কাশ্মীরে বাংলার পাঁচ শ্রমিকের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় শোকপ্রকাশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ঘটনার পরে টুইট করে তিনি জানিয়েছেন, গোটা ঘটনায় তিনি স্তম্ভিত এবং গভীরভাবে শোকাহত। ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন রাজ্যপাল জগদদীপ ধনখড়ও। শোকবার্তায় রাজ্যপাল জানিয়েছেন, 'এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের নিন্দা করার ভাষা নেই।'

টুইটারে মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন, 'কাশ্মীরে নৃশংস হত্যাকাণ্ডে আমরা স্তম্ভিত এবং গভীরভাবে শোকাহত। মুর্শিদাবাদের পাঁচজন শ্রমিক প্রাণ হারিয়েছেন। নিহতদের পরিবারকে সমবেদনা জানাতে কোনও কথাই যথেষ্ট নয়। এই বিপর্যয়ের মুহূর্তে তাঁদের পরিবারকে আমরা সবরকম সহযোগিতা করব।'

 

 

এই নৃশংস ঘটনায় নিজের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় কোনও রাজনৈতিক মন্তব্য করেননি মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু এই ঘটনাকে কাশ্মীর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় সরকারের সামগ্রিক ব্যর্থতা হিসেবেই তৃণমূল- সহ অন্যান্য বিরোধী দলগুলি তুলে ধরবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। 

আরও পড়ুন- ফেরার সুযোগ পেলেন না কামিরুদ্দিনরা, হত্যালীলায় বাকরুদ্ধ সাগরদিঘির ব্রাহ্মণী গ্রাম

আরও পড়ুন- এবার জঙ্গিদের নিশানায় বাঙালি, কাশ্মীরে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত মুর্শিদাবাদের ৫ শ্রমিক

প্রাথমিকভাবে অবশ্য নিহতদের দেহ দ্রুত এ রাজ্যে ফিরিয়ে এনে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে রাজ্য প্রশাসন। পাশাপাশি নিহতদের পরিবারকে প্রয়োজনীয় সবরকম সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী নিজেই। এ ছাড়াও, এখনও কাশ্মীরে মুর্শিদাবাদ পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য প্রান্তের যে শ্রমিকরা কর্মরত রয়েছেন, তাঁদের যথাযথ নিরাপত্তার জন্য রাজ্য সরকারের তরফে জম্মু কাশ্মীরের প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেই খবর। 

৩৭০ ধারা প্রত্যাহারের পর কিছুদিন কাশ্মীরে পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও জনজীবন কিছুটা স্বাভাবিক হতেই পরের পর জঙ্গি হামলার ঘটনা চলছে। মূলত টার্গেট করা হচ্ছে ভিন রাজ্য থেকে কর্মসূত্রে কাশ্মীরে আসা ভিনরাজ্যের বাসিন্দাদেরকে। ফলে, ৩৭০ ধারা প্রত্যাহারের পর কেন্দ্রের দাবি মতো কাশ্মীরের পরিস্থিতি কতটা উন্নত হল, বিরোধীদের সেই প্রশ্নের মুখেও পড়তে হবে কেন্দ্রীয় সরকারকে। বিষয়টি নিয়ে সংসদেও সরব হতে পারে তৃণমূল। ৩৭০ ধারা প্রত্যাহারের সময়ও সিদ্ধান্ত কার্যকর করার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।