অবশেষে বাংলার বিধানসভা ভোটপর্ব মেটার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বৈঠকে বসলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়। বৃহস্পতিবার, পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলার কোভিড-১৯ পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য সমস্ত জেলা শাসকদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। সেই বৈঠকে রীতি ভেঙে অংশ নেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রীও। রীতি ভাঙার প্রশ্নটা আসছে, কারণ একেবারে ২০১৪ সাল থেকেই, প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে বৈঠক এড়িয়ে যাওয়ার ইতিহাস রয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের। সেই বৈঠক যত বড় জাতীয় স্বার্থেই হোক না কেন।

২০১৪ সালে, প্ল্যান প্যানেল কাঠামো গঠন নিয়ে আলোচনার জন্য সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক আহ্বান করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাতে অংশ নেননি।

২০১৫ সালের ১৫ জুলাই জমি অধিগ্রহণ আইনের খসড়া নিয়ে আলোচনার জন্য বৈঠক ডেকেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। জমি আন্দোলন করে ক্ষমতায় আসা মমতা, যোগ দেননি তাতেও।

২০১৯ সালে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর ডাকা দু-দুটি সভায় অংশ নেননি। প্রথমটি ছিল নীতি আয়োগের পরিচালন কমিটির বৈঠক। অপরটি ছিল 'এক দেশ, এক নির্বাচন', অর্থাৎ লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচন একসঙ্গে করা যায় কি না, সেই নিয়ে আলোচনার জন্য প্রধানমন্ত্রীর ডাকা বৈঠক।

২০২০ সাল, শুধু ভারত নয়, গোটা বিশ্বের জন্যই ছিল চ্যালেঞ্জিং সময়। কোভিড মহামারির তীব্র দাপটের মধ্যেও কিন্তু, মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় এই ধারা অব্যাহত রেখেছেন। করোনাভাইরাসের মোকাবিলা করার জন্য ভবিষ্যতে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া যায়, সেই বিষয়ে সমগ্র ভারতে একটি সাধারণ কৌশল গ্রহণের কথা ভাবা হয়েছিল। আর সেই কৌশল তৈরির জন্যই সমস্ত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক ডেকেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেই বৈঠকে একমাত্র যোগ দেননি বাংলার মুখ্যমন্ত্রী।

আরও পড়ুন - 'আমফান হয়ে উঠতেই পারে', এবার ঘূর্ণিঝড় যশ-কে নিয়ে চূড়ান্ত সতর্কবার্তা দিল IMD

আরও পড়ুন - চিনে ফের রহস্যময় ঘটনা ঘিরে আতঙ্ক - কোথাও ভূমিকম্প নই, তাও কাঁপছে গগনচুম্বী বহুতল, দেখুন

আরও পড়ুন - সাংবাদিকের গলা টিপে ধরলেন স্বাস্থ্যকর্তা, দুর্নীতি ফাঁস করতেই গ্রেফতার - উত্তাল ঢাকা

২০২১-এ ছিল বাংলার নির্বাচন। বছর ঘুরলেও করোনা থেকে মুক্তি মেলেনি। করোনার দ্বিতীয় তরঙ্গ সুনামি হয়ে আছড়ে পড়েছে ভারতে। চলতি বছরেও কোভিড পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির সঙ্গে প্রদানমন্ত্রী অন্তত ৩টি ভার্চুয়াল সভা করেছেন। নীতি আয়োগের একটি সভাও হয়েছে। কোনওটিতেই যোগ দেননি বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। কেন? মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় জানিয়েছিলেন, তিনি 'খেলা' অর্থাৎ নির্বাচনী প্রচারে ব্যস্ত ছিলেন।

এতদিন পর, অবশেষে মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে। তবে কি কেন্দ্রের সঙ্গে চূড়ান্ত অসহযোগিতার রাস্তা থেকে সরে আসছেন তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফেরা মমতা?