করোনাভাইরাস নিয়ে মালদহে পরিস্থিতি যে জটিল তা আরও পরিস্কার হল। কারণ, নতুন করে এই জেলায় ৬ জন করোনা আক্রান্তের হদিস মিলেছে। এদের মধ্যে একজন হরিশ্চন্দ্রপুরের। বাকি ৫ জন মালদহের গৌড় কন্যা বাসস্ট্যান্ডের। হরিশ্চন্দ্রপুরে গত চারদিনে ১০ জন আক্রান্তের খোঁজ মিলেছিল। এবার সেই তালিকায় আরও একজন সংযোজিত হল। ফলে মোট আক্রান্তের সংখ্যা শুধু হরিশ্চন্দ্রপুরে ১১। গৌড়কন্যা বাসস্ট্যান্ড থেকে যে সোয়াব টেস্ট করা হয়েছিল তা থেকেই ৫ জনের নমুনার ফল পজিটিভ এসেছে। জানা গিয়েছে আক্রান্তরা সকলেই পরিযায়ী শ্রমিক। 

আরও পড়ুন- দিল্লি থেকে অটো-ওলা-উবার করে হরিশ্চন্দ্রপুরে পরিযায়ী শ্রমিকরা, আতঙ্কে তটস্থ মানুষ

আক্রান্তদের বয়স ২০ থেকে ৩৮ বছরের মধ্যে। জানা গিয়েছে আক্রান্তদের মধ্যে একজনের বাড়ি হরিশ্চন্দ্রপুরের লক্ষীপুরে। একজনের বাড়ি হাবিবপুরের নাঙভারতে, একজনের বাড়ি মানিকচকের মানিকগড়ে, একজন রয়েছেন পুরাতন মালদহের জলঙ্গ এলাকা থেকে, আরও একজনও পুরাতন মালদহের। তার বাড়ি বোরাতলি-তে, বাকি একজনের বাড়ি কালিয়াচকের মোরারিচন্দ্রপুরে।  

আরও পড়ুন- আতঙ্ক বাড়িয়ে মালদহে বাড়ল কনটেইনমেন্ট জোনের সংখ্যা, ৪৮ ঘণ্টায় আক্রান্ত ১১

গত কয়েক দিন ধরেই মালদহের করোনা আক্রান্তের ছবিতে অনেকটাই বদল ঘটেছে। শূন্য করোনা আক্রান্ত থেকে এই জেলায় এখন করোনা রোগীর সংখ্যা ১৯। এরমধ্যে একজন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। করোনাভাইরাসের জেরে যে লকডাউন শুরু হয়েছিল তাতে দ্বিতীয় দফার লকডাউনের শেষভাগে গিয়ে মালদহে করোনা আক্রান্ত রোগীর হদিস মেলে। এর আগে আপতকালীন পরিস্থিতিতে মালদহে একাধিক কোয়ারান্টাইন সেন্টার তৈরি রাখা হয়েছিল। এমনকী নমুনা পরীক্ষার কিটও মজুত করা হয়েছিল মালদহ মেডিক্যাল কলেজে। যখন মালদাবাসী এবং খোদ স্বাস্থ্য দফতরও মনে করছিল,যে মালদহ হয়তো রাজ্যের করোনা শূন্য জেলার তালিকাতেই থেকে যাবে। সেই মুহূর্তেই ধাক্কা। কারণ, বাসে করে নিয়ে আসা পরিযায়ী শ্রমিকদের তিন জনের শরীরে করোনার জীবাণু মেলে। এরপরও কেটে গিয়েছিল অনেকগুলো দিন। যে সব পরিযায়ী শ্রমিকরা বাইরে থেকে জেলায় এসেছিল তাদের কোয়ারান্টাইনের সময়ও ১৪ দিন পার হওয়ার পথে ছিল। এবারও মনে করা হচ্ছিল যে হয়তো আপাতত ৩ সংখ্যাতেই আটকে থাকবে মালদহের করোনা আক্রান্তের তালিকাটা। 

আরও পড়ুন-মালদহে রেশন 'পাচারের চেষ্টা' বানচাল, পিকঅ্যাপ ভ্যানে মিলল চাল ও আটা

ফের ধাক্কা। কারণ, শ্রমিক স্পেশাল ট্রেনের দৌলতে রাজ্যে ফেরা পরিযায়ী শ্রমিক এবং কিছু তীর্থযাত্রীর সোয়াব টেস্টের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১০ জনের শরীরে করোনার জীবাণু মেলে। এরপর থেকেই একটা আতঙ্ক গ্রাস করেছে জেলাবাসীকে। তৃতীয় দফার লকডাউন শুরুর আগে মালদহকে রেড জোনে রাখা নিয়ে বেশ ভালোরকম-ই বিতর্ক হয়েছিল। কারণ, মালদহ শহরের বসবাসকারীদের অধিকাংশেরই দাবি ছিল, যেখানে ততদিন পর্যন্ত ৩ জন করোনা আক্রান্তকে পাওয়া গিয়েছে এবং যারা মানিকচক ও রতুয়ার বাসিন্দা-তাদের জন্য মালদহ শহরকে রেড জোনে রাখা কেন। কিন্তু, পরিস্থিতি যে আরও খারাপ হতে পারে তা হয়তো আন্দাজ করতে পেরেছিলেন জেলা-র স্বাস্থ্য ও প্রশাসন এবং পুলিশ মহল। কারণ ততদিনে আরও পরিযায়ী শ্রমিককে জেলায় ফেরানোর প্রাথমিক তৎপরতা রাজ্যের তরফে শুরু হয়ে গিয়েছিল। সন্দেহ ছিল না এই পরিযায়ী শ্রমিকদের মধ্যে একটা বড় অংশ মালদহে আসবে। জেলা প্রশাসনস, স্বাস্থ্য দফতর এবং পুলিশের এই অনুমান যে অমূলক ছিল না তা এখন প্রমাণিত। আগামীদিনে এই সংখ্যাটা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে সেটাই এখন দেখার। তবে, আপাতত মালদহবাসীকে আরও সচেতন হতে হবে। বাইরে বের হওয়া থেকে সোশ্যাল ডিস্ট্যান্সিং নিয়মকে যথাযথবাবে পালন করেই চলতে হবে বলে মনে করছেন জেলার স্বাস্থ্যকর্মীরা।