তাপসী চক্রবর্তী, বালুরঘাট: রক্তাক্ত পায়ে পরিযায়ী শ্রমিকদের দীর্ঘপথ হেঁটে যাওয়ার ছবি এখন গা-সওয়া গিয়েছে আমাদের। কিন্তু তাই বলে, বাড়ি ফেরার পর নিজের পাড়ায় প্রতিবেশীর হাতে লাঞ্চনার শিকার হতে হবে, এ বোধহয় স্বপ্নেও ভাবা যায়নি।

 সম্প্রতি দক্ষিণ দিনাজপুরে এমনটাই ঘটেছে বলে আক্রান্তদের অভিযোগ। জানা গিয়েছে, তপন থানার চক ভগীরথে, জেলা কংগ্রেসের উদ্য়োগে একটি বাসে করে ৪৭জন শ্রমিককে  ঝাড়খণ্ড থেকে ফিরিয়ে আনা হয়। সেই গাড়িতেই  জেলায় ফেরেন ছত্তিশগড়ের রায়পুরে আটকে থাকা শ্রমিক সুবীর ঘোষ। ফিরে আসার পর খাসপুর স্বাস্থ্য়কেন্দ্রে তাঁদের পরীক্ষা করে হোম কোয়ারেনটাইনে যেতে বলা হয়। বাড়ির পাশেই একটি নবনির্মিত বাড়িতে তিনি একাই থাকবেন, এমনটাই ঠিক করা হয়। পরিবারের অভিযোগ, এরপরই সোমবার রাতে কিছু লোক তাঁদের বাড়িতে চড়াও হয়। তাঁদের বাড়ির জলের লাইন কেটে দেয় ও বিদ্য়ুৎ সংযোগের তার ছিঁড়ে দেয় তারা। তারা দাবি করে, পাড়ায় কোথাও রাখা যাবে না সুবীরবাবুকে। বাড়ির লোক এর তীব্র প্রতিবাদ করেন। শুরু হয় বচসা। বচসা চলাকালীন তারা লাঠি মেরে সুবীরবাবুর দাদা সুব্রত ঘোষের মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।

এরপর তপন থানায় দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়। এখনও পর্যন্ত কাউকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়নি। এদিকে এই ঘটনায় রীতিমতো উদ্বিগ্ন জেলা প্রশাসন। বাড়ি ফিরে আসার পরও এইভাবে যদি পরিযায়ী শ্রমিকদের এমন হেনস্তার শিকার হতে হয়, তাহলে রীতিমতো লজ্জার বলে মনে করছেন এলাকার শুভবুদ্ধিসম্পন্ন  নাগরিকেরা। শুধু সুবীর ঘোষকেই নয়, প্রায় এমনই এক লাঞ্ছনার শিকার হতে হয়েছে কৃষ্ণ কুজুর নামে এক পরিযায়ী শ্রমিককেও। তিনি মুম্বাই থেকে আরও অনেকের সঙ্গে বাস  ভাড়া করে ক-দিন আগে জেলায় এসে পৌঁছন। স্বাস্থ্য়কেন্দ্রে পরীক্ষার পর তাঁকেও হোম কোয়ারিনটাইনে পাঠানো হয়। অথচ বাড়িতে এলেই পরিবারের ওপর কার্যত চড়াও হন প্রতিবেশীরা। ফলত তাঁকে বাড়ির লাগোয়া এক জঙ্গলে দিন কাটাতে হচ্ছে তাঁকে তিনদিন ধরে।