মৌলিককান্তি মণ্ডল, নদিয়া: জ্বরের উপসর্গে মৃত্য়ু! করোনা আতঙ্কে প্রায় ঘণ্টা ছয়েক যুবকের দেহ পড়ে রইল বাড়িতে। পরিবারকে সাহায্য করতে এগিয়ে এলেন না প্রতিবেশীরা। শেষপর্যন্ত মৃতের কয়েকজন বন্ধু পথ অবরোধ করার পর টনক নড়ল প্রশাসনের। মৃতদেহটি উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছে পুলিশ। অমানবিক ঘটনাটি ঘটেছে নদিয়ার নবদ্বীপে।

আরও পড়ুন: পড়শি তরুণীর সঙ্গে প্রেমে আপত্তি, বন্ধ ঘরে ভোজালি কোপে ছেলে-কে 'খুন' বাবা-এর

মৃতের নাম কৌশিক চন্দ্র। বাড়ি নবদ্বীপ শহরের ১২ নম্বর ওয়ার্ডে বনচারীবাগান এলাকা। পাড়ায় ভালো ছেলে হিসেবে পরিচিত ছিলেন তিনি। পলা বাঁধাই-এর কাজ করতেন গয়না দোকানে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, পরিবারে আর্থিক অবস্থায় একেবারেই ভালো নয়। ভাঙাচোরা বাড়িতে বৃদ্ধ বাবা-মাকে নিয়ে থাকতেন কৌশিক। তাঁর রোজগারেই সংসার চলত।

জানা গিয়েছে, গত কয়েক দিন ধরেই জ্বরে ভুগছিলেন কৌশিক। সোমবার সকালে মারা যান তিনি। করোনা নয় তো? মৃত্যুর খবর জানাজানি হতেই চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। স্থানীয় যে চিকিৎসক ওই যুবকের চিকিৎসা করছিলেন, তাঁকেই প্রথমে খবর দেওয়া হয়। মৃতের বাড়ি ঢোকার পর তিনি আর বেরোননি বলে অভিযোগ। তাতেই আতঙ্কে বেড়ে যায় বহুগুণ। এরপর বিদায়ী কাউন্সিলর, পুলিশ, প্রশাসন  ও হাসপাতাল-সহ বিভিন্ন জায়গা যোগাযোগ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এভাবেই কেটে যায় প্রায় তিন ঘণ্টা। কিন্তু দেহটি উদ্ধার করা বা সৎকারের করার জন্য প্রশাসনের তরফে কেউ এলাকায় যাননি বলে অভিযোগ।

আরও পড়ুন: সদ্যোজাত কন্যাকে 'শ্বাসরোধ করে খুন', দেহ জঙ্গলে ফেলে দিল মা

এদিকে করোনার ভয়ে প্রতিবেশীরাও  কিছু করার সাহস পাননি। তাহলে উপায়? নিরুপায় হয়ে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণের করার জন্য নবদ্বীপের বনচারী বাগান এলাকায় পথ অবরোধ শুরু করেন মৃত কৌশিক চন্দের কয়েকজন বন্ধু। শেষপর্যন্ত পুলিশ গিয়ে মৃতদেহ উদ্ধার করে নবদ্বীপ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়।