরদিকে পঞ্চম বেতন পে কমিশনের আওতায় বকেয়া ডিএ অবধি মেটায়নি সরকার। মামলা চলছে সুপ্রিম কোর্ট। কবে সেই বকেয়া টাকা মিলবে? সেই অপেক্ষায় দিন গুনছেন সকলে।

