শাজাহান আলি, পশ্চিম মেদিনীপুর: কেউ পঁচিশ বছর, কেউ বা আরও বেশি দেনি ধরে দুধ নিয়ে কারবার করছেন। দিন রাত গরুদের নিয়েই কাটাচ্ছেন। লিটার লিটার দুধ দোয়াচ্ছেন রোজ। কিন্তু তা বলে দুধের মধ্যে কোনওদিন সোনার খোঁজ পেয়েছেন?

প্রশ্ন শুনেই মুচকি হাসেন মেদিনীপুর শহরের আবাস এলাকার গোয়ালাপাড়ার বাসিন্দা দলজিৎ গোপ। মুখে বাঁকা হাসি নিয়েই পাল্টা প্রশ্ন করে বলেন, 'সোনা, কীসের সোনা? সোনা কোনওদিন পাওয়া যায়?' পঁচিশ বছর ধরে গরুদের সঙ্গে ঘর করা দলজিৎ গোপকে মনে করানো হল, তাঁদের এলাকার সাংসদই জোর গলায় বলেছেন, গরুর দুধে সোনা থাকে। এ কথা শুনেই বাড়ির অন্যান্যদের দিকে তাকিয়ে দলজিতের জবাব, 'অত সোনা পেলে তো বড়লোক হয়ে যেতাম। কী বলো!'

মেদিনীপুরের সাংসদ এবং রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষের দুধে সোনা পাওয়ার তত্ত্ব এখন নেট দুনিয়ায় ভাইরাল। সে খবর পৌঁছে গিয়েছে মেদিনীপুর শহরে ছড়িয় ছিঁটিয়ে থাকা গোয়ালাপাড়াগুলিতেও। নিজেদের এলাকার সাংসদ দিলীপবাবুর কথা শুনে নেট দুনিয়ার মতোই হাসছেন দলজিৎ গোপ, কুন্দন গোপরাও। অধিকাংশই পূর্ব পুরুষদের আমল থেকে দুধের কারবারের সঙ্গে যুক্ত। মজা করেই তাঁরা কেউ কেউ বলছেন, 'এত বছরে কী তাহলে লিটার লিটার গলা সোনা সস্তায় বেচে দিলাম!'

আরও পড়ুন- সোনা থাকে বলে গরুর দুধ হলদে, শুনুন দিলীপ ঘোষের তত্ত্ব, দেখুন ভিডিও

সোনার তত্ত্ব দূরে সরিয়ে খাঁটি বাস্তবের হিসেব দিচ্ছেন দলজিৎ গোপরা। দলজিৎ গোপের বাড়িতে দশটি গরু রয়েছে। কিন্তু তাতে ভাগ রয়েছে পরিবারের অন্য শরিকদেরও। দলজিতের হিসেব অনুযায়ী, দশটি গরু মিলিয়ে দিনে গড়ে একশো লিটার মতো দুধ দেয়। লিটার পিছু সেই দুধ পয়ত্রিশ টাকায় বিক্রি করেন তাঁরা। সেই হিসেবে দশটি গরুর দুধ বেচে মাসে এক লক্ষ টাকার মতো আয় হয়। কিন্তু তার মধ্যে থেকে চল্লিশ থেকে পঞ্চাশ শতাংশ টাকাই গরুর খাবার, রক্ষণাবেক্ষণ, ওষুধ, টিকাকরণের পিছনে বেরিয়ে যায় বলে দাবি ওই প্রৌঢ়ের। বাকি লভ্যাংশ শরিকদের মধ্যে ভাগ হয়ে যায়। দুধের ব্যবসার পাশাপাশি তাই সংসার চালাতে অন্য কাজও করতে হয় পরিবারের সদস্যদের। 

দিলীপবাবুর কথা শুনে অবশ্য রেগেও যাচ্ছেন গোয়ালাপাড়ার কেউ কেউ। যেমন কুন্দন গোপ নামে আরও একজন বললেন, 'এগুলো কাণ্ডজ্ঞানহীন কথা। গরুর দুধ, গোবরের একটা মূল্য আছে, তাই বলে সোনা? কই এত বছরে তো আমরা খুঁজে পেলাম না!'

যে যাই বলুন না কেন, এখনও নিজের তত্ত্বে অনড় দিলীপবাবু। বুধবারও খড়্গপুরে নিজের দাবিতে তিনি বলেন, 'যাঁরা বিজ্ঞান বোঝেন না, তাঁরাই চেঁচামেচি করছেন। আমি যা বলেছি, ভেবেচিন্তে বলেছি। যাঁরা গরুর মাংস খান, তাঁরা কী করে গরুর মর্ম বুঝবেন?'