- Home
- West Bengal
- Kolkata
- আপনার যুবসাথী প্রকল্পের আবেদন বাতিল হয়ে যায়নি তো? জানুন স্ট্যাটাস চেক করার সহজ পদ্ধতি
আপনার যুবসাথী প্রকল্পের আবেদন বাতিল হয়ে যায়নি তো? জানুন স্ট্যাটাস চেক করার সহজ পদ্ধতি
পশ্চিমবঙ্গের যুবসাথী প্রকল্পের আবেদনের বর্তমান স্থিতি কীভাবে জানবেন? আপনার অ্যাপ্লিকেশন কি রিজেক্ট হলো নাকি অ্যাপ্রুভ? মোবাইল দিয়ে স্ট্যাটাস চেক করার সহজ পদ্ধতি এবং ফর্মে ভুল থাকলে কী করবেন, জানুন বিস্তারিত এই প্রতিবেদনে।

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নতুন উদ্যোগ 'যুবসাথী' প্রকল্প নিয়ে রাজ্যজুড়ে বেকার যুবক-যুবতীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা দিয়েছে। দুয়ারে সরকার ক্যাম্প বা অনলাইন পোর্টালে ইতিমধ্যেই লক্ষ লক্ষ আবেদন জমা পড়েছে।
তবে আবেদন করার পর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো—আপনার আবেদনটি আদৌ গৃহীত বা 'অ্যাপ্রুভ' (Approved) হলো কি না, নাকি কোনো ভুলের কারণে তা বাতিল হয়ে গেল? বর্তমানে আবেদনকারীরা বাড়িতে বসেই মোবাইলের মাধ্যমে নিজেদের আবেদনের বর্তমান স্থিতি যাচাই করে নিতে পারেন।
স্ট্যাটাস চেক করার ধাপে ধাপে পদ্ধতি: আবেদনের স্থিতি জানতে নিচের ধাপগুলি অনুসরণ করুন:
১. প্রথমে যুবসাথী প্রকল্পের অফিসিয়াল পোর্টাল https://apas.wb.gov.in/-এ প্রবেশ করুন।
২. হোমপেজে থাকা ‘Check Status’ অপশনটিতে ক্লিক করুন।
৩. আবেদন করার সময় যে মোবাইল নম্বর ব্যবহার করেছিলেন, সেটি নির্দিষ্ট বক্সে লিখুন এবং স্ক্রিনে থাকা ক্যাপচা কোডটি সঠিকভাবে পূরণ করুন।
৪. এরপর ‘Get OTP’ বাটনে ক্লিক করলে আপনার মোবাইলে একটি ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড (OTP) আসবে।
৫. ওটিপি দিয়ে ‘Verify Pin’ করলেই স্ক্রিনে আপনার আবেদনের ফলাফল ভেসে উঠবে।
আবেদন কি ‘অ্যাপ্রুভ’ হয়েছে? বর্তমানে পোর্টালে স্ট্যাটাস চেক করলে মূলত দেখা যাচ্ছে আপনার আবেদনটি সফলভাবে সিস্টেমে নথিভুক্ত হয়েছে কি না। যদি আবেদনটি গৃহীত হয়ে থাকে, তবে স্ক্রিনে আপনার অ্যাপ্লিকেশন নম্বর বা রেজিস্ট্রেশন নম্বর দেখা যাবে।
তবে মনে রাখা জরুরি যে, বর্তমানে পোর্টালে শুধুমাত্র রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হওয়ার তথ্যই দেখা যাচ্ছে। আপনার আবেদনটি ভেরিফিকেশন বা যাচাইকরণ পর্বের কোন পর্যায়ে আছে অথবা সেটি চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত (Approved) হলো কি না, সেই সংক্রান্ত তথ্য এখনও পোর্টালে আপডেট করা শুরু হয়নি। এর জন্য আবেদনকারীদের আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।
আবেদন বাতিল বা রিজেক্ট হওয়ার সম্ভাবনা: অনেকেই ফর্মে ছোটখাটো ভুল বা নথিপত্রে অসংগতির কারণে চিন্তিত। তবে সামান্য ভুলের জন্য সরাসরি ফর্ম বাতিলের সম্ভাবনা খুবই কম। যদি তথ্যে কোনো গরমিল পাওয়া যায়, তবে আধিকারিকরা ফর্মটিকে সাধারণত ‘ডিসপুট’ (Dispute) বা ‘অবজেকশন’ (Objection) তালিকায় রাখেন। আবেদনকারীকে পরবর্তীতে সেই ভুল শুধরে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হতে পারে।
সচরাচর যে ভুলগুলি দেখা যাচ্ছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—একক অ্যাকাউন্টের বদলে জয়েন্ট অ্যাকাউন্ট দেওয়া, ছবির ওপর স্বাক্ষর না করা বা ভুল বয়সের প্রমাণপত্র প্রদান করা।
অফলাইন আবেদনকারীদের জন্য বিশেষ তথ্য: যাঁরা দুয়ারে সরকার ক্যাম্পে অফলাইনে ফর্ম জমা দিয়েছেন, তাঁদের তথ্য পোর্টালে আপলোড হতে কিছুটা সময় লাগতে পারে কারণ বিপুল সংখ্যক ফর্মের ডেটা এন্ট্রি একটি সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া। যতক্ষণ না অফলাইন ফর্মটি সিস্টেমে উঠছে, ততক্ষণ আবেদনকারীরা চাইলে অনলাইনে পুনরায় আবেদন করতে পারেন। পরবর্তীতে ডুপ্লিকেট হিসেবে চিহ্নিত হলে অনলাইন আবেদনটিই সাধারণত বহাল থাকে।
সর্বোপরি, ছোটখাটো ভুলের জন্য আতঙ্কিত না হয়ে সরকারি নির্দেশিকার দিকে নজর রাখা এবং প্রয়োজনে স্থানীয় বিডিও (BDO) বা এসডিও (SDO) অফিসে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

