এতদিন রাজ্যের নেতারা বলছিলেন বাংলা থেকে তেইশটি আসন পাবেন তাঁরা। দলের সভাপতি অমিত শাহ বাংলাতে ভোট প্রচারে এসেও বারবার সেই কথাই বলে গিয়েছেন। কিন্তু পঞ্চম দফার দিন রাজ্যে বোট প্রচারে এসে সেই সংখ্যাটাই অনেকটা বাড়িয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সোমবার ঝাড়গ্রামে প্রচারে এসে প্রধানমন্ত্রী যে দাবি করেছেন, তাতে রাজ্যে বিজেপি বত্রিশটি আসন পেতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর আরও দাবি, রাজ্যে দশটির বেশি আসন পাবে না তৃণমূল কংগ্রেস। যে দাবির জবাব দিতে গিয়ে মমতা বাঁকুড়ার কোতুলপুরে পাল্টা দাবি করেন, রাজ্যে খাতাইব খুলবে না বিজেপি-র।

ভোটের আগে থেকেই তৃণমূল নেত্রী দাবি করছেন, বাংলা থেকে বিয়াল্লিশটি আসনই জিতবেন তাঁরা। দার্জিলিং এবং আসানসোল আসন দু'টিও বিজেপি-র হাতছাড়া হবে বলে দাবি করেছেন মমতা। বাস্তবে অবশ্য ভোটের ময়দানে রাজ্যের শাসক দলকে কড়া টক্কর ছুড়ে দিয়েছে গেরুয়া শিবির। বাংলায় ভাল ফল করতে মরিয়া মোদী-শাহরা বারবার এ রাজ্যে প্রচারে ছুটে আসছেন। সোমবারও বাংলায় জোড়া সভা করে যান প্রধানমন্ত্রী।

পূর্ব মেদিনীপুরের হলদিয়ার পরে সোমবার ঝাড়গ্রামে সভা ছিল প্রধানমন্ত্রীর। সেখান থেকেই তিনি বলেন, "বাংলায় সিন্ডিকেট আর গুন্ডামির রাজত্ব চলছে। সরকারি কর্মীরা ডিএ পান না, যুবকরা চাকরি পান না। সেই জন্যই এবার বাংলার মানুষ তৃণমূলকে দশটি আসনও জিততে দেবে না।"

তৃণমূলের বিরুদ্ধে ভোট লুটের অভিযোগও তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, বিজেপি কর্মীদের তো বটেই, বিজেপি-র প্রার্থীদেরও মারধর করছে তৃণমূল। মোদী দাবি করেন, তৃণমূলের অত্যাচার মানুষ আর সহ্য করবে না। পঞ্চায়েত নির্বাচনে ভোট না দিতে পারার জবাব এ বার তৃণমূলকে হারিয়ে মানুষ দেবেন বলে দাবি করেন প্রধানমন্ত্রী।

এর জবাব দিতে অবশ্য দেরি করেননি মমতা। কোতুলপুরে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে কটাক্ষ ছুড়ে দিয়ে বলেন, "‘‘তুমি দশটা পেলে হয়! তৃণমূল ৪২-এ ৪২ পাবে। নিজের কী হবে?" বাংলা বিজেপি-কে খালি হাতে ফেরাবে বলেই দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। ব্যঙ্গের সুরে তিনি বলেন, বাংলা থেকে বিজেপি গোল্লা পাবে। মমতা আরও বলেন, "আগে বলছিল তেইশটা পাবে, এখন বলছে তেত্রিশটা পাবে। এর পরে বলবে বিয়াল্লিশটাই পাবে। তার পরে বলবে ৫৪৩-এ ৫৪৩ টাই পাবে।" প্রধানমন্ত্রী চ্যালেঞ্জের সুরে তিনি বলেন, তাঁকে ধমকে-চমকে লাভ নেই. বিড়ালের গলায় ঘণ্টা তিনিই বাঁধবেন।