একুশের নির্বাচনের আগে শুরু রাজনৈতিক তৎপরতা। বাঁকুড়া থেকেই কার্যত প্রচার শুরু করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়। বুধবার বাঁকুড়ার সভা থেকে বিরোধীদের একযোগে আক্রমণ করলেন তৃণমূল নেত্রী। বিজেপি-সিপিএম-কংগ্রেসকে একসারিতে দাঁড়িয়ে তীব্র কটাক্ষ করলেন মুখ্যমন্ত্রী। সিপিএম লোভি-বিজেপি ভোগী বলে কটাক্ষ করলেন মুখ্যমন্ত্রী। একইসঙ্গে তৃণমূলকে ত্যাগী হওয়ার পরামর্শ দিলেন মমতা। গোমূত্র নিয়ে দিলীপ ঘোষকেও নিশানা করলেন মুখ্যমন্ত্রী। বাঁকুড়া সুনুকপাহারিতে জনসভায় কেন্দ্রীয় সরকারের তীব্র সমালচোনা করলেন মমতা। পাশাপাশি, আগামী একুশের নির্বাচনে সাধারণ মানুষকে তৃণমূল কংগ্রেসকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান মমতা।

আরও পড়ুন-বিজেপির সভায় যেতে বাধা তৃণমূলের, উত্তপ্ত বোলপুর-সাঁইথিয়া, বাস ভাঙচুর-গুলিবিদ্ধ এক বিজেপি কর্মী

বাঁকুড়া তে এসে বিজেপির প্রাক্তন সর্বভারতীয় সভাপতি তথা দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দাবি করেছিলেন আগামী বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গ থেকে 200 আসন পাবে রাজ্য বিজেপি। সেই বাঁকুড়াতে দাঁড়িয়েই পাল্টা হুঁশিয়ারি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বললেন, বাঁকুড়ায় আবার নির্বাচিত হবে তৃণমূল। আগামী দিনে তৃণমূল কংগ্রেস আবার সরকার গঠন করবে। কেবল তাই নয়, বিজেপিকে যোগ্য জবাব দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বললেন, 'নির্বাচনের খেলা এত সহজ নয়'। তৃণমূল সুপ্রিমো বলেন, 'আগামী দিনে তাকে যদি জেলে পাঠিয়ে দেওয়া হয় তাহলে সেখান থেকে নির্বাচনী লড়াই করবেন এবং জয় যুক্ত হবেন''। 

আরও পড়ুন-লোকসভায় বাঁকুড়ায় খারাপ ফল তৃণমূলের, পুরুদ্ধারের চেষ্টায় উন্নয়নে আরও জোর মুখ্যমন্ত্রীর

প্রসঙ্গত, বাঁকুড়া জেলার সুনুকপাহারিতে রাজনৈতিক জনসভায় করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বলা ভালো একুশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে এটাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম রাজনৈতিক জনসভায়। সেই জনসভা থেকে বিজেপিকে তুলোধোনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী। সঙ্গে কড়া সমালোচনা করলেন কংগ্রেস এবং সিপিআইএম এর। বিজেপি টাকা দিয়ে ভোট কিনতে পারে বলে ফের তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী সমর্থকদের সতর্ক করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।  সঙ্গে তার পরামর্শ, ''টাকা দিলে সেই টাকা নিয়ে নিন, এই টাকা আপনাদের। তবে বিজেপিকে একটিও ভোট দেবেন না''। বিজেপিকে সিপিআইএমের বি টিম বলে কটাক্ষ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ''বাংলায় শান্তি ফিরে এসেছেন সেই শান্তি বিঘ্নিত করতে এসেছে বিজেপি। বন্যা খরা কিংবা করোনাভাইরাস এর সময় বিজেপিকে রাস্তায় দেখা যায়নি। নির্বাচন আসতেই টাকার থলি নিয়ে রাস্তায় নেমে পড়েছে তাঁরা''।