মৌলিককান্তি মণ্ডল, নদিয়া:  দাম্পত্য জীবনে পূর্ণতা আনে সন্তান। কিন্তু সেই  সন্তান যদি মেয়ে হয়? সদ্যোজাতকে শ্বাসরোধ করে খুন করতে পিছুপা হল না মা! এমনই নৃশংসতার সাক্ষী থাকল নদিয়ার কল্যাণীর গয়েশপুর এলাকা। অভিযুক্তকে আটক করেছে পুলিশ।

আরও পড়ুন: সন্ত্রাসের বিষ ঢালাই ছিল কাজ, মুসলিম দুনিয়ায় অবাধ যোগ বাদুড়িয়ার 'জঙ্গি যুবতীর'

জানা গিয়েছে, গয়েশপুর পুরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডে দোগাছিয়া এলাকায় একটি বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরেই সপরিবারে ভাড়া থাকেন প্রাণকৃষ্ণ রায়। স্ত্রী বাসনা, দুই মেয়ে  ও এক ছেলেকে নিয়ে ভরা সংসার তাঁর। প্রাণকৃষ্ণ নিজে একটি দোকানে কাজ করেন। আর স্ত্রী বাসনা বাড়িতে মুড়ি ভাড়ার কাজ করত। গত বছরের শেষের দিকে ফের অন্তঃসত্ত্বা হন ওই গৃহবধূ। প্রথমদিকে সব ঠিকঠাকই ছিল। এরপর লকডাউনের জেরে কাজ হারান প্রাণকৃষ্ণ। সন্তানকে গর্ভেই নষ্ট করে দিতে চেয়েছিলেন তাঁর স্ত্রী। কিন্তু যেকোনও কারণেই হোক, শেষপর্যন্ত আর করতে উঠতে পারেননি। একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেন বাসনা। জন্মের পর তাকে সহ্য করতে পারতেন না ওই গৃহবধূ। অন্তত তেমনই দাবি প্রতিবেশীদের।

আরও পড়ুন: অর্জুন ঘনিষ্ঠ বিজেপি নেতার গাড়িতে বোমাবাজি, কোনও মতে প্রাণ বাঁচিয়ে রক্ষা

রবিবার সকালে থেকে এলাকায় একটি জঙ্গল প্লাস্টিক মোড়া অবস্থায় এক সদ্যোজাতের দেহ পড় থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। পুলিশ এসে দেহটি উদ্ধার করে। কী ব্য়াপার? স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে সবটা জানার পর বাসনাক জেরা করতে শুরু করেন তদন্তকারীরা। সদ্যোজাতকে মেয়েকে খুন করার কথা স্বীকার করে নিয়েছে অভিযুক্ত। তদন্তকারীদের দাবি, সে জানিয়েছে, সকালে জঙ্গল থেকে দেহটি তুলে শ্মশানের ফেলে আসার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু তার আগে ঘটনাটি জানাজানি হয়ে যায়। বাসনা রায়কে আটক করেছে পুলিশ।