মায়ের মৃত্যুশোকেই কি আত্মঘাতী ছেলে? বাড়ি থেকে জোড়া মৃতদেহ উদ্ধার পুলিশের ঘটনাটি ঘটেছে হুগলির বলাগড়ে তদন্তে নেমেছে পুলিশ

উত্তম দত্ত, হুগলি: 'পরমাত্মার সঙ্গে মিলিত হতে চললাম।' মায়ের মৃত্যুশোকে কীটনাশক খেয়ে আত্মঘাতী ছেলেও! বাড়ি থেকে জোড়া মৃতদেহ উদ্ধার করল পুলিশ। মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে হুগলির বলাগড়ে।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

আরও পড়ুন: হাসপাতালে প্রেম, বিয়ের সপ্তাহ ঘুরতে না ঘুরতেই বিচ্ছেদ দম্পতির

দোতলা একটি বাড়ি ভাড়া নিয়েছিলেন। বলাগড়ের চাতরা গ্রামে একমাত্র ছেলে শাশ্বতের সঙ্গে থাকতেন বছর ষাটেকের শাশ্বতী চট্টোপাধ্যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, বছর কয়েক আগে তাঁর স্বামী প্রয়াত হন। তিনি যথেষ্ট অবস্থাপন্ন ছিলেন। জমানো টাকাতে সংসার চলত। শাশ্বত তেমন কিছু করতেন না। তবে ইদানি পুজোপাঠের প্রতি ঝোক বেড়েছিল তাঁর। মঙ্গলবার সকাল থেকে মা-ছেলের কোনও সাড়াশব্দ পাওয়া যাচ্ছিল না। কী ব্যাপার? সন্দেহ হওয়ার থানায় খবর দেন প্রতিবেশীরা। বাড়ি থেকে জোড়া মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বাড়ির একতলায় শোওয়ার ঘরে পড়েছিল শাশ্বতদেবীর মৃতদেহ। আর তাঁর ছেলের দেহ পাওয়া যায় উঠোনে। দেহের কাছেই ছিল সুইসাইড নোট ও কীটনাশকের বোতল। মুখ দিয়ে গ্যাঁজলাও বেরোচ্ছিল। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, মায়ের মৃত্যুশোক সহ্য করতে না পেরেই কীটনাশক খেয়ে আত্মহত্যা করেছেন বছর তিরিশের ওই যুবক। মৃতদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে পুলিশ।

আরও পড়ুন: কিশোরীকে খুন ও ধর্ষণ, বর্ধমানের 'চেন কিলার'-কে মৃত্যদণ্ড দিল আদালত

ছেলে না হয় আত্মহত্যা করেছেন। কিন্ত শাশ্বতীদেবী মারা গেলেন কী করে? প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরেই নানা অসুখে ভুগছিলেন ওই প্রৌঢ়া। সূত্রের খবর, সুইসাইড নোটে মৃতার ছেলে নাকি লিখে গিয়েছেন, 'আপনারা এটাকে আত্মহত্যা বললেও, আমি একমত নই। আমি পরমাত্মার সঙ্গে মিলিত হতে চললাম।' ময়নাতদন্তে রিপোর্টেই মা-ছেলের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।