আশিষ মণ্ডল, বীরভূম: খাবার দেওয়া হচ্ছে না, ব্যবস্থা নেই পানীয় জলেরও। কোয়ারেন্টাইনে সেন্টারে দিন কাটছে অর্ধাহারে। প্রশাসনের ভূমিকায় ক্ষোভ বাড়ছে পরিযায়ী শ্রমিকদের।

আরও পড়ুন: হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা নিয়ে বচসা, পরিযায়ী শ্রমিকের মারে মৃত্যু প্রতিবাদীর

কেউ কাজ করতেন মুম্বই-এ, তো কেউ আবার দিল্লিতে। লকডাউনে বাজারে নিজের জেলায় ফিরে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন বীরভূমের ছ'জন পরিয়াযী শ্রমিক। তাঁদের সকলকেই সরকারি ব্যবস্থাপনায় কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে নলহাটি বিবেকানন্দ বিদ্যাপীঠ স্কুলের তিনটি ঘরে। কিন্তু খাবার তো দূর অস্ত, কোয়ারেন্টাইনে সেন্টারে পানীয় জলও পাওয়া যাচ্ছে না! প্রশাসনকে জানিয়েও সমস্যার সুরাহা হয়নি বলে অভিযোগ।

বীরভূমের নলহাটিরই বাসিন্দা সুনাল মুখোপাধ্যায়। মুম্বই-এ একটি সোনার দোকানে কাজ করতেন তিনি। বাস ভাড়া করে ফিরেছেন শনিবার। সেদিনই ট্রেনে করে এসেছেন শুভ্র চন্দ্র ধর নামে আরও একজন। দিল্লি থেকে যিনি ফিরেছেন, সেই শ্রীকুমার শর্মাকে প্রথমে রাখা হয়েছিল লাভপুরের শম্ভুনাথ কলেজে। এখন সকলেরই ঠিকানা নলহাটি বিবেকানন্দ বিদ্যাপীঠ স্কুলের সরকারি কোয়ারেন্টাইন সেন্টার।

আরও পড়ুন: করোনার আতঙ্ক কাড়ল প্রাণ, গ্রামে ঢুকতে না পেরে বেঘোরে মৃত্যু পরিযায়ী শ্রমিকের

পরিযায়ী শ্রমিকদের অভিযোগ, যে ঘরে তাঁদের থাকতে দেওয়া হয়েছে, তা অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর। ফ্যান থাকলেও চলে না, মশার উপদ্রবে ঠেকা যায় না। তার উপর তিনদিন ধরে খাবার কিংবা জল কিছুই পাওয়া যাচ্ছে না। ভুক্তভোগীদের আক্ষেপ, 'পেটের দায়ে বাইরে কাজ করতে গিয়েছিলাম। কিন্তু নিজের এলাকায় ফিরে যে এমন দুর্ভোগ পোহাতে হবে, ভাবতে পারিনি। প্রশাসনের তরফে হয় খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা করা হোক, নয়তো আমাদের বাড়ি ফেরত পাঠিয়ে দিক।'  নলহাটি ১ নম্বর ব্লকের বিডিও-র সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা যায়নি। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন জয়েন্ট বিডিও অরিন্দম মুখোপাধ্যায়।