পুজোর সময় হাতের কাজ করেন দক্ষিণ দিনাজপুরের বহু মহিলা পুজো মণ্ডপের ছোট ছোট নকশা তৈরি করেন তাঁরা কেনাকাটা থেকে হাতখরচা, পুজোর কাজ করেই উপার্জন করেন অনেকে

সাবেকী পুজো মণ্ডপ তৈরির ক্ষেত্রে পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথির মতোই মতোই দারুণ সুনাম রয়েছে দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাটের। দুর্গা পুজো থেকে শুরু করে কালী পুজো বা জগদ্ধাত্রী পুজো, বালুরঘাটের নামী ডেকরেটর্সদের মণ্ডপসজ্জার কদর গোটা রাজ্যেই রয়েছে। 

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

আর এই মণ্ডপসজ্জার নেপথ্যেই একটা বড় ভূমিকা পালন করেন এই জেলার মহিলা এবং যুবতীরা। মণ্ডপসজ্জায় সরাসরি অংশ না নিলেও মণ্ডপের সাজানোর কাজে ব্যবহৃত ছোট ছোট নকশাগুলি তাঁরাই তৈরি করেন। তাই পুজোর কয়েকমাস আগে থেকেই ব্যস্ত হয়ে পড়েন জেলার বহু গৃহবধূ এবং যুবতীরা। মণ্ডপসজ্জার জন্য হাতের কাজ করেই পুজোর সময় কিছু বাড়তি উপার্জন হয় তাঁদের। যা দিয়ে পুজোর কেনাকাটা এবং প্রিয়জনের জন্য উপহারও কেনেন অনেকে।

আরও পড়ুন- রমাপদর বারো হাজার পদ্মে পূজিত হবেন বিদেশের দুর্গারা

আরও পড়ুন- ভূকৈলাস রাজবাড়িতে আজও মা অধিষ্ঠান করেছেন পতিতপাবনী দুর্গা রূপে

সারা বছর গৃহবধূ ও যুবতীরা সেভাবে হাতের কাজ করার সুযোগ না পেলেও পুজো এগিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে ডাক পান তাঁরা। বালুরঘাট শহরের নামী ডেকরেটর্সই দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা এবং তার বাইরেও অনেক জায়গা থেকেই পুজো মণ্ডপ তৈরির বরাত পায়। মণ্ডপের নকশা অনুযায়ী মহিলাদের দিয়ে হাতের কাজ করানো হয়। অন্তত শতাধিক মহিলা এই কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকেন। এই কাজ করে ভালই অর্থ উপার্জন করেন মহিলারা। 

বালুরঘাটের গৃহবধূ হস্তশিল্পী রিঙ্কি দে সরকার জানান, 'দুর্গা পুজোর দিকে তাকিয়েই বসে থাকেন আমাদের পাড়ার মহিলারা। সংসারের কাজ শেষ করে বাকি সময়ে মণ্ডপসজ্জার ডিজাইনের কাজ করি। সারা বছর কাজের সুযোগ না থাকলেও পুজোর দুটো মাস দিন রাত পরিশ্রম করে সুক্ষ ডিজাইনের কাজ করি। ডিজাইন কি করতে হবে ডেকরটর্স থেকেই আমাদের বলে দেয়।'

পুঁথি, ভেলভেট, চুমকি, রং বেরংয়ের কাগজ, কাঠের চামচ,ছোট আয়ন ,সামুদ্রিক ঝিনুক, ছোট শঙ্খ দিয়ে নানা ধরনের ডিজাইন তৈরি করেন মহিলারা। এ ছাড়াও পুজো মণ্ডপের থিম অনুযায়ী নকশা করা হয়। যাঁরা কাজ করেন তাঁরাই বলছেন, এই কাজ করে অন্তত পুজোর কেনাকাটা-সহ হাতখরচার টাকা উঠে যায় তাঁদের। তাই সবাই মিলে আনন্দ করেই হাতের কাজ করেন গৃহবধূ এবং মহিলারা।