২০১৯ লোকসভা নির্বাচনে বাঁকুড়ায় খারাপ ফল হয়েছে তৃণমূলের। দুটি লোকসভা নির্বাচনেই হার হয়েছে। লোকসভা নির্বাচন এর ফলাফল বিধানসভা ভিত্তিক দেখলে বিজেপি সঙ্গে লড়াইয়ে অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। আদিবাসী অধ্যুষিত এই জেলায় আগামী বিধানসভা নির্বাচনের আগে নিজেদের শক্তি পুনরুদ্ধার করতে মরিয়া তৃণমূল কংগ্রেস। জেলা সফরে এসে দলের জেলা সভাপতি তথা রাজ্যের মন্ত্রী শ্যামল সাঁতারকে সেই নির্দেশ দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জেলার উন্নয়নের প্রসঙ্গ তুলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, শেষ নয় বছরে বাঁকুড়া জেলায় অনেক উন্নয়ন হয়েছে। আগে ভোট দিন তারপর বাকি উন্নয়নের কাজ হবে। সরাসরি না বললেও ভোটের জন্য দলের নেতা - জনপ্রতিনিধিদের প্রস্তুতি থাকতে বললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। 

আরও পড়ুন-দিলীপ ঘোষের নিশানায় এবার ছত্রধর মাহাতো, 'ছত্রধরকে বোকা বানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী'

বাঁকুড়ায় এদিনের প্রশাসনিক বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বারবার বলতে শোনা গেছে এই সরকার এর আমলে রাজ্যে কি কি উন্নয়ন হয়েছে সেই বিষয়ে। পানীয় জলের সমস্যা বাঁকুড়া জেলায় দীর্ঘদিনের, সেই সমস্যার সমাধান করা হয়েছে বলে এ দিন জানান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একইসঙ্গে তিনি বলেন. ''শুধুমাত্র বাঁকুড়া জেলাতে ৫ হাজার কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে''। শিল্পের ক্ষেত্রে আগামী দিনে বাঁকুড়া জেলায় প্রভূত সম্ভাবনা রয়েছে বলে দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পর্যটন ক্ষেত্রের প্রসঙ্গ তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন বাঁকুড়া জেলায় পর্যটন ক্ষেত্রে উন্নয়নের আরো অনেক সুযোগ রয়েছে আমাদের সেই বিষয়ে আরো উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে বলেও জানান তিনি। 

আরও পড়ুন-শুভেন্দুর সঙ্গে একমঞ্চে থাকার 'খেসারত',এবার দলীয় কোপে পড়লেন পুরুলিয়ার প্রাক্তন সভাধিপতি

শেষ নয় বছরের বাঁকুড়া জেলায় যা যা উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে সেই সম্পর্কে মন্তব্য করার পাশাপাশি এদিন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলার সময় মুখ্যমন্ত্রী জানতে পারেন বাঁকুড়া স্টেশন এর পাশে রেলের জমিতে থাকা বস্তিবাসীদের উঠিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এই অভিযোগ পাওয়ার পর দলের নেতৃত্বকে সেখানে যাওয়ার পরামর্শ দেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন রেলের জমিতে থাকা মানুষদের পুনর্বাসনে ব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত তাদের উচ্ছেদ করা যাবে না। প্রয়োজনে রেলের সঙ্গে কথা বলা হবে বলেও জানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাঁকুড়ায় লোকসভা নির্বাচনের খারাপ ফল ঝেড়ে ফেলে বিধানসভা নির্বাচনে ঘুরে দাঁড়াতে চাইছে তৃণমূল। তবে তা কতটা সম্ভব হবে তা নিয়ে সন্দিহান তৃণমূল কংগ্রেসের একটা বড় অংশ।