লক্ষ্মীর ভান্ডারের মতো এবার স্বাস্থ্যসাথী কার্ডেও গরমিলের অভিযোগ, খোঁজ মিলছে না বহু উপভোক্তার। কী এই গরমিল এবং প্রশাসন কী বলছে, জানুন বিস্তারিত।
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের পর এবার স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পেও দুর্নীতি! তেমনই অভিযোগ উঠছে প্রশাসের পক্ষ থেকে। স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে সরকারের হাতে থাকা তালিকা আর প্রকৃত উপভোক্তার সংখ্যার মধ্যে গরমিল রয়েছে বলেই অভিযোগ। তৃণমূল সরকারের স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের উপভোক্তা সংখ্যা নিয়েও এবার বড়সড় গরমিলের খোঁজ মিলেছে। আগে যাঁদের নামে স্বাস্থ্যসাথী কার্ড ছিল, তাঁদের অনেকেরই এখন আর সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। বাড়ি বাড়ি গিয়ে সরকারি কর্মীরা খোঁজ করলেও বহু ক্ষেত্রে উপভোক্তাদের পাওয়া যাচ্ছে না বলে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর। ফলে স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের প্রকৃত উপভোক্তা তালিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
৩০ লক্ষ উপভোক্তার নাম আর কার্ডের গরমিল
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় ৩০ লক্ষেরও বেশি উপভোক্তার স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের নামের সঙ্গে বাস্তবের যোগ মিলছে না। আয়ুষ্মান ভারত কার্ড বা মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনার কার্ড তৈরি বা যাচাই করতে গিয়ে এই অসংগতি সামনে আসছে বলে দাবি। সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশের মতে, এ ধরনের গরমিলের জেরে কুড়ি থেকে পঁচিশ হাজার কোটি টাকার সরকারি অর্থের অপচয় হয়ে থাকতে পারে।
জানা গিয়েছে, উপভোক্তাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তালিকা মিলিয়ে দেখার কাজ চলাকালীন বহু ক্ষেত্রেই কার্ডধারীদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। কোথাও নামের সঙ্গে বাস্তব বাসিন্দার মিল নেই, কোথাও আবার আগের তালিকায় থাকা উপভোক্তার বর্তমান অবস্থান অজানা। ফলে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের উপভোক্তা তালিকা পুনর্মূল্যায়নের দাবি আরও জোরদার হয়েছে।
প্রশাসনিক সূত্রের বক্তব্য, প্রকৃত উপভোক্তা কারা, কতজনের নাম তালিকায় আছে কিন্তু বাস্তবে নেই, আর কোথায় কোথায় এই গরমিল ঘটেছে—সবই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্পের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও নবান্ন সূত্রের খবর।
ইতিমধ্যেই শুভেন্দু অধিকারীর সরকার রাজ্যের সাধারণ মানুষের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকল্প- আয়ুষ্মান ভারত চালু করেছে। যারা এই প্রকল্পের সুবিধে না পাবেন তারা মুখ্যমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিমা যোজনার জন্য আবেদন করতে পারেন। তবে যতদিন পর্যন্ত নতুন কার্ড না পাচ্ছেন ততদিনই স্বাস্থ্যসাথী কার্ড ব্যবহার করা যাবে বলেও সরকার জানিয়েছিল। আগামী দিনে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের মতই এই কার্ডও বাতিল হয়ে যাবে। কিন্তু তার আগেই এই প্রকল্পে দুর্নীতির ইঙ্গিত দিয়ে রাখছে রাজ্যের বিজেপি সরকার।






