সেলফি তোলার নাম করে কিশোরীকে নদীতে ফেলে দিল প্রেমিকই! এখনও পর্যন্ত তার খোঁজ মেলেনি। ভাগীরথ নদীতে ডুবুরি নামিয়ে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ। মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে মুর্শিদাবাদের নশিপুরের নশিপুর-আজিমগঞ্জ রেল ব্রিজের কাছে। ওই যুবকের বিরুদ্ধে মুর্শিদাবাদ থানায় খুনের চেষ্টার অভিযোগ দায়ের করেছেন নিখোঁজ কিশোরীর পরিবারের লোকেরা। 

নিখোঁজ কিশোরীর নাম পায়েল দাস। বাড়ি, মুর্শিদাবাদ থানা এলাকায় পুটিয়াপাড়ায়। স্থানীয় একটি স্কুলের দশম শ্রেণিতে পড়ে পায়েল। এবছরই মাধ্যমিক পরীক্ষা দেওয়ার কথা তার। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, রাজকুমার নামে এলাকারই একটি ছেলের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল পায়েলের। কিন্তু ইদানিং তাদের সম্পর্ক ভালো যাচ্ছিল না, দু'জনের মধ্যে মনোমালিন্য চলছিল। আর এই টানাপোড়ন থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্যই পায়েলকে খুন করার ছক কষে রাজকুমার। অভিযোগ তেমনই।

আরও পড়ুন: চাদর কিনতে গিয়ে নিখোঁজ, কুমারগঞ্জে নৃশংস পরিণতি মহিলার

জানা গিয়েছে, সোমবার সকালে সেলফি তোলার প্রলোভন দেখিয়ে পায়েলকে ভাগীরথী নদীর উপর নশিপুর-আজিমগঞ্জ রেলব্রিজে নিয়ে যায় রাজকুমার। রেলব্রিজের উপর ওই কিশোরী যখন সেলফি তোলায় মগ্ন, তখন প্রেমিকই তাকে ব্রিজ থেকে  সোজা নদীতে ছুঁড়ে ফেলে দেয় বলে অভিযোগ।  ঘটনার পর রাজকুমারকে এলাকা ছেড়ে যেতে দেখে সন্দেহ হয় স্থানীয় বাসিন্দাদের। অভিযুক্তকে তাঁরা আটকানোরও চেষ্টা করেন বলে জানা গিয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, নিজেকে পায়েলের আত্মীয় বলে পরিচয় দেয় রাজকুমার এবং তাঁদের চোখে ধুলো দিয়ে পালিয়েও যায়।  এদিকে খবর পাওয়ামাত্রই ঘটনাস্থলে হাজির হয় মুর্শিদাবাদ থানার পুলিশ। ভাগীরথী নদীতে ডুবুরি নামিয়ে যুদ্ধকালীন তৎপরতা শুরু হয় তল্লাশি অভিযান। তবে এখনও পর্যন্ত পায়েল দাসের খোঁজ মেলেনি বলে জানা গিয়েছে। অভিযুক্ত রাজকুমারের কঠোর শাস্তির দাবি তুলেছেন নিখোঁজ কিশোরীর পরিবারের লোকেরা।