কাশ্মীরি মেয়েদের নিয়ে 'অসংবেদনশীল' মন্তব্যের জন্য নাম না করে হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী মনোহর লাল খট্টরের সমালোচনা করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রসঙ্গত এ দিনই হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রীর কাশ্মীরি মেয়েদের নিয়ে করা একটি মন্তব্যের জেরে বিতর্ক শুরু হয়েছে গোটা দেশে। 

এ দিন হরিয়ানার ফতেবাদে একটি অনুষ্ঠানে রাজ্যে 'বেটি বচাও বেটি পড়াও' প্রকল্পের সাফল্য নিয়ে বক্তব্য রাখছিলেন খট্টার। সেখানেই ওই বিতর্কিত মন্তব্য করেন তিনি। হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'আপনারা কি জানেন যে একসময় হরিয়ানা কন্যাসন্তান হত্যার জন্য কুখ্যাত ছিল? কিন্তু আমরা এই নিয়ে সচেতনতামূলক প্রচারে নামায় এ রাজ্য লিঙ্গ বৈষম্য দূর হয়েছে। আগে প্রতি ১০০০ পুত্রসন্তান পিছু এ রাজ্যে ৮৫০টি কন্যাসন্তান জন্মগ্রহণ করত। কিন্তু আমাদের লাগাতার চেষ্টার পরে সংখ্যাটা বেড়ে ৯৩৩ হয়েছে। এটা একটা বড় বদল। এটা একটা বড় বদল। যে কেউ বুঝবেন যে পুরুষের অনুপাতে মহিলা কমে গেলে সংকট বাড়বে।' এর পরেই নিজের মন্ত্রিসভার এক সদস্যের নাম করে খট্টার বলেন, 'ও পি ধনখড় বলতেন যে এবার বিহার থেকে মেয়ে এনে আমাদের এখানে বিয়ে দিতে হবে (যেহেতু রাজ্য পুরুষদের অনুপাতে মেয়ের সংখ্যা কম)। কিন্তু এখন তো কাশ্মীরের দরজা খুলে গিয়েছে। তাই আমরা সেখান থেকে বিয়ে  করার জন্য মেয়েদের নিয়ে আসতে পারি। তবে মজা না করলেও এটা ঠিক, নারী- পুরুষ অনুপাত ঠিক থাকলে সমাজে ভারসাম্য থাকে।'

আরও পড়ুন- এবার কাশ্মীরের ফর্সা মেয়েদের বিয়ে করতে পারবেন! দলের কর্মীদের বললেন বিজেপি বিধায়ক

আরও পড়ুন- ৩৭০ প্রত্যাহারে কি সমর্থন, বিতর্কে না ঢুকে কৌশলী মমতা, দেখুন ভিডিও

খট্টারের এই মন্তব্য ঘিরেই বিতর্কের ঝড় ওঠে। নাম না করে হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রীর সমালোচনা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। টুইটারে তিনি লেখেন, 'আমরা যাঁরা বিশেষ করে প্রশাসনিক পদে রয়েছি, তাঁদের কাশ্মীরের বাসিন্দাদের প্রতি কোনওরকম অসংবেদনশীল মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকা উচিত। এগুলি শুধু জম্মু কাশ্মীরের মানুষই নয়, গোটা দেশকেই আঘাত করে।'

বিজেপি অবশ্য পরে খট্টারের মন্তব্য টুইট করে দাবি করে, শুধুমাত্র লিঙ্গ বৈষম্যের কথা বোঝানোর জন্যই ওই প্রসঙ্গের উল্লেখ করেছিলেন খট্টার। তাঁর মন্তব্যের অপব্যাখ্যা করা হচ্ছে বলেও দাবি বিজেপি-র। 

কয়েকদিন আগে ৩৭০ ধারা প্রত্যাহার নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে এমনই বিতর্কিত কথা বলেন উত্তরপ্রদেশের বিজেপি বিধায়ক বিক্রম সাইনি। তিনি বলেন, ৩৭০ ধারা প্রত্যাহার হওয়ায় এবার সহজেই কাশ্মীরি ফর্সা মেয়েদের বিয়ে করা যাবে।