ইঙ্গিত আগেই দিয়েছিলেন। এবার সত্যিই কালো কোর্ট পরে আইনজীবীর পোশাকে কলকাতা হাইকোর্টে রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোট পরবর্তী হিংসার মামলায় আদালতে সওয়াল করবেন তিনি। বৃহস্পতিবার ভোট-পরবর্তী অশান্তির একটি মামলার শুনানি রয়েছে হাইকোর্টে। প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের এজলাসে মামলাটির শুনানি হবে।
ইঙ্গিত আগেই দিয়েছিলেন। এবার সত্যিই কালো কোর্ট পরে আইনজীবীর পোশাকে কলকাতা হাইকোর্টে রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোট পরবর্তী হিংসার মামলায় আদালতে সওয়াল করবেন তিনি। বৃহস্পতিবার ভোট-পরবর্তী অশান্তির একটি মামলার শুনানি রয়েছে হাইকোর্টে। প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের এজলাসে মামলাটির শুনানি হবে। জানা যাচ্ছে, ওই মামলায় সওয়াল করার জন্যই হাইকোর্টে গিয়েছেন তিনি।

ভোট পরবর্তী সময়ে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে অশান্তি ও হিংসার কিছু ঘটনা ঘঠেছে। সেই অভিযোগগুলির প্রেক্ষিতে হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা করেছেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুত্র আইনজীবী শীর্ষাণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি পাল ও বিচারপতি পার্থসারথি সেনের এজলাসে এই মামলার শুনানি রয়েছে। এই মামলার শুনানির জন্য এজলাসে পৌঁছে গিয়েছেন মমতা। সকাল ১০টার কিছু পরে হঠাৎ হাইকোর্ট চত্বরে পৌঁছে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়। আইনজীবীদের মতো কালো কোর্ট পরে হাজির হন তিনি।
এর আগে, গত ফেব্রুয়ারি মাসে পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভারতের সুপ্রিম কোর্টের ১ নম্বর এজলাসে উপস্থিত ছিলেন। নির্বাচনমুখী বাংলায় ভোটার তালিকা সংশোধনের 'স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন' (SIR)-কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তিনি যে আবেদন করেছিলেন, তিন বিচারপতির একটি বেঞ্চ যখন সেই আবেদনের শুনানি করছিল, তখন তিনি এজলাসের শেষ সারিতে তিন ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ছিলেন। তিনি আদালতে খানিকক্ষণ সওয়াল করেন, তবে আইনজীবী হিসেবে নয়। মামলায় পার্টি হিসেবে। এই বেঞ্চের নেতৃত্বে ছিলেন ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি বিপুল এম. পাঞ্চোলি।
যোগমায়া দেবী কলেজ থেকে স্নাতক হওয়ার পর তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর হন। এর পর তিনি কলকাতার যোগেশচন্দ্র চৌধুরী আইন কলেজ থেকে আইনের ডিগ্রি অর্জন করেন। আইনজীবী হিসেবে তাঁর নাম বার কাউন্সিলে নথিভুক্ত থাকলেও রাজনৈতিক ব্যস্ততার কারণে দীর্ঘ সময় প্র্যাকটিস করতে পারেননি। কংগ্রেস দলে থাকাকালীন তিনি অন্তত তিনটি মামলায় একজন পেশাদার আইনজীবী হিসেবে আদালতে উপস্থিত হয়েছিলেন। ততদিনে তিনি ছাত্র রাজনীতিতে বেশ সক্রিয় হয়ে উঠেছিলেন এবং কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠন—ছাত্র পরিষদের হয়ে নিয়মিত প্রচার চালাতেন। ১৯৮৩ সালে তিনি যুব কংগ্রেসে যোগ দেন মমতা।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর ৫ মে সাংবাদিক বৈঠক করেছিলেন মমতা। জানিয়েছিলেন, মুক্ত পাখির মতো কাজ করবেন তিনি। আর তার পরই আদালতে ফিরলেন আইনজীবী হিসেবে।

