পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক ঝড় অব্যাহত রয়েছে। শনিবার তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সোনারপুরে পৌঁছান, যেখানে ক্ষুব্ধ জনতা তাঁর উপর হামলা চালায়। এই হামলায় অভিষেক আহত হন। পাথর ও ডিম ছোড়ার মধ্যেই নিরাপত্তা রক্ষীরা তাঁকে হেলমেট পরিয়ে ভিড়ের মধ্য থেকে নিরাপদে সরিয়ে নিয়ে যান।
পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক ঝড় অব্যাহত রয়েছে। শনিবার তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সোনারপুরে পৌঁছান, যেখানে ক্ষুব্ধ জনতা তাঁর উপর হামলা চালায়। এই হামলায় অভিষেক আহত হন। পাথর ও ডিম ছোড়ার মধ্যেই নিরাপত্তা রক্ষীরা তাঁকে হেলমেট পরিয়ে ভিড়ের মধ্য থেকে নিরাপদে সরিয়ে নিয়ে যান। যদিও তার পরেও সোনারপুরে নিহত তৃণমূল কর্মী সঞ্জু কর্মকারের বাড়িতে গিয়েছিলেন তিনি। প্রায় দেড় ঘণ্টা পর সেই বাড়ি থেকে তিনি বার হলেন পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর ঘেরাটোপে। সোনারপুর থেকে প্রথমে তাঁকে বাইপাসের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। যদিও কিছুক্ষণ পরেই তাঁকে মিন্টো পার্কের অন্য একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তা নিয়েও চলে চাপানউতর। হাসপাতাল ভর্তি নেয়নি অভিষেককে। বেশি রাতে মমতা জানান, অভিষেককে বাড়ি নিয়ে যাওয়া হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে চাপ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন তিনি।

‘আপনারা ভুল করেছেন’ হুমকি দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। জানা গেছে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে যে হাসপাতালে (বেল ভিউ হাসপাতাল) ভর্তি করা হয়েছিল, সেখানকার কর্মীদের হুমকি দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত একটি অডিও ক্লিপ বর্তমানে ভাইরাল হয়েছে, যেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বাংলায় বলতে শোনা যাচ্ছে, "ঈশ্বর আপনাদের ক্ষমা করবেন না।" ভাইরাল হওয়া ওই অডিও ক্লিপে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বলতে শোনা যাচ্ছে, "মিস্টার ট্যান্ডন, আমি দুঃখিত, কিন্তু আপনারা ভুল করেছেন। মনে রাখবেন, আমরা আপনাদের কতটা সাহায্য করেছি। ঈশ্বর আপনাদের ক্ষমা করবেন না। আপনারা মানুষকে বিভ্রান্ত করছেন। আপনাদের লজ্জিত হওয়া উচিত। আপনাদের এই ঔদ্ধত্যের কথা সবাই মনে রাখবে। আপনারা একটি হাসপাতাল চালাচ্ছেন, আর বর্তমানে কেন্দ্রে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় রয়েছে। যদি আগামীকাল কেন্দ্রীয় সরকার আর ক্ষমতায় না থাকে, তবে আমরা দেখে নেব।"
চাপের মুখে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
এই ঘটনার আগেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হাসপাতালের প্রশাসন এবং রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। তিনি জানতে চেয়েছিলেন, অভিষেকের শারীরিক অবস্থা যদি গুরুতর না-ই হয়ে থাকে, তবে তাঁকে কেন আইসিইউ-তে রাখা হয়েছিল? আর যদি তাঁর অবস্থা গুরুতর হয়ে থাকে, তবে এখন কেন চাপের মুখে তাঁকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হলো? তিনি এই ঘটনাকে নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি বড় ধরনের গাফিলতি হিসেবে অভিহিত করেছেন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "ওর (অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের) শরীরে রক্তের জমাটবাঁধা দলা (blood clots) রয়েছে। যদি ওর মাথায় হেলমেট না থাকত, তবে অভিষেক ঘটনাস্থলেই মারা যেত।" মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, "অভিষেকের চিকিৎসা এখন বাড়িতেই চলবে—ঠিক যেমনটা হাসপাতালে হয়ে থাকে। সেখানে অক্সিজেন সিলিন্ডার এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখা হবে। অভিষেকের যদি কিছু হয়, তবে তার দায় হাসপাতালকেই নিতে হবে।"
মমতা সমগ্র পরিস্থিতিটিকে 'গণতন্ত্রের হত্যা' হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি আরও বলেন যে, এই সরকার পরিবর্তিত হয়নি, বরং একে জোরপূর্বক প্রতিস্থাপিত করা হয়েছে। বাংলার স্থানীয় নেতাদের লক্ষ্য করে তিনি বলেন যে, দিল্লির বিজেপি নেতারা বাংলার নেতাদের মতো এতটা খারাপ নন। তিনি সিআইডি-কেও 'ভীরু' বলে আখ্যায়িত করেন।