বিশ্বব্যাপী চলা করোনাভাইরাস মহামারি এবং ঘূর্ণিঝড় আমফানের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের সংকট বঙ্গবাসী যেভাবে মোকাবিলা করছে, তা বাংলার সংস্কৃতি এবং অদম্য মনোভাবকে তুলে ধরছে। শুক্রবার পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় টুইট করে এই কথাই বললেন। তাঁর লেখায় যেন অনেকটাই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ছাপ। কোভিড মহামারির পর থেকে যতবার টিভিতে মুখ দেখিয়েছেন কিংবা রেডিওটে মন কি বাত ঝেড়ে কেশেছেন, প্রত্যেকবারই তিনি বলেছেন দেশবাসীর সংকটের মোকাবিলার সক্ষমতা দেখে তিনি মুগ্ধ।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী। তাই দেশের কথা নয়, তিনি বললেন তাঁর রাজ্যের কথা। নাহলে নরেন্দ্র মোদীর ও তাঁর বয়ানটা মোটামুটি একই। তিনি বললেন এই জোড়া বিপর্যয়ের দূর্যোগ কাটিয়ে বাংলা আরও শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ হয়ে উঠবে বলে তিনি নিশ্চিত। এছাড়া রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে, মুখ্যমন্ত্রী ত্রাণকর্মী, পুলিশকর্মী এবং চিকিত্সাকর্মী এবং সুশীল সমাজের বিভিন্ন সংগঠনগুলিকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

তবে সরকারি কর্মীদের জন্য বড় আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। সাফ জানিয়ে দিয়েছেন সরকারী দফতরে কাউকে লেট বলে চিহ্নিত করা হবে না। বেসরকারী ক্ষেত্রে তিনি কর্মীদের যথাসম্ভব বাড়ি থেকে কাজ করার সুযোগ এবং রিপোর্টিংয়ের সময় শিথিল করার সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। কারণ পরিবহন নিয়ে ব্যপক সমস্যা রয়েছে। যারা রয়েছেন। বাসে অতিরিক্ত ভিড় এড়াতে অনুরোধ করেছেন তিনি। একরকম মেনে নিয়েছেন 'যটা সিট তটা লোক' নীতি চলছে না।

এর আগে অবশ্য তিনি '১০০ শতাংশ উপস্থিতি চাই' বলে ঘোষণা করে রাজ্যের কর্মীদের ভয় পাইয়ে দিয়েছিলেন। এই ক'দিন গাদাগাদি করেও বাসে ভ্রমণ করেছেন মানুষ, বাধ্য হয়েই, শখ করে নয়। এর থেকে সংক্রমণ অনিয়ন্ত্রিত পর্যায়ে চলে গেলে কী হবে?

মুখ্যমন্ত্রীর টুইটেই আছে উত্তর। বলেছেন 'আমাদের এখনও সতর্ক হওয়া দরকার। দয়া করে সামাজিক দূরত্বের বিধি মেনে চলুন এবং পুষ্টির কঠোর যত্ন নিন'। এছাড়া বলেছেন 'খুব দরকার হলে তবেই জনবহুল স্থানে যান, সর্বদা মাস্ক পরে থাকুন এবং নিরাপদে থাকুন'।

নরেন্দ্র মোদীও বলেছিলেন না হলুদ খান, মধু খান, অনাক্রম্যতা বাড়ান। দুই দলের দুই নেতানেত্রীর গলার সুরটাই কেমন একরকম শোনাচ্ছে। শুরুর দিকে নরেন্দ্র মোদী ২১ দিনের যুদ্ধর কথা বলছিলেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাস্তায় গোল চিহ্ন আঁকছিলেন। এখন দুজনের মুখেই নাগরিকদের মনোভাব ও দক্ষতার প্রশংসা। তাহলে কি সরকারের তরফে আর কিছুই করার নেই? তবে কি করোনা যুদ্ধে নাগরিকরা একা? 'অদম্য মনোভাব'টাই ভরসা?