বুদ্ধদেব পাত্র, পুরুলিয়া:  ঈদ ও স্বাধীনতা দিবসে ছাড় দিয়েছে সরকার। কিন্তু মনসা পুজো? সাপ্তাহিক লকডাউন নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে পুরুলিয়ায়। সেদিন পুরোদস্তুর লকডাউন প্রত্যাহারের দাবি উঠেছে।

আরও পড়ুন: মাস্ক পরাতে দেব-দেবীই ভরসা, শিয়ালকোন্দায় বাড়ির গায়ে 'যামিনী রায়'

করোনা সংক্রমণ কমার কোনও লক্ষণই নেই। বরং যতদিন যাচ্ছে, আক্রান্তের সংখ্যা ততই বাড়ছে। তাহলে কী এবার গোষ্ঠী সংক্রমণ শুরু হল? সেকথা কার্যত স্বীকার করে নিয়েছে সরকার। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জুলাই মাসে সপ্তাহে দু'দিন করে পুরোদস্তুর লকডাউন চলেছে রাজ্যে। ব্য়তিক্রম ঘটবে না অগাস্টেও। স্বাধীনতার প্রাপ্তির মাসে ৯ দিন লকডাউন জারি থাকবে রাজ্যে। নবান্নে সাংবাদিক সম্মেলনে তারিখগুলি ঘোষণাও করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর সেই তালিকাকে ঘিরে বিতর্ক জমে উঠেছে পুরুলিয়ায়।

কেন? অগাস্ট মাসে  ৫,৮,১৬,১৭,২৩,২৪ এবং ৩১ তারিখ লকডাউনের দিন ধার্য করেছে সরকার। ১ অগাস্ট বকরি ঈদ ও ১৫ অগাস্ট স্বাধীনতা দিবসে অবশ্য সচল থাকবে রাজ্য। এদিকে ১৭ অগাস্ট আবার মনসা পুজো। জঙ্গলমহলের জেলা পুরুলিয়ায় সেদিন মহা ধুমাম করে উৎসব পালিত হয়। জেলার ছোট-বড় সমস্ত হাটে মানুষের ভিড় উপচে পড়ে। মনসা পুজোয় হাঁস বলি দেওয়ার রীতি বহুদিনের। দিনভর চলে হাঁস কেনা-বেচা। কিন্তু পুজোর দিনে যদি লকডাউন জারি থাকে, তাহলে উৎসহ হবে কী করে! তাই ১৭ তারিখ তো বটেই. তার আগের দিন অর্থাৎ ১৬ অগাস্ট দিনটিকেও লকডাউনের আওতায় বাইরে রাখার দাবি তুলেছেন স্থানীয় মানুষেরা।

আরও পড়ুন: একলাফে ফের পারদ চড়ল কলকাতায়, শুক্রবার উত্তরবঙ্গে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস

পুরুলিয়ার ঝালদা শহরের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, 'আমরা লকডাউনে পক্ষে এবং সরকারের পাশে আছি। কিন্তু পূর্ব পুরুষদের আমল থেকে পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম-সহ বিভিন্ন জেলায় মনসা পুজা হয়ে আসছে। সবচেয়ে বড় উৎসব হয় পুরুলিয়ায়। মুখ্যমন্ত্রীর কাছে ১৬ ও ১৭ অগাস্ট লকডাউন জারির সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা আবেদন জানাচ্ছি।'